এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > অপরাজিতা > গুরুদেব সহায় – ( লাভ স্টোরি ) – কলমে-অপরাজিতা -পর্ব – ৮

গুরুদেব সহায় – ( লাভ স্টোরি ) – কলমে-অপরাজিতা -পর্ব – ৮



সকালের শুরুটা তেঁতো হলেও শ্রীপর্ণার সাথে সারাদিন খুব ভালো কেটেছে রাজর্ষির। এত কথা বলেছে শুনেছে। আগে দেখতো কেমন প্রেমিক প্রেমিকারা হাত ধরে ঘুরছে, কেনাকাটা করছে , সিনেমা দেখতে এসেছে। ও নিজে কোনোদিন এমন কিছু করবে ভাবেনি। আজ শ্রীপর্ণার সাথে সিনেমা দেখেছে, হাত ধরে ঘুরছে, শ্রীপর্ণাকে গিফট কিনে দিয়েছে, খেয়েছে বাইরে। মনে হয়েছে যেন সময়টা এখানেই থেমে যায়. যেন আর শেষ না হয় সময়টা। কিন্তু সময় তার তালে ঠিক চলছে। সে থামলো না। অগত্যা রাজর্ষি আর শ্রীপর্ণাকে আলাদা হয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

আলাদা হলেও একসঙ্গে থাকার ভালোলাগার রেশটা এখনো গায়ে জড়িয়ে আছে রাজর্সির। সে এখনো জানে না শ্রীপর্ণার বাড়িতে কি ঘটেছে। বাড়ির কাছে পৌঁছে শ্রীপর্ণা ফোন করে জানিয়েছিল যে সে বাড়ি চলে এসেছে। রাজর্ষি এখনো বাড়ি পৌঁছায়নি। বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে।
শ্রীপর্ণা ওকে বলেছিলো বাড়িতে ফিরে যেন ফোন করে দেয় । সেই মতো ফোন করলো রাজর্ষি। সুইচড অফ বলছে চার্জ নেই হয়তো। চিন্তা হয়নি। কিন্তু কাল চিন্তা আছে কেননা প্রথমে আজ শ্রীপর্ণা ওর বাড়িতে সব বলবে বললেও পরে শ্রীপর্ণা বলেছে কাল সকালে বাড়িতে কথা বলবে কেননা কি ভাবে নেবে বাড়ির লোক ও জানে না। আর আজকের এতসুন্দর কাটানো মুহূর্তের আনন্দটা ও আজ উপভোগ করতে চায় সারাটা রাত।

বাড়ি ফিরে দেখলো ছোট পিসি ,বাবা , মা সবাই বসার ঘরেই রয়েছে। পিসি দেখেই বললো- কেমন আছিস? সেই থেকে ভাবছি এত দেরি হলো।

মুডটা স্পয়েল করার ইচ্ছা নেই রাজর্ষির – বললো হুম কাজ ছিল তাই দেরি হলো। ভালো আছো?

মঞ্জু- হ্যাঁ রে ভালো আছি।

রাজর্ষি – আমি আসছি চেঞ্জ করে। মাকে আজ অনেক ফ্রেশ লাগছে। কি হলো মনে একটা শান্তি শান্তি। তাহলে কি ছোট পিসি এসে বুঝিয়েছে আর তাই মা মেনে নিয়েছে ভাবতে ভাবতেই ঘরে গেলো।

খানিকটা বোঝার চেষ্টা করলো মঞ্জু রাজর্ষিকে দেখে। মা ও মাপছে। বাবা এত কিছু দেখে না।

ইশারায় মঞ্জু আর অনিতা কথা বলে নিলো – সেটা এমন যে -এখনোও জানে না কিছু।

চেঞ্জ করে ফের ফোন করলো। না এখনো সুইচড অফ বলছে। কি করে কি ফোনে চার্জ নেই সেটা খেয়াল নেই। রাগ হচ্ছে একটু। আর কোনো নাম্বারও নেই যে কাল করে কথা বলবে। কখন দেখবে তারপর চার্জ দেবে আর তারপর কথা দূর ভালো লাগে না।

মঞ্জু খেতে ডাকলো।খেতে গেলো রাজর্ষি। মা মুখে কোনো কথা না বললেও মুখে একটা শান্তি। বাবা আজ শুয়ে পড়েছে কারণ কি জানে না রাজর্ষি। জিজ্ঞাসা করলো – বাবা বললো কিছু নয় ডাক্তারের ওখান গিয়েছিলাম দেরি হয়েছে ক্লান্ত লাগছে শুলাম। কিছু কি হয়েছে? শ্রীপর্ণাকে মেনে নিলে তো বাবা খুশি হবে। রাজর্ষি বাবার মুখ দেখেছে একটু থমথমে। এতক্ষন খেয়াল করেনি। ভয় করছে এবার। না বললে জানতেও তো পারছে না।

একরাশ উদ্বিগ্ন, প্রশ্ন নিয়ে খোওয়া শেষ করলো রাজর্ষি। উঠতে যাচ্ছিলো মঞ্জু বললো বস কথা আছে। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো রাজর্ষির।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

