এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > সরকারি প্রকল্প বন্ধে না খেতে পাওয়ার অবস্থা – গভীর রাত পর্যন্ত সিইওকে ঘেরাও এই সরকারি কর্মীদের

সরকারি প্রকল্প বন্ধে না খেতে পাওয়ার অবস্থা – গভীর রাত পর্যন্ত সিইওকে ঘেরাও এই সরকারি কর্মীদের

একেই দীর্ঘদিন ধরে ভাতা না পেয়ে আর্থিক অনটনের শিকার জলবিভাজিকা প্রকল্পের কর্মীরা, তার ওপর প্রকল্প বন্ধের ঘোষণায় অথৈ জলে পড়লেন তাঁরা। নানান আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে তাঁদের। ভবিষ্যৎ প্রশ্নচিহ্নের মুখে! এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে বকেয়া ভাতা মেটানো সহ একগুচ্ছ দাবীতে সরব বিক্ষুব্ধ কর্মীরা।

 

সমস্যা সমাধানে এদিন প্রকল্পের সিইও তথা কৃষি দপ্তরের সচিব পদমর্যাদার আধিকারিক সুভাষ সিনহা বাঁকুড়ায় বৈঠক করতে এলে বৈঠক শুরুর পর থেকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ভুক্তভোগী কর্মীরা। রাত পর্যন্ত প্রকল্পের সিইওকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। পরে পুলিশি তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি – সকাল ১০ টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত বৈঠক চলে। এমনটাই জানা গিয়েছে, জেলা সূত্রের খবরে।

 

অবশ্য বৈঠক সংক্রান্ত কোনো কথাই প্রকাশ করতে চাননি সুভাষবাবু। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ম্যানেজার তথা বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা (মৃত্তিকা ও জল সংরক্ষণ) দেবদাস মুখোপাধ্যায়ের তরফে জানা গিয়েছে, ২০১৯ এর মার্চ মাসে জলবিভাজিকা প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি প্রকল্পের রাজ্য মুখ্যনির্বাহী আধিকারিক (সিইও) চিঠি মারফত জানিয়েছেন। প্রকল্পের কর্মীদের ৫ মাসের ভাতা বকেয়া রয়েছে। টাকার অভাবে ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি, এমনটাই জানালেন তিনি।

 

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ২০১৩ সালের মার্চ মাস নাগাদ সুসংহত জলবিভাজিক ব্যবস্থাপন প্রকল্পের অধীনে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৪০০ জনকে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে বাঁকুড়া থেকে কাজ পান ৫৩ জন যুবক। কৃষি, বন, উদ্যানপালন, মাছ প্রভৃতি দপ্তরের আওতায় জল সংরক্ষণ, মাটি পরীক্ষা সহ চাষীদের কল্যানে বিভিন্ন ধরণের কাজে নিযুক্ত হন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, বাণিজ্য শাখায় স্নাতক, সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা।

এই প্রকল্পের আওতায় বিগত পাঁচ বছর ধরে বাঁকুড়ায় প্রায় ১৮ কোটি ৮২ লক্ষ টাকায় সাড়ে ৬০০ পুকুর খনন ও সংস্কার হয়। ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকায় ২০ হাজার চাষীকে সার, বীজ সহ অন্যান্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। চাষের জন্য ৬ হাজার ৭০০ জন চাষিকে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আওতাভুক্ত ওয়াটারশেড ডেভেলপমেন্ট এমপ্লয়ি অ্যাসোসিয়েশনের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক ঝন্টু হাজরার তরফ থেকে জানা যায়, কাজের শুরুতে এই প্রকল্পের যাতায়াত ভাতা সহ মাসে মোট ১১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হতো। বছর খানেক আগে এই ভাতার পরিমান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতোই পুজোর বোনাসও পেতেন তাঁরা।

তাঁর আরও বক্তব্য, কিন্তু বিগত পাঁচ মাস ধরে ভাতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত সমস্যার মুখে পড়েছেন তাঁরা। তার উপর প্রকল্প বন্ধের ঘোষণায় চোখে সরষে ফুল দেখছেন কর্মীরা। এঁদের মধ্যে অনেকেরই চাকরির বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। প্রকল্পের কাজে যুক্ত হওয়ায় অন্য কোনো কর্মসংস্থানের উপায় তৈরি হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সমস্যা সমাধান না করলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে ভুক্তভোগীদের। সেজন্যেই এদিন সিইও-র বৈঠক চলাকালীন কৃষিভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা।

অন্যদিকে, রাজ্য সভাপতি অভিজিৎ সিংয়ের বক্তব্য, গত ৫-৮ মাস ভাতা না পাওয়ায় সব জেলাতেই এই প্রকল্পের আওতাধীন কর্মীরা চরম আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন। বিষয়টি নিয়ে বারবার ডেপুটেশন দেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। কেন্দ্র এবং রাজ্যসরকারের যৌথ উদ্যোগেই এই প্রকল্প চলত। বর্তমানে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সম্মিলিত প্রয়াসে বহু প্রকল্প চালু রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

অভিজিৎ বাবু আরও বলেন, জলবিভাজিকা প্রকল্পের কর্মীদের এইসব প্রকল্পে নিয়োগের দাবী জানানো হয়েছে। এই দাবী পূরণ না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্যস্তরে বিক্ষোভ, ডেপুটেশন কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) সুশান্ত মহাপাত্র জানান, জেলায় কৃষি দপ্তরের তরফে রূপায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সিইও সুভাষ সিনহার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জেলার সমস্ত ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা (এডিও)। তাঁদের সকলের কাছ থেকে বিভিন্ন দাবীদাওয়া, প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্যা এবং বাস্তব পরিস্থিতির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান সুভাষবাবু। আর্থিক বছর শেষ হওয়ার মুখে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা এবং প্রকল্পের টাকা খরচের বিষয়ে জরুরি আলোচনা হয়। তবে জলবিভাজিকা প্রকল্পের বকেয়া ভাতা মেটানোর ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি এদিনের বৈঠকে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!