এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > খাদ্যসামগ্রীর সঠিক গুণগত মান ও পরিমাণ এবং রেশন ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত জানালেন খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যসামগ্রীর সঠিক গুণগত মান ও পরিমাণ এবং রেশন ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত জানালেন খাদ্যমন্ত্রী

রাজ্যের কোনো মানুষ যাতে খাদ্যাভাবে না থাকেন সেদিকে কড়ার নড়রদারি চালাতে নির্দেশ রেশন ডিলারদের। পাশাপাশি রেশনের খাদ্যসামগ্রীর গুনগত এবং পরিমানগত মান বজার রাখারও সতর্কতা জারি করলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এর সঙ্গে এটাও জানিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তে ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশন বাড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গতকাল খাদ্যভবনে রেশন ডিলারদের কয়েকটি সংগঠনকে বৈঠকে ডেকে এমনটাই জানিয়ে দিলেন খাদ্যমন্ত্রী।

এবছর এখনো পর্যন্ত রেশনে নিম্নমানের চাল-ডাল দেওয়ার অভিযোগ সেভাবে না উঠলেও আগে থেকেই রেশন ডিলারদের সতর্ক করে দিলেন খাদ্যমন্ত্রী। আগের বছর এই ইস্যু নিয়েই বেশ হইচই পড়ে গিয়েছিলো রাজনৈতিকমহলে। কিন্তু এবছর সেরকম পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না তৃণমূল সরকার। কারণ কয়েক মাস বাদেই লোকসভা ভোট৷ তাই দলীয় ভাবমূর্তিকে স্বচ্ছ রাখতেই রেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে এড়াতেই আগে থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে গেল খাদ্যদপ্তর।

রেশনে কম ওজনের চাল দেওয়া নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে বলেই বৈঠকে জানালেন খাদ্যমন্ত্রী। এক শ্রেণীর ডিলাররা বরাদ্দের কম চাল-গম গ্রাহকদের দিচ্ছেন। দু’টাকা কেজি দরের চাল-গম বেশি টাকা দরে বিক্রি করছে বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রেশনের পন্যসামগ্রী বেশি দামে খোলা বাজারেও বিক্রি করছে এসব ডিলাররা।

নিম্নমানের চাল-গম সরবরাহ করার অভিযোগ তোলেন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু।অন্যদিকে,এম আর ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ কোলে দাবি করেন, গুণগত মান খারাপ হওয়ার জন্য রেশন ডিলাররা দায়ী নন। তবে এই দুর্নীতিমূলক কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন খাদ্যমন্ত্রী।

বৈঠক সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, এখনো পর্যন্ত রাজ্যে ৮ কোটি ৭৭ লক্ষ রেশন কার্ড ইস্যু হয়েছে। এখনো যারা রেশন কার্ড পাননি,তাদের সমস্ত তথ্য জানতে বলা হয়েছে ডিলারদের। তবে ডিলারদের তরফ থেকেও জানা গিয়েছে,নতুন রেশন কার্ড ইস্যু হলেও অনেকেই তাদের বরাদ্দের খাদ্যসামগ্রী নিচ্ছেন না। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য খাদ্যদপ্তরের কাছে জমা করতে বলা হয়েছে ডিলারদের।

তবে ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশন এখন বাড়ানো হবে না-শুনে বেশ হতাশ হয়ে পড়েন ডিলাররা। এব্যাপারে তারা অসন্তোষও প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে আগামী সপ্তাহে বৈঠক ডেকে কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে,বলেই জানা গিয়েছে রেশন ডিলার সংগঠন সূত্রে।

ফেয়ার প্রাইস ফেডারেশন কয়েকদিন আগে খাদ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে কুইন্টাল প্রতি কমিশন ১৬২ টাকা বৃদ্ধি করে ২৪৯ টাকা করার দাবি জানিয়েছিল। এটা দাবী মানা না হলে রেশন দোকান লাভজনকভাবে চালানো যাবে না বলে জানানো হয়। আগামী মাসের শুরুতেই রাজ্যে পাইলট প্রকল্প হিসাবে ৩৬৫ টি রেশন দোকানে ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব সেলস যন্ত্রেস মাধ্যমে বেচা-কেনা শুরু হবে। এই যন্ত্র চালু হলে দোকান চালানোর খরচ আরো বাড়বে বলেই জানিয়েছেন রেশন ডিলাররা। আগামী দিনে এই যন্ত্র রাজ্যের সব দোকানে বসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য,সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের জঙ্গলখাসে অনাহারে সাত শবরের মৃত্যু রাজ্য সহ নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে৷ স্বাভাবিকভাবেই অভিযোগের আঙুল উঠেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। রাজ্যে তৃণমূল শাসনে উপেক্ষিত উপজাতি সম্প্রদায়, এমনটাই অভিযোগ ছিল বিরোধীদের৷ সঙ্গে এটাও জানিয়েছিল যে খাদ্যের অভাবে মৃত্যু রাজ্যের চরম অবনতিকেই দর্শায়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এই অভিযোগ লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যে যথেষ্ট৷ তাই লোধা,শবর সহ প্রভৃতি আদিবাসী জাতির লোকেরা যাতে অপুষ্টির শিকার না হন,তাই এবার থেকে রেশনের মাধ্যমে ডাল,সয়াবিন দেওয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে দপ্তরের। মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করছেন। খাদ্যদপ্তরে প্রতি নেত্রীর সাফ নির্দেশ রয়েছে,রেশনের চাল-গম পাওয়া নিয়ে আর একটা অভিযোগও যেন নেত্রীর কানে না পৌছায়। নেত্রী সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেই এদিনের বৈঠকে রেশন ডিলারদের কড়া নজর রাখতে বললেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!