মঞ্জু – আজ শ্রীপর্ণার বাবা প্রশান্তবাবু ফোন করেছিল। তোর মাকে যাচ্ছেতাই করে অপমান করলো। বললো এমন ছেলের সাথে বিয়ে দেব না আমার মেয়ের। আজ তোরা ঘুরতে গিয়েছিলি সেটাও জেনে গেছে সেই নিয়েও তোর মাকে যা নয় তাই বললো। ছেলেকে আগলে রাখতে জানে না। ওমেয়ের নাকি অন্য কোথাও বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।

মঞ্জু নিজেদের কথা কিছুই বললো না। তারাই যে ফোন করেছিল সে সব কোনো কথাই বললো না।
মাথায় বাজ পড়লো রাজর্ষির। সে বুঝতেও পারেনি যে তার মা , পিসি ফোন করেই এইসব করেছে। ভাববার কথাও নয়, কেননা মায়েরা জানে না শ্রীপর্ণা আর সে ঘুরতে গেছে বা শ্রীপর্ণার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হয়েছে। কিন্তু ওর বাবা কি করে জানলো। চিন্তা হচ্ছে শ্রীপর্ণার জন্য। শ্রীপর্ণা ফোন কেন ধরতেছে না। ফোনটা ওর কাছে নেই নাকি ফোনটা নিয়ে নিয়েছে। ও ঠিক আছে তো। আর তো কোনো নাম্বারও জানে না। কি করে যোগাযোগ করবে ও।

মঞ্জু – এরপরেও তুই ওই মেয়েকে ঘরে তুলবি?

তোর মা ঠিকই বলেছিলো ওরা লোক ভালো নয়।দেখ বাবা পৃথিবীতে তো আর মেয়ের সংখ্যা কম নয় যে মেয়ে পাবো না। ভালো সুন্দরী মেয়ে দেখেই তোর বিয়ে দেব বাবা। ও মেয়ের সাথে আর যোগাযোগ রাখিস না। ওরাও তো মানছে না। কোনো কথা শুনলো না যা মুখে এলো তাই বলে অপমান করলো। তোর মা বলছিলো সাঁতরাগাছিতে একটা ভালো মেয়ে দেখেছে। দেখলেই তুই আর না বলতে পারবি না যা .তাকে দেখে আয়। এই সামনে যে বিয়ের দিন আছে বিয়ে দিয়ে দিই।

রাজর্ষি – কড়া গলায় বললো – না। আমি আসছি বলে উঠে গেলো।

মা এবার মঞ্জুকে ইশারা করলো।

মঞ্জু – সাঁতরাগাছিতে কথা এগোতে গেলে তো তোকে একবার যেতে হবে, ছেলেকে না দেখলে ওরা কেন মেয়ের বিয়ে দেবে বল।

রাজর্ষি – আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি আমি শ্রীপর্ণাকেই বিয়ে করবো আর কাউকে নয়।

অনিমা – ওর বাবা আমাকে অপমান করেছে সেটা জানার পরেও ওই মেয়েকে ঘরে তুলবি। তাকেই বিয়ে করবি বলে লাফাবি।

রাজর্ষি – শ্রীপর্ণা তো কিছু বলেনি। ওর বাবা মানছে না মানছে না ,সে তো তুমিও মানছ না শ্রীপর্ণাকে।

হাত ধুয়ে ঘরে চলে গেলো রাজর্ষি।

অনিমা – দেখলে যে ছেলে কথা বলতো না আমার মুখের উপর সে আজ কিভাবে আমার সাথে কথা বলছে ,

মঞ্জু – সেই তো গো , ওই মেয়ে ঘরে এলে তো নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবে তোমাদের আর রাজুও কিছু বলবে না। কি বশ করেছে গো। .আমার এতদিন বিয়ে হয়েছে এখনো পর্যন্ত বর একটা কথাও শোনে না আর এ কি কান্ড গো।

অনিমা – সেই জন্যই তো আমি চাইচি না। তোমার দাদা বুঝলে তো। আমি যেন সৎ মা। ছেলের ভালো চাইনা তার ধারণা এমনটাই।

মঞ্জু – তুমি সাঁতরাগাছির মেয়েটার ফটোটা দেবে তো কাল। আমি দেখবো। আমিও তো দেখলাম খুব সুন্দর দেখতে, ওই মেয়েকে দেখলে মন ঘুরবেই।

অনিমা – কি জানি, আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না। কি কুক্ষনে যে সেদিন ছেলেকে দেখতে পাঠালাম সেটাই ভাবছি সারাক্ষন।

মঞ্জু-   চিন্তা করো না , যা বলেছে মেয়ের বাবাকে সে আর ওই মেয়েকে রাজুর সাথে মিশতে দেবে না , আর রাজুকেও তার ধরে কাছে আসতে দেবে না।

অনিমা- তাই যেন হয় ঠাকুরকে তো কত ডাকছি।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!