এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > অপরাজিতা > গুরুদেব সহায় – ( লাভ স্টোরি ) – কলমে-অপরাজিতা -পর্ব- ২

গুরুদেব সহায় – ( লাভ স্টোরি ) – কলমে-অপরাজিতা -পর্ব- ২

একটু আধটু কথা হবার পর রাজর্ষীর মা কল করে বলেছিলো গুরুদেবের সাথে দেখা হয়ে গেছে। গেটে দাঁড়িয়ে ছেলেকে খুঁজছেন। রাজর্ষী  শ্রীপর্ণাকে বাই বলে চলে যায়। না নামটা জানা হয়নি।

না প্রেমে পড়েনি , তবে দু দিন মনে হয়েছিল নামটা জানলে হতো। যদি আবার দেখা হয় ব্যাস ওই পর্যন্তই।তারপর কাজের মাঝে মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো।

যখন ওদের দুজনকে একা কথা বলার জন্য ছাড়লো  শ্রীপর্ণা জানালো সেও ফটো দেখেনি। তাই জানতো না যে রাজর্ষি আসছে।
কেন ফটো দেখেনি জানতে চাইলো রাজর্ষি

শ্রীপর্ণা বললো – অনেকেই দেখে যায় , গিয়ে না বলে দেয়, শুধু শুধু ফটো দেখে মায়া বাড়িয়ে লাভ কি?

রাজর্ষীর সাথে অনেক কথা হলো। রাজর্ষিও জানালো সেও ফটো দেখেনি। কেননা মা পছন্দ করলে তবে বিয়ে। শুধু শুধু ফটো দেখে কি লাভ ?

শ্রীপর্ণা – আচ্ছা তার মানে আপনি মায়ের খুব বাধ্য?

রাজর্ষি – এমন কিছু কথা নয়।

শ্রীপর্ণা – তাহলে মায়ের কথা অনুযায়ী বিয়ে করছেন যে ?

রাজর্ষি – মা পছন্দ করলে ঠিক ঠাক মেয়েই পছন্দ করবে ,তাই. আবার কি?

শ্রীপর্ণা- আচ্ছা ধরুন , কাউকে আপনার পছন্দ হলো ,কিন্তু আপনার মায়ের তাকে পছন্দ নয় কি করবেন?তাকে বিয়ে করবেন মায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে নাকি? মায়ের কথামতো মায়ের পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করবেন ?

এটা তো কোনোদিন ভেবে দেখেনি রাজর্ষি, ভাবার প্রয়োজন হয়নি। কেননা কাউকে দেখে এমন কোনোদিন মনে হয়নি যে তাকে ছেড়ে বাঁচবে না।

বললো – জানিনা, ভাবিনি।

শ্রীপর্ণা – হুম. ওই জন্যই বললাম আপনি আপনার মায়ের খুব বাধ্য ছেলে।
যাই হোক এর পরে তো আর আমাদের দেখা হচ্ছে না। আপনি ও বাড়ি গিয়ে না করে দেবেন জানি।

রাজর্ষি – না বলবো মনে হলো কেন?

শ্রীপর্ণা- হেসে বললো , আপনার জন্য তো সাদা দুধের মতো গায়ের রং ওলা মেয়ে চাই। আমার গায়ের রং দেখ মনে হচ্ছে সাদা। আপনার মা ফোনে বলেছিলেন মেয়ে খুব ফর্সা তো? আমাদের বাড়ি থেকে বলে দিলো হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞাসা করতে বললো – এসে দেখে যাক , কার চোখে কখন কি লাগে। এদেরকে বোঝতে পারবেন ? পারবেন না। সেই জন্যই বললাম না করবেন।

রাজর্ষি – আমার এমন কোনো ডিমান্ড নেই।

শ্রীপর্ণা- আপনার মায়ের আছে। আর আপনি মায়ের কথা মতো বিয়ে করবেন। সো এখানেও ক্যানসেল।
এর মধ্যে অনুপম ও বাড়ির লোক এলো। অনুপম বললো বাড়িতে আলোচনা করে জানানো হবে।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো।

মনটা খারাপ হয়ে গেলো রাজর্ষির। না সত্যি মা একে পছন্দ করবে না।
অনুপম বললো – সালাবাবু বলো কেমন লাগলো ?

