এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আগামী লোকসভা ভোটের বৈতরণী পার হতে দলের কোন পাঁচ জন নেতার ওপর ভরসা রাখতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

আগামী লোকসভা ভোটের বৈতরণী পার হতে দলের কোন পাঁচ জন নেতার ওপর ভরসা রাখতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

নতুন বছর পরে গেছে। আর এই নতুন বছরেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে লোকসভা নির্বাচন। আর সারা দেশে অনুষ্ঠিত এই লোকসভা নির্বাচনে গোটা দেশের সঙ্গে এখন সকলের চোখ রয়েছে এই বাংলার দিকেও। কেননা বর্তমানে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি।

এমনকি তৃণমূলের একদি সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পরিচিত মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি বাড়তে শুরু করেছে। আর তাই এহেন একটা পরিস্থিতিতে সেই তৃণমূলেরই একসময়কার ভোট ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত মুকুল রায়ের অনুপস্থিতিতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচন নিজেদের ভোটব্যাংক মজবুত রাখতে ঠিক কাদের কাদের উপর ভরসা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

দলীয় সূত্রের খবর, এই লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল ভরসা রয়েছে দলের পাঁচ নেতার ওপর। যার মধ্যে রয়েছেন,

১)অভিষেক ব্যানার্জি : ব্যক্তিগত সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো বলে পরিচিত হলেও দিনকে দিন তৃণমূলের অন্দরে দাপট বাড়ছে এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতির পদ সামলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় দলীয় সংগঠনের দেখভালের দায়িত্ব সেই অভিষেকের ওপরই অর্পণ করেছেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো। আর ডায়মন্ডহারবারের এই তৃণমূল সাংসদের উত্তোরত্তর দায়িত্ব বৃদ্ধির ব্যাপারটি দেখেই অনেকে নিশ্চিত যে, এবারের লোকসভা নির্বাচনে সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে অনেকটা ভরসা রাখতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২) শুভেন্দু অধিকারী: বিগত বাম আমলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের ভিত স্থাপনে মূল কারীগর ছিলেন তিনিই। বিভিন্ন লড়াই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনেও রয়েছে সেই অধিকারী পরিবারের হাত। এদিকে দ্বিতীয়বারের জন্য 2016 সালে ক্ষমতায় এসেই সেই শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে পরিবেশ দপ্তরও যায় তাঁর কাঁধেই। তবে শুধু মন্ত্রীপদই নয়, রাজ্যের একদা কংগ্রেস গড় হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরের মত জেলাগুলির দলীয় পর্যবেক্ষক করে দিয়ে সেখানেও ঘাসফুল ফোটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় সেই শুভেন্দুবাবুকে।

এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই পরীক্ষায় সফল হয়ে এখন সেখানে হাত শিবিরের পতাকাকে নামিয়ে জোড়া ফুলের পতাকা তুলতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তাই এবারে সেই শুভেন্দু অধিকারীর হাত দিয়েই যে সমস্ত জেলায় ঘাসফুল ফুটেছে সেই সমস্ত জেলায় লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে এই দাপুটে তৃণমূল নেতার ওপরেও ভরসা রাখতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের শাসকদলের ছাত্র এবং যুবদের আইকন বলতে এখন অভিষেক ব্যানার্জি এবং শুভেন্দু অধিকারী। তাই সেই ছাত্র-যুবকদের ভোট টানতে আগামী লোকসভা নির্বাচনে সেই শুভেন্দু এবং অভিষেকের ওপরই ভরসা করতে হবে মমতাকে।

তবে দলের অভিজ্ঞ এবং প্রবীণ নেতাদের উপরও আস্থা রেখে আগামী লোকসভা ভোটকে পার করতে চান তৃণমূল নেত্রী। যা তালিকায় রয়েছেন

 

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

৩) পার্থ চট্টোপাধ্যায়: বিগত বাম আমলে রাজ্য বিধানসভার তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বিরোধী দলনেতার পদ সামলেছেন তিনি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবেই পরিচিত পার্থবাবু। ক্ষমতায় আসার পরে তাঁকে মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামন্ত্রীর পদে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে তৃণমূলের মহাসচিবের পদেও রয়েছেন তিনি। এছাড়াও সদ্য পঞ্চায়েতে তৃণমূলের যে সমস্ত জেলায় খারাপ ফল হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম নদীয়া সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বেও রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাই এবারে লোকসভা ভোটে সেই দীর্ঘদিনের সঙ্গী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও হাতছাড়া করতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

৪) ফিরহাদ হাকিম: তৃণমূল নেত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন বলেই পরিচিত। ফিরহাদ নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি “ববি” বলেই খ্যাত। বর্তমানে একদিকে যেমন কলকাতা পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে অর্পণ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তেমনি রাজ্য মন্ত্রিসভার পুর দপ্তর সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বও তাঁর হাতে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সুদূর উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের মত একাধিক জেলাগুলির সাংগঠনিক দায়িত্ব সেই প্রিয় ববির উপরেই দিয়েছেন তৃনমূল নেত্রী। তাই সব মিলিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত গুড বুকে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।

সর্বশেষ ব্যক্তিটি হলেন

৫) অনুব্রত মণ্ডল: রাজ্য রাজনীতিতে তিনি বিতর্কিত নেতা বলেই পরিচিত। কখনও বিরোধীদের পাচনের বাড়ি দেওয়া, তো কখনও রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে থাকার কথা বলে বিভিন্ন সময় খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। এমনকি এই ব্যাপারে দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনেক সময় বকুনিও খেতে হয়েছে ভাই কেষ্টকে। তবে বিরোধীদের কুপোকাত করতে সেই কেষ্ট যে একাই যথেষ্ট তা ঘনিষ্ঠমহলে বারে বারে বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি অপেক্ষাকৃত কম সংগঠন রয়েছে যেসব জেলায় সেই জেলার নেতাদেরও “কেষ্টকে দেখে আপনাদের শেখা উচিত” বলেও মন্তব্য করেছেন।

সম্প্রতি বীরভূম জেলা সফরে এসেও তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর আশীর্বাদের হাত এখনও রয়েছে ভাই কেষ্টর মাথায়। এদিকে বীরভূমের দুটি লোকসভা কেন্দ্রে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে এবার তৃণমূল জিতবে বলেও বারে বারে মন্তব্য করে দলকে আশ্বস্ত করেছেন সেই বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টও। তাই সব মিলিয়ে এখন সেই বীরভূমের অনুব্রতকেও লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করাতে দরকার মমতা বন্দোপাধ্যায়ের।

তবে এতসবের পরেও শাসক দলের একাংশের মতে, রাজ্যের 42 টি কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবার প্রচারে নামলে সেই 42 টি কেন্দ্রেই জয় পাবে তৃনমূল। তবে শাসক দলের নেতারা যাই বলুন না কেন, এত সবাইকে নামিয়ে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এরাজ্যে থেকে ঠিক কত আসন পায় তা দেখা যাবে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের ভোট বাক্স খোলার পরই।

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!