এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > অপরাজিতা > গুরুদেব সহায় – ( লাভ স্টোরি ) – কলমে-অপরাজিতা -পর্ব- ৭

গুরুদেব সহায় – ( লাভ স্টোরি ) – কলমে-অপরাজিতা -পর্ব- ৭

না যাদের নিয়ে এত কান্ড তারা এই ব্যাপারে বিন্দু বিসর্গও জানে না। তারা তাদের মতো করে আছে।

সকালে বাড়ি থেকে রাগ নিয়ে বের হলেও বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে রাজর্ষি কল করেছে শ্রীপর্ণাকে। শ্রীপর্ণাও সঙ্গে সঙ্গেই ফোন ধরেছে। জানিয়েছে সেও বের হচ্ছে। রাজর্ষি শুনতে পেয়েছে ওর মায়ের গলা, শ্রীপর্ণা তার মাকে বলেছে যে সে কোন এক বন্ধুর সাথে আজ বের হচ্ছে। ফিরতে একটু দেরি হবে।

নির্দিষ্ট জায়গায় অনেক্ষন দাঁড়িয়ে আছে রাজর্ষি। এখনো আসছেনা কেন শ্রীপর্ণা। আর ধৈর্য রাখতে পারছে না রাজর্ষি। সেই কবে দেখেছে। তারপর তো আর কথাও বলেনি গতকাল রাত্রে এতকিছুর পর আবার কথা বলছে। কিছু প্রব্লেম হলো না তো , সেই কারণেই আসছে না, ফোন করলো ফের , বেজে বন্ধ হয়ে গেলো ধরলো না। চিন্তা বাড়ছে রাজর্ষির । সিগারেট খায়না সে, পাশের চায়ের দোকান থেকে চা খাচ্ছে আর রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখছে আসছে কিনা শ্রীপর্ণা। আসছে না। কেন ? ফের ফোন করতে যাবে দেখা মিললো রাজকন্যার। হাফ ছেড়ে বাঁচলো রাজর্ষি। একটা হলুদ গোলাপি কম্বিনেশনের শাড়ি পরেছে শ্রীপর্ণা। হালকা সাজ খুব সুন্দর লাগছে। চোখ আটকে গেছে রাজর্ষির। মনে হচ্ছে মা যদি একবার দেখতো ওকে, কেন মানছে না।রাজর্ষির সুখের কথা ভেবে না করছে ,কিন্তু রাজর্ষির আসল সুখ তো এখানেই।

শ্রীপর্ণা কাছে এসে দাঁড়ালো। চোখের ইশারায় জানতে চাইলো কেমন লাগছে?

রাজর্ষি – খুব সুন্দর। এত দেরি করলে কেন?কখন থেকে ওয়েট করছি। খুব চিন্তা হচ্ছিলো।

শ্রীপর্ণা – চিন্তা করছিলে কেন? আমি কি বাচ্চা মেয়ে যে হারিয়ে যাবো?

রাজর্ষি – তা কেন? কিন্তু তোমার মায়ের গলা পেলাম ,তাই ভাবলাম যদি আসতে না দেয়, যদি তুমি না আসো।

শ্রীপর্ণা – দূর – আমি শাড়ি পড়েছি বলে মা জানতে চাইলো কোথায় যাচ্ছি শাড়ী পরে। আমি বললাম বন্ধুদের সাথে ঘুরতে। মানা করবে কেন?

রাজর্ষি – চলো আগে কিছু খব খুব খিদে পেয়েছে

শ্রীপর্ণা – খাওনি সকালে?

রাজর্ষি – না।

শ্রীপর্ণা – কেন?

রাজর্ষি – ভেতরে চলো বলছি।

শ্রীপর্ণা রাজর্ষি টেবিলে বসলো খবর অর্ডার হলো। তারপর শ্রীপর্ণাকে সব বললো যা যা ঘটেছে।

রাজর্ষি – তুমি বাড়িতে কবে বলবে ?

