এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > নারী দিবসে অন্য চমক – নিপীড়িত পুরুষের জন্য প্রথম বাংলা ম্যাগাজিন

নারী দিবসে অন্য চমক – নিপীড়িত পুরুষের জন্য প্রথম বাংলা ম্যাগাজিন

নারী দিবসের দিনেই পুরুষ সমাজের জন্য উপহার নিয়ে এলো বাংলা তথা কলকাতা । পুরুষ অধিকারের দাবিতে ইতিমধ্যেই এ বঙ্গে সাড়া জাগিয়েছে অভিযান । এবার তাদেরই হাত ধরে “পুরুষ কথা” নামে ভারতবর্ষের সর্বপ্রথম পুরুষ বিষয়ক বাংলা পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটল কলকাতা প্রেস ক্লাবে । অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা গৌরব রায়, মুখপাত্র নন্দিনী ভট্টাচার্য্য, আইনি উপদেষ্টা সুপালি চক্রবর্তী, কবি বীথি চট্টোপাধ্যায়, পত্রিকার সম্পাদক দেবাংশু ভট্টাচার্য্য সহ প্রমুখ সঙ্গীত শিল্পী, টলিউড অভিনেতা ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ ।

কেনো হঠাৎ পুরুষ অধিকার আন্দোলন ? গুরুদাস কলেজের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক তথা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা গৌরব রায়ের মতে, কলেজ জীবনে তার উপর নেমে আসা এক মিথ্যা শ্লীলতাহানির ঘটনাই তাকে এমন একটি আন্দোলনের পথে নিয়ে আসতে বাধ্য করে । গৌরব বলেন, মাতৃভূমি লোকাল থেকে শুরু করে আজ অবধি, আন্দোলনের এই পথে বহু নির্যাতিত, নিপীড়িত, গণমাধ্যম অবহেলিত পুরুষ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছে অভিযান । তিনি বলেন, নিপীড়িত পুরুষদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমাজে লিঙ্গ নিরপেক্ষ আইন প্রতিষ্ঠা, পুরুষ কমিশন ও পুরুষ মন্ত্রণালয় গঠনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে চাপ দেওয়া অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ।

সংস্থার মুখপাত্র তথা সমাজ বিশ্লেষক নন্দিনী ভট্টাচার্যর মতে, পুরুষের কথা বলবার জায়গা বড্ড কম । রক্ষক কিংবা ভক্ষকের তকমার মাঝে সীমাবদ্ধ পুরুষ সমাজের এবার খোলা আকাশ প্রয়োজন, এবং সেই খোলা আকাশ হতেই অভিযানের জন্ম । ব্যক্তিগত ভাবে নিজেকে “পুরুষের পক্ষে” বলেও শেষে তিনি যুক্ত করেন, অভিযান আদপে প্রকৃত লিঙ্গ নিরপেক্ষতার পক্ষে; কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের পক্ষে বা বিপক্ষে নয় ।

চেনা ছকের থেকে একটু ভিন্ন স্বাদের এই পত্রিকার ব্যাপারে পত্রিকার সম্পাদক দেবাংশু ভট্টাচার্য্য বলেন, এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পর তিনি কিছু একটার অভাব বোধ করছিলেন । এরপরেই তিনি গৌরবকে সমাজের সামনে এরূপ একটি পত্রিকা আনার অনুরোধ করেন, যেখানে নিপীড়িত পুরুষ তাদের কলম ধরবে, পুরুষ জাতিকে ভুলতে বসা কবি, সাহিত্যিকরা তাদের শব্দের ভাগ পুরুষকুলের যন্ত্রণাতেও বরাদ্দ করবেন । সম্পাদকের বক্তব্য অনুযায়ী পুরুষ কথা পত্রিকায় যেমন পুরুষ বিষয়ক সাহিত্য থাকছে, তেমনই থাকছে সাধারণ মানুষের কলম ধরার স্থানও । তার বিশ্বাস, এই পত্রিকা আগামী দিনে বাংলার প্রতিটি পুরুষের মুখপত্র হয়ে উঠবে ।

অনুষ্ঠানে পত্রিকা প্রকাশের পাশাপাশি নির্যাতিত ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসা পুরুষদের জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়, যেটি হল 83-3500-3500 । এছাড়াও বিটি রোডের উপর, সোদপুরের স্বদেশী মোড়ের কাছে সংস্থার প্রধান কার্যালয়েও যেকোনো সাহায্য প্রার্থী আসতে পারেন বলে জানানো হয় সংস্থার তরফে । অনুষ্ঠানে মিথ্যা মামলার শিকার বহু পুরুষ তাদের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন ।

পত্রিকার লেখক সূচী এবং প্রকাশ অনুষ্ঠানে মহিলাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মত । উদ্বোধনী আবৃত্তি করতেও দেখা যায় এক তরুণীকে । সভায় উপস্থিত বন্দনা দাস নামে এক মহিলা জানান, বিয়ের পরেই তার নতুন স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জানতে পারেন তার ভাই । শ্বশুরবাড়ির তরফে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে বলা হলে নতুন বউ ৪৯৮ এ তে মামলা ঠুকে দেন বলে অভিযোগ । ২০০৯ এর সেই মামলায় দুই বছর আগে তার ভাই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন বলে জানান বন্দনা দেবী । এ ছাড়াও জিতেন বিশ্বাস, অরিন্দম সেন সহ বহু পুরুষ তাদের যন্ত্রণার কাহিনী তুলে ধরেন উপস্থিত জনতার সামনে ।

সম্পাদক জানিয়েছেন, পুরুষ কথা পত্রিকার আগামী সংখ্যা প্রকাশিত হবে ১৭ ই জুন, ফাদার্স ডে”তে ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!