এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > দালালরাজ নিয়ে খবর পেতেই সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসরে খাদ্যমন্ত্রী, নথিপত্র নিয়ে কড়া নির্দেশিকা

দালালরাজ নিয়ে খবর পেতেই সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসরে খাদ্যমন্ত্রী, নথিপত্র নিয়ে কড়া নির্দেশিকা

লোকসভা ভোটের আগে দালালরাজ রুখতে এবার আসরে নামলেন খাদ্যমন্ত্রী। এই মুহূর্তে ফড়েবাজদের রমরমা জলপাইগুড়িতে। সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কিনে কেন্দ্রে চাষীদের বঞ্চিত করে ধান বিক্রি করছে ফড়েরা এমন অভিযোগ কানে আসতেই উত্তরবঙ্গ পাড়ি দেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এদিন জলপাইগুড়ির মেটেলি, মাল, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি এই চারটি কৃষকবাজারে গিয়ে ধান ক্রয়ের বিষয়ে খোঁজখবর নেন তিনি।

ধান বিক্রি করা নিয়ে যাবতীয় সমস্যার কথা চাষীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে জানেন তিনি। অভিযোগে জানতে পারেন স্থানীয় অনেক মানুষই চাষের ধানের সঙ্গে কেনা ধান মিশিয়ে বিক্রি করছে। এটা শুনেই মন্ত্রী চাষীদের সব নথিপত্র খতিয়ে দেখে ধান কেনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি জেলা ও প্রশাসনের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং পুলিসদের বলেন ফড়েরাজ দমনে সতর্ক হতে।

সন্দেহজনক কিছু নজরে এলেই তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। চাষিদের কাছে একটি ফড়েও যাতে অভাবী বিক্রির সুযোগ নিয়ে মুনাফা লুটতে না পারে সেদিকে সচেতন থাকতে বলেন জনপ্রতিনিধিদের। এই ধান বিক্রি করতে গিয়ে প্রকৃত চাষী যাতে কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হম সেদিকেও নজর দিতে বলেন। এদিন বর্গাদার বা ভাগচাষীদের ধান বিক্রির জন্য জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশপত্র দেওয়ারও নির্দেশ দিলেন খাদ্যমন্ত্রী।

স্পষ্টভাবে খাদ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়ে দিয়েছেন, চাষীদের কাছ থেকে ধান কেনার জন্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা দিয়েছেন। তাই প্রত্যেক চাষীদের সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। একজন চাষির কাছে ৯০ কুইন্টাল পর্যন্ত ধান কিনতে হবে এবং ১৭৫০ টাকা কুইন্টাল ছাড়াও উৎসাহভাতাবাবদ আরও ২০ টাকা করে দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

ফড়েদের কোনোভাবেই ধানক্রয়ের মধ্যে প্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না। তাই এই সমস্যার মোকাবিলা করতে খাদ্যদপ্তরের ভিজিলেন্স এবং সাদা পোশাকের পুলিশদের নজরদারি করার নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত,চলতি আর্থিক বছরে ধান কেনা শুরু হয়েছে ১ নভেম্বরে থেকে। এটা চলবে ২০১৯ এর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। রাজ্যের ১৫ টি জেলায় এফসিআই মিড ডে মিলের চাল দিচ্ছে না। সেই চাল সরবরাহ করতে হচ্ছে রাজ্যকে।এরজন্যে কেন্দ্রের কাছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে, এমনটাই দাবী জ্যোতিপ্রিয় বাবুর। তিনি আরো জানান, রাজ্য সরকার এখন যে পদ্ধতিতে ধান ক্রয় করছে, তাতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চাষির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকে যাচ্ছে।

এর পাশাপাশি জেলা সফরে এসে তিনি আরো জানান, জলপাইগুড়ি জেলায় চা বাগানগুলিতে সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এখনো ডিজিটাল রেশন কার্ড পাননি প্রায় ৩২ হাজার মানুষ। কার্ড না থাকা ওইসব মানুষগুলো রেশনে এখনো দু’টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছেন না। এদেরকে অবিলম্বে ডিজিটাল রেশন কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দেন খাদ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গে আরও জানান, এখনো পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ৩ লক্ষ ২০০০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। শুধুমাত্র জলপাইগুড়িতে ১ লক্ষ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এবং সারা রাজ্যে এবছর ৫২ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্যদপ্তর, এমনটাই জানালেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

ফড়েবাজদের সাবধান করে দিতেই তিনি এদিন বলেন, হঠাৎ করে কাউকে কিছু না জানিয়েই একদিন তিনি ধান ক্রয়কেন্দ্রে আসবেন। মন্ত্রীর এই হুঁসিয়ারীর পর জেলায় সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দালালরাজের অবসান হবে, এমনটাই আশা করছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্বরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!