এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নিজের জালে আরও জড়িয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী? পে-কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মীদের যুক্তিজাল একনজরে

নিজের জালে আরও জড়িয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী? পে-কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মীদের যুক্তিজাল একনজরে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ও রাজ্যের শিক্ষকরা – দীর্ঘদিন ধরে ডিএ, পে-কমিশন ও পিআরটি স্কেল নিয়ে বঞ্চনার জবাব দিয়েছেন পোস্টাল ব্যালটে। পোস্টাল ব্যালটের হিসাবে রাজ্যের ৪২ টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪১ টি আসনেই ভরাডুবি হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। আর তারপরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকরা আশা করেছিলেন – এবার হয়ত ‘শিক্ষা’ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বকেয়া-বঞ্চনার নিরসন করবেন! কিন্তু, কোথায় কি? উল্টে ভোট মিটতেই পে-কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরও ছমাসের জন্য!

আজ নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেতন কমিশন দেওয়া হচ্ছে না বলে ভোটের সময় অনেক রাজনীতি হয়েছে! বেতন কমিশন রিপোর্ট দেবে তবে তো তার কার্যকর করার প্রশ্ন! বেতন কমিশন তো রিপোর্টই পেশ করল না। তারা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে, তার পর আমরা ভাবব কতটা সামর্থে কুলায়। একই সাথে তিনি জানান, যার যা প্রাপ্য সরকার সামর্থ অনুসারে তাকে তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। বেতন কমিশন সুপারিশ পেশ করলে সাধ্যমতো করব। আমি নিশ্চই বেতন কমিশনের সুপারিশ মানতে গিয়ে খাদ্যসাথী প্রকল্প বন্ধ করব না। গরিব লোককে ভাতে মারব না। গরিব লোককে আরও কাজ দেওয়াটাই আমার কাজ।

আর সব শেষে তিনি ছাড়েন একেবারে ‘ব্রম্ভাস্ত্র’! তিনি বলেন, সব বিনা পয়সায় চললে সরকারকে তো টাকাটা জোগাড় করতে হবে। টাকাটা জোগাড় করতে পারবে তবে তো! আর মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকরা। এই প্রসঙ্গে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের অন্যতম শীর্ষনেতা সুবীর সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে একটা কথাই বলতে পারি, তিনি ঘুরিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দাবিকেই মান্যতা দিলেন! তবে, ‘টাকা নেই’ এই কথার সঙ্গে কিছুতেই সহমত পোষন করতে পারছি না!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

কেন বললেন সুবীরবাবু এহেন কথা? তাঁর যুক্তি, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘বেতন কমিশন রিপোর্ট দেবে তবে তো তার কার্যকর করার প্রশ্ন’ – একদম ঠিক কথা। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই বেতন কমিশনকে নিয়োগ করেছে কে? রাজ্য সরকারই তো বেতন কমিশন ও কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে অভিরূপ সরকারকে নিয়োগ করেছে। সেই বেতন কমিশন যখন চার বছর ধরেও এই কাজ সমাপ্ত করতে পারছে না, তাহলে তা যে কত অযোগ্য তা তো কমিশন নিজেই প্রমান করে দিচ্ছে। সারা ভারতবর্ষের কোথায় চার বছর ধরে বেতন কমিশন চলছে – খুঁজে বের করুন তো! তাহলে এই অযোগ্য কমিশনকে কেন মুখ্যমন্ত্রী দিনের পর দিন পয়সা দিয়ে পুষছেন?

সুবীরবাবু আরও বলেন, আমরা আগেই জানিয়েছিলাম, বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে অভিরূপবাবু সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। আর চার বছর ধরে ব্যর্থ একজনকে সমানে সরকারি টাকায় পুষে যাওয়ার পরে – ‘রিপোর্ট জমা পরে নি’ বলে মুখ্যমন্ত্রী কি সত্যিই দায় এড়াতে পারেন? তাছাড়া শুধু বেতন কমিশন কেন, যে কোন কমিশনের মাথাতেই সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিচারপতিদের বসানো হয়। সেখানে বেতন কমিশনের মাথায় হঠাৎ করে কেন কেন্দ্রীয় বেতনভুক অভিরূপবাবুকে বসানো হল? কেন চার বছর ধরে ক্রমাগত ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁকেই সেই দায়িত্বে রাখা হচ্ছে? সরকারি কর্মীদের স্বার্থরক্ষা করতে যিনি ব্যর্থ, কার স্বার্থে তাঁকে এই নিয়ে একটি কথাও বলছেন না মুখ্যমন্ত্রী?

তবে সুবীরবাবুর অভিযোগ এখানেই শেষ নয়! তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ‘টাকা নেই’! কিন্তু রাজ্য বাজেট অনুযায়ী জিএসটি থেকে যায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ধরা ছিল, যেখানে রাজ্য সরকারের আয় হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। রাজ্য সরকারই জানিয়েছে মদ বিক্রি থেকে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা যায় হয়েছে। তাছাড়া, কেন্দ্র সরকার যে ট্যাক্স আদায় হয়, তার ৪২% রাজ্যকে দেয়, যা বাম আমলে দেওয়া হত না! তবে এত কিছু থেকে যেখানে রাজ্যের বাড়তি রাজস্ব দেখা যাচ্ছে, তখন সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ন্যায্য পান দেওয়ার সময় শুধু ‘টাকা নেই’ বললে কি করে হবে?

সুবীরবাবুর ‘বিস্ফোরণ’ এখানেই থামে না! তিনি আরও বলে চলেন, মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন আমাদের ন্যায্য পাওনা মেটাতে গিয়ে ‘গরিব মানুষকে ভাতে মারতে পারবেন না’! কিন্তু, এটা তো ওনার রাজনীতি হয়ে গেল! সারা ভারতবর্ষের অন্যসব রাজ্যে তো কেন্দ্রীয়হারে ডিএ ও পে-কমিশন দেওয়া হয়, কোন রাজ্যে এর জন্য ‘উন্নয়ন’ স্তব্ধ হয়ে গেছে? আসলে গরিব মানুষের কথা বলে, উনি সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের বঞ্চনার ব্যাপারটা লঘু করে দিতে চাইছেন। কিন্তু, বঞ্চিত হতে হতে আমাদের দেওয়ালে পিঠ থেকে গেছে, তাই মুখ্যমন্ত্রী যখন ঘুরিয়ে জানিয়েই দিয়েছেন পে-কমিশনের চেয়ারম্যান ‘অযোগ্য’, তখন আগামী দিনে আমরা দলমত নির্বিশেষে অবিলম্বে পে-কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।

Top
error: Content is protected !!