এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা, তারপর দেখে নেওয়ার হুমকি তৃণমূল নেতার – জোর শোরগোল রাজ্যে

গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা, তারপর দেখে নেওয়ার হুমকি তৃণমূল নেতার – জোর শোরগোল রাজ্যে

গত রবিবারই লোকসভা নির্বাচনের সমস্ত পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। তারপরই রবিবার সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থা এবারের নির্বাচনের ফলাফল কি হতে পারে সেই ব্যাপারে তাদের সমীক্ষা প্রকাশ করতে শুরু করে। যেখানে দেখা যায় কেন্দ্রে এবার ফের এনডিএর সরকার ক্ষমতায় আসছে, ঠিক তেমনি রাজ্যের বেশ কিছু কেন্দ্র দখল করতে চলেছে বিজেপি।

যেখানে বিগত লোকসভায় রাজ্যে বিজেপির দুটি কেন্দ্র দখল করেছিল, সেখানে সমীক্ষায় দেখা গেছে এবার বিজেপি 11 থেকে 22 টি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসতে চলেছে। আর এই এক্সিট পোল প্রকাশ্যে আসার পরই তা নিয়ে তোপ দাগতে দেখা যায় তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গোটা এক্সিট পোলকে গসিপ এবং বিজেপির চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাশাপাশি শাসক দলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য সোশ্যাল সাইটে “কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। 42 এ 42 টা আসন পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের নির্ণায়ক শক্তি হবে” বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। আর এবার এক্সিট পোল নিয়ে গোটা সমীক্ষাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে রীতিমত হুঁশিয়ারি ও হুমকি দিতে দেখা গেল আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল সভাপতি মোহন শর্মা এবং তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীকে।

সূত্রের খবর, এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল সভাপতি সংবাদমাধ্যমকে পেইড মিডিয়া বলে সম্বোধন করেন। বস্তুত, বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী দশরথ তিরকিকে হারিয়ে সেখানে জয় লাভ করছে বিজেপি জন বার্লা। আর এতেই রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “গননা পর্যন্ত আমরা ঠান্ডা মাথায় সব সহ্য করছি। আমরা এক্সিট পোল মানি না। এখানে আমাদের প্রার্থী কমপক্ষে 1 লাখ ভোটে জয়লাভ করবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী ইলেকশনের কাউন্টিং শেষ করে চলে যাবে। তারপর কিন্তু আমরা ছাড়ব না।”

কিন্তু তারা কি ছাড়বেন না! এই প্রশ্ন করাতে সৌরভ বাবু বলেন, “সেটা গণনার পরই দেখতে পাবেন।” আর তৃণমূল বিধায়কের এহেন মন্তব্যকেই এবার হুমকি হিসেবে মনে করতে শুরু করেছে একাংশ।

বিজেপির দাবি বিজেপিকেই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। কেননা যারা এতদিন লুকিয়ে ছিলেন এক্সিট পোল্ দেখে তারাও প্রকাশ্যে বিজেপির হয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাছাড়া এতদিন তৃণমূলের অন্দরেই এই অভিযোগ চলেছে দলে তৃণমূল সেজে থাকলেও অনেকে আছে যারা ভেতরে ভেতরে বিজেপিকে সমর্থন করছেন ফলে এদিন কি তাদেকেও হুঁশিয়ারি দিলেন এই সব নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। জানি সাধারণ মানুষ যারা বিজেপিকে ভোট দিতে জেতাতে চলেছেন যদি এক্সিট পোল এর কথা সত্যি হয় তবে তাদের উপর কি নেমে আসবে বিপর্যয়, নাকি এবার গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদমাধ্যম কেই দেখে নেওয়ার হুমকি দিলেন ? প্রশ্ন রাজনৈতিকমহলের।

তবে তৃণমূলের দাবি সব কিছুকেই বেশি করে দেখানো হয়েছে তারা জিতবে আর তাদের দিদিই প্রধানমন্ত্রী হবে। ওই সব এক্সিট পোল কিছু মানে না তারা। আর সৌরভঅনুগামীদের দাবি দাদা কাউকে মারবো তো বলেন নি।তবে “কাউকে ছাড়বো না” এই ছাড়বো না – র মানেটা কি তার সদুত্তর কিন্তু তারা দিতে পারেন নি।

অনেকে বলছেন, নির্বাচনের পর প্রতিবারই এক্সিট পোল প্রকাশিত হয়। কিন্তু সেই এক্সিট পোলই যে বাস্তবে রূপ নেবে এমনটা নয়। তৃণমূল যখন জয়লাভ করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তখন সেই এক্সিট পোল দেখে তারা বিভ্রান্ত হবেন কেন! আর কেনই বা এই ভাবে ভোট গণনার পর তারা জয় লাভ করে সকলকে দেখে নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেবেন! এটা কি গণতন্ত্রের পরিপন্থী নয়?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ এই সংবাদমাধ্যম। তাই এক্সিট পোল দেখে তৃণমূলের নেতারা যেভাবে সেই সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে যেভাবে হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছেন, তা এককথায় নজিরবিহীন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!