এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > হেভিওয়েট তৃনমূল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ! পাল্টা দিলেন মন্ত্রীমশাইও

হেভিওয়েট তৃনমূল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ! পাল্টা দিলেন মন্ত্রীমশাইও

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বামফ্রন্ট বনাম তৃণমূলের লড়াই অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকে শুরু করে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে পরিমাণ পাল্টে গেছে, তাতে একদিকে যেমন রাজ্যের প্রধান বিরোধীদলের জায়গা দখল করে নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি, অন্যদিকে তেমনই কার্যত অস্তিত্ব সংকটে ভুগতে হচ্ছে রাজ্যের বাম শিবিরকে।

এমনকি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ছবি থেকে বাম-তৃণমূলের সংঘাতের দৃশ্য কার্যত পিসি সরকারের ম্যাজিকের মত ভ্যানিশ হয়ে গেছে। কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতেও শিলিগুড়িতে মেয়র অশোক ভট্টাচার্য এবং পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবের রাজনৈতিক সংঘাত বাঙালিকে কিছুটা তৃণমূল বনাম সিপিএমের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নস্টালজিয়াকে জাগিয়ে তুলল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবের সঙ্গে শিলিগুড়ি পৌরসভার মেয়র অশোক ভট্টাচার্যর দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। কিন্তু সম্প্রতি পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবের বিরুদ্ধে অনেকটাই সুর চড়িয়ে তাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে শিলিগুড়ি পৌরসভা। এদিন এই ব্যাপারে রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেয়র অশোক ভট্টাচার্য জানান, সংবিধানকে অমান্য করে পৌরসভাকে এড়িয়ে শিলিগুড়িতে সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। তাই এখন থেকে পর্যটনমন্ত্রীর ডাকা কোনো বৈঠকে যোগ দেবে না পৌরসভা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অশোকবাবু বলেন, এব্যাপারে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ি পৌরসভার মেয়র অশোকবাবু আরও জানান, পর্যটন মন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ ও গুন্ডারা থাকছে। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ তথা রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তৃণমূল নেতা গৌতম দেব অশোকবাবুর অভিযোগের পাল্টা মন্তব্য করতে ছাড়েননি। এদিন তিনি বলেন, “নিয়ম মেনেই শহরের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম হচ্ছে।”

মেয়রকে ভাষা প্রয়োগ সংযত করার উপদেশ দেন গৌতমবাবু। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গৌতম দেবের বিরুদ্ধে পৌরসভাকে না জানিয়ে কাজ করার অভিযোগ এর আগেও তুলেছেন শিলিগুড়ি পৌরসভার মেয়র। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকেও অশোকবাবু বলেন, “পৌরসভাকে এড়িয়ে এসজেডিএ, পিডাবলুডি এবং এনবিডিডির দ্বারা শিলিগুড়িতে সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতমদেব।” অশোকবাবু আরও অভিযোগ করেন, নিজের একটি সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে পৌরসভার আয়ত্তভুক্ত রাস্তা, ট্রেন ইত্যাদির কাজ করছে পর্যটনমন্ত্রী।

পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা না করেই শহরে প্রায় 40 কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে। গত শুক্রবার এই ব্যাপারে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে জানিয়েছি। পুরমন্ত্রী বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিন কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে শিলিগুড়ি পৌরসভার মেয়র বলেন, “প্রত্যেকেরই সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে তা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। তাই যতদিন পর্যন্ত পৌরসভার সমান্তরাল প্রশাসন চালানো পর্যটনমন্ত্রী বন্ধ না করবেন, ততদিন পর্যন্ত তার ডাকা বৈঠকে আমরা হাজির হব না। পৌরসভার কোনো মেয়র পারিষদ সদস্য এবং আধিকারিক কেউ যোগ দেবেন না পর্যটনমন্ত্রীর বৈঠকে।”

তিনি আরও জানান, যদি এরপরেও অবস্থা পরিবর্তন না হয়, তাহলে আইনের দ্বারস্থ হব। এক্ষেত্রে অবশ্য এসডিও থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে কোনোরকম আপত্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়নি মেয়র অশোক ভট্টাচার্যকে। এদিন এই বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব বলেন, “শহরের উন্নয়নমূলক কাজ কর্ম নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। সমস্ত কাজ মানুষের জন্য করা হচ্ছে। কোথাও বেআইনি কাজ কর্ম করা হচ্ছে না। তাছাড়া মেয়রের মেয়াদ আর মাত্র 8 থেকে 9 মাস। কাজেই তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বলার নেই।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি পৌরসভাকে 21 কোটি টাকা বরাদ্দ করার ঘোষণা করেছিলেন পর্যটনমন্ত্রী। আর এই প্রেক্ষাপটেই এই ধরনের দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে। পৌরসভার মেয়র আরও অনেক অভিযোগ জানান। সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে তিনি বলেন, সেবক রোড, বর্ধমান রোড, হিলকার্ট রোডে নিজেদের জায়গায় উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারত পূর্ত দপ্তর। কিন্তু তা না করে পৌরসভার জমিতে নির্মাণের কাজ করছে পূর্ত দপ্তর এবং এসজেডিএ।

এমনকি পৌরসভাকে না জানিয়ে পুর কর্মীদের বিভিন্ন কাজে লাগানো হচ্ছে। কয়েকদিন জবরদখল উচ্ছেদের নামে লোক দেখাতে হিলকার্ট রোডের ফুটপাতে হাঁটলেন মন্ত্রীমশাই। পৌরসভাকে অন্ধকারে রেখে সেখানে পুর কর্মীদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এসব মানা যায় না। মন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ থাকেন, গুন্ডা থাকেন। তবে ওনার এমন কাছের প্রতিবাদ সর্বদাই করব। আমি প্রতিবাদ করতে ভয় পাই না।

কিন্তু অশোকবাবুর সমস্ত অভিযোগকে দমিয়ে দিয়ে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, “আমি শহরে পুলিশ নিয়ে ঘুরি না। অধিকাংশ সময় হেঁটে দলীয় কর্মীদের নিয়ে আবার কখনও একাই মানুষের কাছে যাই। সুতরাং শহরের এক নম্বর নাগরিক তথা সিনিয়র রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন ভাষা কাম্য নয়। ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ওনার সংযত হওয়া উচিত।” তবে শুধু গৌতম বাবু নয়, অশোক ভট্টাচার্যের মন্তব্যকে আক্রমণ করতে ছেড়ে দেননি শিলিগুড়ি পৌরসভার বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার। তিনি বলেন, “মেয়রের এমন অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট, শহরের উন্নয়নে তার কোনো আগ্রহ নেই। তবে এতে ওনাদের কোনো ফায়দা হবে না।”

সবকিছু মিলিয়ে সিউড়ি পৌরসভা এলাকায় তৃণমূল বনাম সিপিএমের রাজনৈতিক লড়াই চোখে পড়ছে তা অনেকদিন থেকেই দেখেনি বাংলার মানুষ। কিন্তু আগামী দিনে সেই লড়াই আরও তীব্র আকার ধারণ করে, নাকি কোনোরকম মধ্যস্থতার মধ্যে দিয়ে দ্বন্দ্বের সমাধান হয়! সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!