এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > ছাত্র রাজনীতিতে রাশ টানার প্রচেষ্টা? অধ্যক্ষ নিগ্রহে জিএস সহ ১১ ছাত্রনেতাকে বহিষ্কার!

ছাত্র রাজনীতিতে রাশ টানার প্রচেষ্টা? অধ্যক্ষ নিগ্রহে জিএস সহ ১১ ছাত্রনেতাকে বহিষ্কার!

কলেজে গরমের ছুটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে অধ্যক্ষ এবং অধ্যাপকদের ঘেরাও করার অভিযোগ ওঠে মেমারি কলেজের ছাত্র সংসদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি শারীরিক হেনস্তারও অভিযোগও তোলা হয়।  এর জেরে অভিযুক্ত ওই ১১ জন কলেজ পড়ুয়াকে বহিষ্কার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহাকুমা শাসক তথা কলেজেরই প্রশাসক অনির্বাণ কোলের অফিসে এ নিয়ে বৈঠক করার পরই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতদের তালিকায় মূলত রয়েছেন ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বাগ, টিএমসিপি-র ব্লক সভাপতি মুকেশ শর্মার স্ত্রী রিমা শিকদার, রয়েছেন মুকেশের দাদাও। ভুয়ো শংসাপত্র জমা দিয়ে কলেজে অস্থায়ী পদে যোগ দেওয়ার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় তাদের। গতকালই এ সিদ্ধান্তে শীলমোহর দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজ সূত্র থেকে জানা গিয়েছে,বিক্রম মিস্ত্রি, কৌশিক কলমা, মোমিন মোল্লা, প্রদীপ বাগ, রিমা শিকদার, শেখ মইনুদ্দিন, সইদুল ইসলাম, সুদীপ ঘোষ, সুজিত বিশ্বাস, সুমন বিশ্বাস ও ভোলানাথ দাসকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সুমন,বিক্রম ও মোমিন একটানা তিন বছর ফেল করে এবার আবার পার্ট-ওয়ানে ভর্তি হয়েছেন। প্রদীপ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক। বহিষ্কারের ঘটনা সামনে আসায় কলেজ জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এই ১০-১১ জন ছাত্রছাত্রী কলেজে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছিল। পড়াশুনোর বদলে মূলত কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতেই বেশি উদ্যোগী তারা। তাই তাদের কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে,এমনটাই জানালেন মেমারি কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস চক্রবর্তী।  তিনি আরো জানালেন,মহাকুমা শাসক প্রশাসনের দায়িত্বভার নেওয়ার পর কলেজের পরিবেশ অনেকটাই সুস্থ হয়েছে। এই সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতেই এক অস্থায়ী কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।অস্বাস্থী কর্মী মুকেশ শর্মার দাদা রাজেশ শর্মাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে,বেশ কিছু দিন আগে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেনী পাশ যোগ্যতার ভিত্তিতে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেসময় মেমারির বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির ইউনিট-২ থেকে অষ্টম শ্রেনী সার্টিফিকেট দেখিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে অস্থায়ী পদে যোগ দেন রাজেয় বাবু। পরে খতিয়ে দেওয়া যায় সেটা ভুয়ো। ১৯৯২-৯৩ সালে তিনি ওই স্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেনী পাশ করেছিলেন। তবে উক্ত ঘটনার মূল অভিযুক্ত কিন্তু টিএমসিপি-র ব্লক সভাপতি তথা কলেজেরই গ্রুপ-সি কর্মী মুকেশ শর্মা। মুকেশ বাবু আবার কলেজের গভর্নিং বডির অশিক্ষক প্রতিনিধিও ছিলেন। এরপর গভর্নিং বডি ভেঙে দেয় রাজ্যসরকার।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

মহাকুমা শাসককেই প্রশাসকের পদে বসানো হয়। মুকেশের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়ে ডায়েরিও করা হয়। পরে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর ফের কলেজে যোগ দেন মুকেশ বাবু। কিন্তু তারপর নানা ফন্দি ফিকির খাটিয়ে চলতে থাকে অধ্যক্ষ এবং অধ্যাপকদের উপর চাপ সৃষ্টির কাজ। এর সঙ্গে কলেজে গন্ডোগোল পাকানোর জন্য মুকেশকে ডেকে জেরাও করে এসডিও। তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি,মুকেশ শর্মা। উক্ত ইস্যুতে,এসডিও অনির্বাণ কোলে জানান,কলেজের ধারাবাহিক পরিবেশ সুস্থ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন আর কোনোদিন কলেজে অশান্তি ছড়াবে বলে ক্ষমা চেয়েছে।  তাদের অপরাধ ক্ষমা করা হয়েছে। তবে বাকিদের কলেজে ঢোকার পথ বন্ধ করা হয়েছে।

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!