এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > গুজরাটে যা হচ্ছে তা নিয়ে নবান্নে দাঁড়িয়ে ‘ভীত ও উদ্বিগ্ন’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়

গুজরাটে যা হচ্ছে তা নিয়ে নবান্নে দাঁড়িয়ে ‘ভীত ও উদ্বিগ্ন’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়

এবার শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামান্য কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গুজরাটে পাড়ি দেওয়া শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনায় নবান্নে দাঁড়িয়েই উষ্মা প্রকাশ করলেন তিনি। মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন,গুজরাটে শ্রমিক হামলার ঘটনায় তিনি ‘ভীত’ ও ‘উদ্বিগ্ন’।

সাংবাদিক সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যেই তুলে ধরলেন গুজরাটের শ্রমিকদের বিরূপ পরিস্থিতির কথা। উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি চাঁচাছোলা ভাষায় সামালোচনাও করলেন বিজেপি সরকারের। গুজরাটের শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বিজেপি সরকার। গোটা রাজ্যের শিল্পব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অথচ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যেই এরকম হচ্ছে দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। যিনি প্রতিবছর দু কোটি কর্মসংস্থান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের ক্ষমতায় এসেছেন,তাঁর রাজ্যেই কিনা শ্রমিকরা আক্রান্ত হচ্ছে! তাছাড়া গুজরাটকে আরো উন্নত করার কথাও দিয়েছিলেন মোদী। তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির কী হল? প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন নেত্রী। সঙ্গে এটাও জানান,পশ্চিমবঙ্গে শ্রমিকদের অবস্থা কখনো এরকম হয়না। গুজরাটে হামলার শিকার শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সহানুভূতি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন,”এই ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। ভীত”। সঙ্গে তাঁদের বাংলায় আসার বার্তাও দিলেন নেত্রী।

উল্লেখ্য,গুজরাট থেকে সুশাসন বিদায় নিয়েছে,এ অভিযোগ তুলে দফায় দফায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। এমনকি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠতে দেখা গিয়েছে বিজেপির একাংশদের। উত্তরপ্রদেশ থেকেও শ্লোগান উঠতে শুরু করেছে ‘গুজরাটি মোদী বেনারস ছোড়ো’। গুজরাটে যদি সুশাসনই থাকবে তাহলে ভিন রাজ্য থেকে রোজগার করতে আসা শ্রমিকদের গুজরাট ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে কেন? কেন তাঁদের উপর হামলা চালাচ্ছে গুজরাটিরা? আর এসব প্রশ্নের কোনো জবাব নেই কেন প্রশাসনের কাছে? প্রশ্নে সরব বিরোধীরা। আর এদিন কট্টর বিজেপি বিরোধী বাংলাী মুখ্যমন্ত্রীর গুজরাটে শ্রমিক হামলার ঘটনায় মন্তব্য করাতে এই ইস্যুতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

প্রসঙ্গত, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং ঝাড়খন্ড সহ একাধিক রাজ্য থেকে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক রোজগারের তাগিদে গুজরাটে যান। সম্প্রতি গত ২৮ সেপ্টেম্বর ১৪ মাসের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে বিহারের কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই সেখানে গুজরাটি ভাষা ছাড়া অন্য ভাষাভাষী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার শুরু হয়। প্রধানত ৬ টি জেলায় এই সন্ত্রাস ছড়িয়েছে, যার মধ্যে মেহসানা এবং সবরকন্ঠার অবস্থা সবথেকে খারাপ। এছাড়া গান্ধীনগর,পাটান এবং আহমেদাবাদেও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এখনো পর্যন্ত হিন্দিভাষী ৫০ হাজার শ্রমিক গুজরাট ছেড়েছে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে। শ্রমিকদের অভাবে গুজরাটে নির্মানকার্য থেকে শুরু করে রেঁস্তোরা সমস্ত ক্ষেত্রেই কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। এখনো শয়ে শয়ে শ্রমিকরা ফিরে যাচ্ছেন নিজের রাজ্যে। যদিও প্রশাসন প্রাথমিকভাবে এই হামলার খবর স্বীকার করছে না। তবে গুজরাটে যেভাবে জাতিগত সহিংসতা শুরু হয়েছে,তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিজেপি প্রধানমন্ত্রী মোদীজিকেই তোপ দাগতে ভুললেন না বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!