এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > গেরুয়া ঝড় সরিয়ে বড়সড় জয় পেল তৃণমূল, জেনে নিন কোথায়?

গেরুয়া ঝড় সরিয়ে বড়সড় জয় পেল তৃণমূল, জেনে নিন কোথায়?

2019 এর লোকসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর গেরুয়া শিবির পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন তৃণমূলের ডেরায় হানা দিতে শুরু করেছিল‌। অন্যদিকে, লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর বাস্তবেই তৃণমূল গেরুয়া শিবিরের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ছবিটা পাল্টে গেলো। কিছুটা পিছিয়ে পড়া তৃণমূল দল হঠাৎ করেই আবার সামনে চলে এলো এদিন।

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভোটে সবুজের রমরমা। যে গেরুয়া শিবিরের থাবা টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে পড়েছিল তা হঠাৎই হয়ে গেছে ভ্যানিশ। টলিউডের ইন্ডাস্ট্রিতে আবার তৃণমূল কংগ্রেসের জয় জয়কার। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন অর্থাৎ ইম্পার নির্বাচনে আবারো তৃণমূল দল পুনরায় ক্ষমতায় এলো।

বুধবার ইম্পার নির্বাচন নিয়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। তৃণমূলের সাথে বিজেপি শিবিরও এই ভোটে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু ভোটের ফল ঘোষণার সাথে সাথেই দেখা গেল চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কলাকুশলী এবং টেকনিশিয়ানদের ফোরামের দায়িত্বে পুনরায় ফিরে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গেরুয়া শিবির পুরোপুরি মুছে গেছে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি থেকে। এই ঘটনায় তৃণমূল সমর্থিত কলাকুশলী, শিল্পিরা তুমুল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।

ভোটের মোট আসন সংখ্যা ছিল 21 টি। এবং 21 টির মধ্যে 21 টিতেই জিতেছে তৃণমূল। বিজেপি একটি আসনও বাগে আনতে পারেনি। ফলে ভোটের রেজাল্ট তৃণমূল – 21, বিজেপি – 0। সম্প্রতি টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে গেরুয়া শিবিরের চলাচল দেখা গেছিল বহুলাংশে। অনেকেই ভেবেছিলো, টলিগঞ্জে এবার থাবা বসাবে বিজেপি। যেভাবে 2019 এর লোকসভা ভোটে তৃণমূল সরকার কে কোণঠাসা করেছিল বিজেপি শিবির,সেই একই পথে আবার আসবে বিজেপি ঝড়।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

বাস্তবে হয়েছে সম্পূর্ণ উল্টো। বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে একটি আসনও টলিপাড়ায় দখল হয়নি। টলিপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের রেজাল্ট নিঃসন্দেহে তাঁদের মনে বেশ কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় তৃণমূল শিবিরে খুশির হাওয়া। আশাতীত সাফল্যের পর বিজয়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানান, পশ্চিমবঙ্গের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সবুজে সবুজে ছয়লাপ হয়ে যায় ইম্পা হাউস। প্রেসিডেন্ট প্রিয়া সেনগুপ্ত (দাস) বলেন, ‘আমরা এই জয়ে খুব খুশি। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আমাদের পাশে রয়েছেন। সর্বোপরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।’

2019 এর লোকসভা ভোট পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গে দুই দলের সংঘাত সর্বজনবিদিত। অর্থাৎ, ঘাসফুল ও পদ্মফুল। পদ্ম শিবির তৃণমূলের কাছ থেকে শুধু রাজনীতির ময়দান নয়, যেকোনো জায়গাতেই তৃণমূলের আধিপত্যকে খর্ব করতে চেয়েছিল। বস্তুত, টালিগঞ্জের তারকামহল থেকে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন তারকা বিজেপি শিবিরে যোগদান করেছেন। ফলে জল্পনা ক্রমশ বেড়েছিল সবার মনেই। ধারণা তৈরি হয়েছিল, এবারের ভোটে টলিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির দখল নেবে বিজেপি। তবে বাস্তবে সমস্ত জল্পনার অবসান করে বিনোদন জগতে তৃণমূলের আধিপত্য একইভাবে বজায় রইলো।

ইম্পার ভোট ছোট হলেও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই জয় এই মুহূর্তে তৃণমূলের জন্য খুবই দরকার ছিল। একের পর এক ঘটনায় তৃণমূল সরকার ছিল যথেষ্টই চাপে। একাধারে দুর্নীতি, কাটমানি ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে ফেলেছিল অস্বস্তিতে। এই জয় তৃণমূল কংগ্রেসকে সেই অস্বস্তিজনক অবস্থা থেকে মুক্তি দিল কিছুটা হলেও। মনে করা হচ্ছে, এই জয় থেকে তৃণমূল শিবিরে কিছুটা অক্সিজেনের সঞ্চার হলো। জয় পরবর্তীকালে এখনো পর্যন্ত বিজেপির শিবিরের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীকালে এই জয়কে তৃণমূল সরকার কিভাবে কাজে লাগায়, তা দেখার জন্য তামাম রাজনৈতিক মহল এখন অপেক্ষারত।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!