রাজর্ষি – ভালো।

অনুপম – কিন্তু মামিমা পছন্দ করবে? করবে না ? এর থেকে হাজার গুন্ সুন্দরীকে না করে দিয়েছে। এই মেয়েকে তো আগে না করবে। কেননা কালো না হলেও দুধে আলতা রং তো নয়।

রাজর্ষি বললো – আমি না এলেই ভালো হতো। তুমি একা দেখে গিয়ে যা বলার বলতে।

————————————————————————————————

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

বাড়ি এলো রাজর্ষি। মা বাবা জানতে চাইলো কেমন দেখলো মেয়েকে। অনুপম বললো সব ভালো এখানেই লাগিয়ে দিন।

এখানেই লাগিয়ে দিন – কথাটা শুনে বুথের ভেতরটা একটু নেচে উঠেই ঝিমিয়ে গেলো রাজর্ষির।

অনিতা – রং কেমন?

অনুপম – ভালো, তবে সাদা দুধ নয়, কিন্তু কালো নয়।

অনিতা – তাহলে আবার কিসে ভালো? এই যে বললো দুধে আলতা রং, কি মানুষ সব কে জানে ? এইভাবে লোক ঠকানো? ধর্মে সইবে ?  ও মেয়ে চলবে না। আমি রাজুর জন্য দুধে আলতা গায়ের রং ওলা মেয়ে আনবো।

অনুপম – মামিমা শুনুন, রাজর্ষিরও পছন্দ।সব ভালো। এখানে দেখে এসে ফাইনাল করুন।

না অনিতা শুনলো না। কমলবাবুকে বললো আরো যারা বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেছে তাদের সাথে কথা বলো।

কমলবাবু গিন্নিকে কিছু বললেন না , কেননা গুরুদেবের একটা কথা খুব মনে ধরেছে তাঁর। গুরুদেব বলেছেন – জন্ম মৃত্যু বিয়ে -তিন বিধাতা নিয়ে। যখন বিয়ে হবার তখন কোনো বাধাকেই বাধা মনে হবে না। তখন দেখবেন যাকে দেখে একদিন পছন্দ করেছেন তাকেই মনে ধরে গেলো। আর যখন হবার নয় তখন পছন্দও অপছন্দ হয়ে যায়। যার সাথে যার লেখা আছে তার সাথে তার বিয়ে হবেই। চিন্তার কোনো কারণ নেই বিয়ের যোগ প্রবল। কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যাবে।

রাজর্ষি উঠে ঘরে চলে গেলো। অনুপম বিদায় নিলো। রাজর্ষির মনটা খুব খারাপ হয়ে গেছে। শ্রীপর্ণা কতটা খারাপ ভাববে ওকে? মায়ের যত বাড়াবাড়ি। ইশ যদি একবার শ্রীপর্নাকে বলতে পারতো তার খুব ভালো লেগেছিলো ওকে।

———————————————————————————————————

 

ফের শুরু হলো মেয়ের খোঁজা। না আর রাজর্ষি কোথাও যায়নি। যাবার ইচ্ছাও নেই। আবার মায়ের মেয়ে পছন্দ হয়নি। এদিন বাসে করে ব্যাংকের হেডঅফিসে থেকে ফিরছে রাজর্ষি। দুপুরের দিকের বাসে তেমন ভিড় নেই। হঠাৎ দেখলো বাসে উঠছে শ্রীপর্ণা। রাজর্ষির মনে হলো কথা বলি। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই লজ্জা হলো। মাথা নিচু করে জানালার দিকে তাকিয়ে বসে রইলো।

শ্রীপর্ণা দেখছে। সে রাজর্ষির কাছে এসে বললো।- বাবা না হয় বিয়ের জন্য না করে দিয়েছেন, তার জন্য দেখে হলেও কথা বলবেন না।

রাজর্ষি – না না কেন কথা বলবো না ? বসুন বলে সরে গেলো।
শ্রীপর্ণা বসলো।

রাজর্ষি – সরি, আসলে আমি না করিনি , মা

শ্রীপর্ণা – ছাড়ুন না , আমি আহামরি কিছু নোই যে দেখলেই লোকে প্রেমে পরে যাবে। আমি কিছু মনে করিনি। আমি তো বলেছিলাম আপনাকে। যাই হোক, আর মেয়ে পেলেন? পছন্দ হলো।

রাজর্ষি – আমি আর কাউকে দেখতে যাইনি।

শ্রীপর্ণা – কেন?

রাজর্ষি – দূর,

এমনিই। মায়ের পছন্দ না হলে তো। ………….

শ্রীপর্ণা – ওহ বুঝেছি।

রাজর্ষি – আচ্ছা আপনার ?