শ্রীপর্ণা- আজ বাড়ি ফিরে। কাল বলতে সাহস করিনি , যদি আজ আসতে না দিতো , তোমার সাথে দেখা হতো না।

রাজর্ষি – আমাকে মিস করছিলে যেন? ফোন ধরে না , ম্যাসেজ করে না। আবার বড় বড় কথা।

শ্রীপর্ণা – হুম তাই তো। সেই জন্যই তো আজ এলাম এত কান্ড করে। চলে যাচ্ছি।

রাজর্ষি – সরি।

খাওয়া দাওয়া হলো. অনেক মান অভিমানের কথা হলো। এবার এলো আসল প্রসঙ্গ। যদি শ্রীপর্ণার বাড়িতে মানে ভালো নাহলে দু বাড়ির অমতে দুজনে বিয়ে করবে। রাজর্ষি ব্যাঙ্কের কাছাকাছি একটা ঘরভাড়া নেবে। সেখানেই দুজনে থাকবে বিয়ের পর। যে টাকা মাইনে পায় তাতে দুজনের আরামসে চলে যাবে।

সারাদিন দুজনে হাত ধরে ঘুরেছে ,সিনেমা দেখেছে। ছোটোখাটো জিনিস কিনেছে। রাজর্ষি ওকে একটা গিফট দিয়েছে।সন্ধ্যে হয়ে আসছে এবার ফেরার পালা। ইচ্ছা করছে না। কিন্তু তবুও যেতে হবে। দুজন দুজনকে বাই বলে যে যার গন্তব্যে রওনা দিলো।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

বাড়ি ফিরলো শ্রীপর্ণা। বাবা, মা, বোন সবাই বসার ঘরে রয়েছে। কিছু নিয়ে একটা মিটিং বসেছে সেটা বুঝতে পারছে। কিন্তু কি নিয়ে? সবার মুখ গম্ভীর। রাগ রাগ।

বাড়ি ঢুকতেই শ্রীপর্ণাকে ওর বাবা জিজ্ঞাসা করলো -কোথায় গিয়েছিলে?

শ্রীপর্ণা – বন্ধুর বাড়ি, মাকে বলে গিয়েছিলাম তো।

সঙ্গে সঙ্গেই সপাটে একটা চড় এসে পড়লো শ্রীপর্ণার গালে বাবা মারলো চড়টা। তার মানে ওনারা যা বলেছেন সেটাই সত্যি।নোংরামি হচ্ছে। ওই ছেলেটার সাথে ছিলে ছিঃ ছিঃ আর আমি গর্ব করে বলি আমার মেয়ে অমুক আমার মেয়ে তমুক।

মা বাধা দিতে গেলো। বাবা কিছু শুনলো না। বললো – বলো কবে থেকে চলছে এসব?
এরপরেই আসল কথা রাজর্ষির মায়ের কথাগুলো বলে বললেন চেঁচাতে চেঁচাতে বললেন রবিবার বিয়ের দিন ধরতে যাবো। যত তাড়াতাড়ি হয় বিয়ের দিন ধরে বিয়ে দেব। আর ততদিন পর্যন্ত বাড়ি থেকে বের হবে না। ফোনটা দাও বলে ফোনটা নিয়ে নিলেন।সাথেই জানালেন শ্রীপর্ণার ফোন এলে যেন আগে বাবাকে দেওয়া হয় বাবা আগে কথা বলবে যদি প্রয়োজন বোঝেন তাহলে শ্রীপর্ণাকে দেওয়া হবে।

শ্রীপর্ণা কিছু বলতে যাচ্ছিলো ,মা ইশারা করে থামিয়ে দিলো। কেননা বাবা রেগে গেলে কোনো কথা শুনবে না। হিতে বিপরীত হবে। কোনো কথাই বলা হলো না শ্রীপর্ণার। সেও যে ভালোবাসে, তাকেও যে রাজর্ষি ভালোবাসে কোনো কথাই নয়।

বাড়িতে একমাত্র বোন জানতো শ্রীপর্ণা কোথায় যাচ্ছে। বাবা জোর করে ধমকে ভয় দেখিয়ে বোনের থেকে জেনেছে। বোন বাবাকে ভয় পায় ইচ্ছা করে কিছু বলবে না জানে। কিন্তু এবার কি হবে ? কি করে জানাবে শ্রীপর্ণা রাজর্ষিকে। ফোনটা যে বাবার কাছে।আর শ্রীপর্ণার কাছে রাজর্সির নাম্বার আলাদা করে কোথাও নেই। তাছাড়া রাজর্ষি তো রাত্রে কাল করবে বাবা যদি ধরে , যদি ম্যাসেজ পরে।

 

আপনার মতামত জানান -
Top