এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুজের মুখে সুখবর- একলম্ফে নিয়োগ হতে পারে ৭ হাজার শিক্ষক

পুজের মুখে সুখবর- একলম্ফে নিয়োগ হতে পারে ৭ হাজার শিক্ষক

নানান আইনি জটিলতায় আটকা পড়ে কার্যত হিমঘরেই ছিল স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। তবে এ বছর গুটিগুটি পায়ে এগিয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এমপ্যানেল্ডরা চাকরি পেয়ে তাঁরা স্কুলে জয়েন করে গিয়েছেন ইতিমধ্যে। বাকি রয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ। ২০১৫ সালে উচ্চ প্রাথমিকের লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল বাকি দুটো পরীক্ষারও আগে। অথচ এই পরীক্ষার নিয়োগ প্রক্রিয়াই থমকে রয়েছে সবথেকে বেশি। তবে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে নিয়োগ সংক্রান্ত খুশি খবর এল পুজের আগেই। প্রায় ৭ হাজার বাড়তি পদ মঞ্জুর হতে চলেছে উচ্চ প্রাথমিকে। প্রায় ৬,৫০০ বাংলাভাষী শিক্ষক,২০০ জন সাঁওতালি শিক্ষক এবং আরো কিছু অন্য ভাষাভাষীরা শিক্ষক পদ তৈরি করা হচ্ছে। চলতি মাসেরই ১০ তারিখ মন্ত্রীসভার পরবর্তী বৈঠকে এই অনুমোদন পাশ করানোর প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থ দপ্তর থেকে সম্মতি পাওয়ার পরই শিক্ষাদপ্তর সেই ফাইলটি পাঠিয়েছে নবান্নের দপ্তরে। মূলত নতুন (নিউ সেট আপ) স্কুলগুলোর জন্যেই এই বাড়তি শূন্যপদ তৈরি করা হচ্ছে। এমনটাই জানা গিয়েছে কমিশন সূত্রের খবরে। তবে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে এক লাফে এতো শূন্যপদ সৃষ্টি তৃণমূল সরকারের আমলে সত্যিই নজিরবিহীন। আশায় বুক বাঁধছেন হবু শিক্ষকেরা।

এর আগে শেষবার ২০১২ সালে বাড়তি পদ অনুমোদন করা হয়েছিল। তখন উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে তিনটি করে পদ দেওয়া হয়েছিল তখন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রায় ৫০০০ নিউ সেটআপ স্কুল তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেটা আর কার্যকর হয়নি,কারণ সাধারণ স্কুলগুলির জন্যই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে ছিল বেশ কতগুলো বছর। এবার সেই পদগুলোই পূরণ করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যসরকার। যে উচ্চ প্রাথমিক পরীক্ষায় ফল প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে থেকেই ওই পদগুলো পূরণ করতে চাইছে সরকার। যুক্তি,এটাই প্রশিক্ষণহীনদের নিয়োগ করার শেষ সুযোগ। এরপর তাঁরা আর কোনো শিক্ষকতার চাকরির পরীক্ষাতে অংশগ্রহন করতে পারবেন না। তাই এবারই তাঁদের চাকরি দেওয়ার একটা চেষ্টা করছে রাজ্যসরকার।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

২০১৬ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, শুধুমাত্র উচ্চ প্রাথমিকে ইন্টারভিউ লিস্ট তৈরি পর্যন্ত যতগুলি শূন্য পদ থাকবে সেগুলি গ্রাহ্য করা হবে। তবে উচ্চ প্রাথমিকের আগে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করতে চাইছে রাজ্যসরকার। তবে শিক্ষকমহল মনে করছে,বাড়তি সাত হাজার শিক্ষক পদ আনুমোদন করা মুখের কথা নয়। এগুলো সাধারণভাবে তৈরি হওয়া শূন্যপদের সঙ্গেই যোগ হবে। এর ফলে মোর শূন্যপদ অনেকটাই বেড়ে যাবে। সুখবর তাঁদের জন্য যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন দেখছেন শিক্ষক হওয়ার। তবে এটাকে লোকসভা নির্বাচনে শাসকদলের ভোটবৃদ্ধির একটি রণকৌশল হিসাবেই দেখছে ওয়াকিবহালমহল। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় বিক্ষুব্ধ চাকরি প্রার্থীদের অসন্তোষের কারণ রাজ্যসরকার। এবার তাঁদের জন্য বাড়তি শূন্যপদ সৃষ্টি করেই লোকসভা ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে,উচ্চ প্রাথমিক নয়,উচ্চ মাধ্যমিকে এই বাড়তি শূন্যপদ তৈরি করার বেশি প্রয়োজন ছিল,এমনটাই জানালেন বিটিইএ-সহ সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল। তবে প্রশিক্ষণহীনদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার রাজ্যসরকারের এই উদ্যোগে আদতে কাদের স্বার্থসিদ্ধ হবে,তা সময় আসলেই বোঝা যাবে বলেই মনে করছেন তিনি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!