শ্রীপর্ণা – না সবার সাদা দুধের মতো গায়ের রং ওলা মেয়ে চাই। এই রঙে হবে না। দেখি কোন রাজপুত্র আছে আমার জন্য। তবে যদি চাকরি পেয়ে যাইনা। আর এসব দেখাশোনা কিছুই করতে দেব না।

শ্রীপর্ণা কলকাতায় চাকরির পরীক্ষার ট্রেনিং নিচ্ছে। ওখানেই থাকে।

শ্রীপর্ণার স্টপেজে এসে গেছে। বললো আর তো দেখা হবে না – ভালো থাকবেন আসলাম।

রাজর্ষি – বাই। ভালো থাকবেন আপনিও।

নেমে গেলো শ্রীপর্ণা। ভালো লাগছে না রাজর্ষির। ফের মনটা বসে গেলো।

——————————————————————————————————————————————-

এরপর কেটে গেছে কয়েকটা দিন। রাজর্ষি ওদের হেডঅফিসে আরো বড় পোস্টে বদলি হয়ে গেছে। আর তার সাথে মায়ের ডিমান্ডও বেড়ে গেছে।বিয়ের আশা ছেড়ে দিয়েছে রাজর্ষি। যদিও আর বিয়েতে তেমন মন নেই, মা মেয়ে দেখতে গেলে একটু ভয় ভয় করে যদি পছন্দ করে ফেলে। বাড়ি এসে না বললে মনে হয় ঠিক আছে।

এরমধ্যে একদিন ফেসবুকে হঠাৎ করে শ্রীপর্ণার প্রোফাইলটা দেখেছে। আগে মাথায় আসেনি সার্চ দিলেই হতো। যাইহোক লুকিয়ে লুকিয়ে অনেকবার ওর ফটো দেখাচ্ছে। কিন্তু ফ্রেইন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে সাহস হয়নি। তাছাড়া মনে হয়েছে কি দরকার? আর তো কোনোদিন …. একটা দীর্ঘশ্বাস পড়েছে। ফেসবুক বন্ধ করে দিয়েছে।

বার বার মনে হয়েছে কেন ও এমন? কেন ও মায়ের মুখের উপর বলতে পারে না যে ওর পছন্দ শ্রীপর্ণাকে তাকেই বিয়ে করবে। অন্য কিছু হলে মায়ের কথা শুনতো না। কিন্তু বিয়ে করবে নিজের মতে এটা একটু।. না একথা বলতে পারবে না বেশ লজ্জা হয়। তাছাড়া সেই কথা শুনে যে রিঅ্যাকশন আসবে মায়ের কাছ থেকে তাতে বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থির মুখোমুখি হতে হবে রাজর্ষিকে, ভাবলেই ভয় করে। অতএব যা কপালে আছে তাই হোক আর কি করা যাবে।

 

অফিসের কাজের মাঝে রাজর্ষি দেখলো শ্রীপর্ণা। ওদের ব্যাংকে এসেছে। ওর একটা পাসবই সংক্রান্ত কিছু দরকারে। রাজর্ষি ওর সাথে দেখে করে কথা বললো। আজ ওয়েবসাইট এ প্রব্লেম এর জন্য কাজ হবে না জানালো ব্যাংকের আর একজন কর্মী। শ্রীপর্ণা হতাশ আবার এতদূর আস্তে হবে। রাজর্ষি জানালো সে দেখবে ব্যাপারটা। ফোন নম্বর চাইলো কাজ হয়ে গেলে ফোন করে জানাবে। শ্রীপর্ণা আপত্তি করেনি।

এর পর থেকে কিছুদিন কথা হলো দরকারেই , তারপর আস্তে আস্তে তাতে অদরকারি কথাও যোগ হতে শুরু করলো। ব্যাংকে একদিন ফের যেতে হয়েছিল শ্রীপর্ণাকে সেদিন রাজর্ষি আর শ্রীপর্ণা একসাথে কফি খেয়েছে, অনেক কথা হয়েছে। ফেসবুকে দুজনেই এখন ফ্রেন্ড।

এদিকে রাজর্ষির জন্য ওর মা মেয়ে দেখতে গেলে বুক ধুকপুক করে দুজনের ই , ওদিকে শ্রীপর্ণাকে কেউ দেখতে এলে ভীষণ টেনশন হয় দুজনেরই। কিন্তু কেউ কাউকে বলে না। চলছে বেশ। কিন্তু এমন করে কদিন, আপনি থেকে এখন বেশ ‘তুমি’ তে সাবলীল দুজনেই। রাজর্ষি ঠিক করলো সে শ্রীপর্ণাকে বলবে সে শ্রীপর্ণাকে ভালোবেসে ফেলেছে। তারপর যা হবে দেখা যাবে।

