এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > ফের বিজেপির হাত থাকে পুরসভা ছিনিয়ে নিয়ে পুরপ্রধান বসলো বিজেপি

ফের বিজেপির হাত থাকে পুরসভা ছিনিয়ে নিয়ে পুরপ্রধান বসলো বিজেপি

2019 এর লোকসভা ভোটের পর থেকেই দলবদলের প্রবণতা বাড়ে। আর তাতে বিজেপির দিকেই সবার ঝোঁক বাড়ে। 2019 এর লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের 42 টি আসনের মধ্যে তৃণমূল দখল করতে পেরেছিল মোটে 22 টি আসন। অন্যদিকে বিজেপি, যাদের একসময় পশ্চিমবঙ্গের বুকে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল- তাঁরাই সাংগঠনিক জোরের উপর ভিত্তি করে নিজেদের আসনসংখ্যা ধরে রাখে 18 য়।

এই রেজাল্টের পর থেকেই দলীয় শিবির বদলানোর ছবি চোখে পড়ে। বিশেষ করে শাসকদল থেকে প্রচুর নেতা, সদস্যরা বিজেপিতে যোগদান করেন। ফলে বহু পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত এর রং সবুজ থেকে গেরুয়া হতে শুরু করে। তবে যে সমস্ত পুরসভা বা পঞ্চায়েত তৃণমূল এর হাত থেকে চলে গিয়েছিল, তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল তৃণমূল।

কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার ঘর বদল করে বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরে আসে সদস্যরা ফলে বিজেপি পরিচালিত বোর্ডগুলি আবার হাতবদল হয়ে চলে যাচ্ছে তৃণমূলের কাছে। একইভাবে যা হয়েছে উত্তর 24 পরগনা গারুলিয়া পুরসভার বিজেপি পরিচালিত পুরবোর্ড এর ক্ষেত্রেও।

এদিন তৃণমূল নেতা সঞ্জয় সিং গারুলিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলেন। চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিজেপির পক্ষ থেকে কেউ হাজির ছিলেন না এদিন।তৃণমূল নেতা সঞ্জয় সিং চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসেন এদিন। উত্তর 24 পরগনার গারুলিয়ার চেয়ারম্যান নির্বাচন ছিল এদিন যদিও এই নির্বাচনে বিজেপির পক্ষ থেকে কেউ অংশগ্রহণ করেননি। গত মাসের শেষের দিকে গারুলিয়া পুরসভার তৎকালীন বিজেপি চেয়ারম্যান সুনীল সিং পদত্যাগ করেছিলেন।

ঠিক 4 মাসের মাথায় গারুলিয়া পুরসভার ক্ষমতা বদল হলো। ইতিমধ্যেই নৈহাটি, হালিশহর, বনগাঁ পুরসভা তৃণমূলের দখলে চলে গেছে। এবার গারুলিয়া পুরসভাও গেল। এদিন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলের সঞ্জয় সিং চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন। বিজেপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের বিধায়ক গারুলিয়া পুরসভায় থাকলেও পুরবোর্ড নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি তাঁরা। কেউই এদিন হাজির ছিলেন না।গারুলিয়ার নতুন চেয়ারম্যান সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, এলাকার উন্নয়নে তিনি গুরুত্ব দেবেন। কেননা আর কয়েক মাস পরেই সেখানে পুর নির্বাচন।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

গত জুনে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল নেতা সুনীল সিং। তার সাথে ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত মুখোপাধ্যায় ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলর ছিলেন। মাসখানেক আগে হঠাৎই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে আসেন ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি তখন বলেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে যাঁরা বিজেপিতে গেছেন, তাঁরা কেউই ভালো নেই। তাই তিনিও চান, সুনীল সিং তৃণমূলে আবার ফিরে আসুক। দীর্ঘদিন তারা একসঙ্গে দল করেছেন বলে জানিয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

গারুলিয়া পৌরসভা নিয়ে সুনীল সিং এর পরিবারে কার্যত দ্বিমত তৈরি হয়েছে। আত্মীয় চন্দ্রভান সিং এ মাসের শুরুর দিকে তৃণমূলে যোগ দেন। অন্যদিকে তাঁর ছোট ভাইও রয়েছে তৃণমূলে। সুনীল সিং পদত্যাগের দিন জানিয়েছিলেন, যেই চেয়ারম্যান হন না কেন তাঁকে তিনি সমর্থন জানাবেন। উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সুনীল সিং এর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছিল গারুলিয়া পুরবোর্ডে। একেবারে অনাস্থার শেষ দিনে তিনি পদত্যাগ করেন।

বর্তমানে গারুলিয়া পুরসভায় 21 জন কাউন্সিলর আছেন। গত পুরসভা নির্বাচনে গারুলিয়া পুরসভায় তৃণমূল জয়লাভ করেছিল 19 টি আসনে। জুন মাসে তৃণমূলের চেয়ারম্যানসহ 12 জন বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় পুরবোর্ড বদলে যায় বিজেপিতে। তবে তিন মাসের মধ্যেই বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর তৃণমূলে ফিরে যাওয়ায় বর্তমানে গারুলিয়া বোর্ডে তৃণমূল কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে 13। অন্যদিকে বিজেপির কাউন্সিলর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে 7এ। বাকি একজন কাউন্সিলর হচ্ছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের।

লোকসভা ভোটের পর দলবদল এর ফলে বেশ কয়েকটি পুরবোর্ড, পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে আসে। কিন্তু পরপর দখলীকৃত পুর ও পঞ্চায়েতগুলি এবার তৃণমূল দখল করতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মঞ্চের হেরাফেরিতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এই ঘটনাগুলির ওপর নজর রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এইভাবে যদি একে একে বিজেপি থেকে তৃণমূলে সদস্যরা ফিরে যায় এবং পুরবোর্ড গুলি বিজেপির হাতছাড়া হয়, তাহলে 2021 এ বিজেপির জন্য যে অন্য কোনো বিপর্যয় অপেক্ষা করছে না, তা কে বলতে পারে ? ফলে অবিলম্বে বিজেপির উচিত নিজেদের সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করে তোলা। বলাই বাহুল্য, বর্তমান দলবদলে ফলে তৃণমূলের শক্তি যে বেশ কিছুটা বাড়ল, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!