সেই মতো শ্রীপর্ণার সাথে কথা বলতে বাইরে গেলো দুজনেই।

শ্রীপর্ণা – বাবা কি এত দরকার যে এখুনি দেখা করতে হবে।

রাজর্ষি – আছে

শ্রীপর্ণা – কি হয়েছে , বিয়ে ঠিক হয়েছে ,নেমন্তন্ন করছো নাকি ? মজা করে বললেও বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে , মনের ভেতরে কেউ একজন বলেছে – যেন না হয়।

রাজর্ষি – দূর, যা মুখে আসে তাই বলো। সেসব কিছু না। তোমার সাথে দরকার আছে

শ্রীপর্ণা – যেন এবার ঠিকঠাক শ্বাস নিতে পারছে। বললো – বলো।

রাজর্ষি – দেখো আমার তোমাকে ভালোলাগে, মনে হয় ভালোবেসেফেলেছি. নট সিওর। কিন্তু অন্য অন্য কারুর সাথে বিয়ে হচ্ছে ভাবলেই খুব কষ্ট হয়, মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর তোমার সাথে বিয়ে হচ্ছে ভাবলে খুব আনন্দ হয়। এবার তুমি বলো। এক নিশ্বাসে কথাগুলো বললো রাজর্ষি।

শ্রীপর্ণা – কি বলবো ?

রাজর্ষি – কি বলবে মানে? আমি যে এত কথা বললাম ,তার কোনো উত্তর দেবে না , মানে তুমি কি ভাব আমার সম্পর্কে , আমাকে ভালোলাগে কিনা এসব?

শ্রীপর্ণা – কি হবে বলে?

রাজর্ষি – অনেক কিছু হবে। তুমিও যদি আমাকে ভালোবাসো তবে,

শ্রীপর্ণা – তবে? কিছুদিন আমার সাথে প্রেম করে মায়ের দেখা মেয়েকে বিয়ে করবে।

রাজর্ষি – এই দেখো আমি সম্মান করি মানে এই নয় যে মায়ের কথায় উঠবো বসবো।

শ্রীপর্ণা – আচ্ছা , আমাকে যখন তোমার মা না বলেছিলো কিছু বলোনি কেন?

রাজর্ষি – তখন এত কিছু বুঝিনি।

শ্রীপর্ণা – কবে বুঝলে?

রাজর্ষি – আশ্চর্য তো? এখন বুঝেছি তাই বলছি।

শ্রীপর্ণা – তোমার মায়ের আমাকে পছন্দ নয়, কি বলবে তাঁকে ?

রাজর্ষি – পরে দেখা যাবে, তুমি আমাকে ভালোবাসো, পছন্দ করো না করো না সেটা বলো।

শ্রীপর্ণা – হুম যদি করি তাতে কি?

রাজর্ষি – অনেক কিছু , মাকে বলবো আমি এখন বিয়ের করবো না। মা খুব বলবে, শেষে হাল যখন ছেড়ে দেবে তখন বলবো একজনকে পছন্দ হয়েছে তাকে বিয়ে করবো। তখন মা ঠিক রাজি হবে।

শ্রীপর্ণা – আর আমি কি করবো?

রাজর্ষি – তুমিও বলবে আমি বিয়ে করবো না।

শ্রীপর্ণা – হ্যাঁ এমনি আমার বাড়ির লোক মেনে নেবে।
আর শোনো এই আইডিয়াটা একেবারে ভালো নয় , তোমার মা আর আমার বাড়ির লোক কেউ মানবে না।

রাজর্ষি – তাহলে?

শ্রীপর্ণা – তাহলে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করবো। যদি রাজি থাকো বলো.

রাজর্ষি – দেখো এটা বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।

শ্রীপর্ণা – ছাড়ো। মায়ের আঁচল ধরে বসে থাকো। মা মেয়ে দেখে বিয়ে দেবে। আমাকে আর কল করবে না। ফেসবুকেও তোমাকে ব্লক করবো। বাই, থ্যাংক ইউ ফর এভরিথিং।

 


 

গুরুদেব সহায় – ( লাভ স্টোরি ) – কলমে-অপরাজিতা -পর্ব- ২

 

গুরুদেব সহায় – ( লাভ স্টোরি ) – কলমে-অপরাজিতা -পর্ব- ৩

 

আপনার মতামত জানান -
Top