এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে দুমাস বাদে?

‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে দুমাস বাদে?

আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন উপলক্ষে রাজ্যের সম্মিলিত বিরোধীদের দাবি ছিল শাসকদলের ‘লাগামহীন সন্ত্রাসের’ ফলে বহু জায়গায় তারা প্রার্থী দিতে পারেনি। মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্বের শেষে দেখা যায় রাজ্যের ৩৪% আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেছেন প্রার্থীরা এবং প্রায় সব জায়গাতেই সেই জয়তিলক গেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের ভাগ্যে। বহু জায়গাতেই জয়ীদের শংসাপত্র দিয়ে দেওয়া হয়, এমনকি সেখানে বিজয় মিছিলও হয়ে যায়। কিন্তু গত মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে সিপিএমের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দেয়, মনোনয়ন পর্বের শেষ দিন অর্থাৎ গত ২৩ শে এপ্রিল বিকেল ৩ টে পর্যন্ত রাজ্য সিপিএমের তরফে জট মনোনয়ন জমা পড়েছে তা গ্রহণ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে এবং তার মধ্যে যেগুলি বৈধ সেগুলিকে মান্যতা দিয়ে নতুন করে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে হবে।

এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেই মামলার শুনানিতে আজ সুপ্রিম কোর্ট ই-মনোনয়ন নিয়ে হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে জানিয়ে দেয়, যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে সেই ৬৬% আসনে নির্বাচন হতে কোনো অসুবিধা নেই। নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে তবে নির্ধারিত ১৪ মে তারিখেই সেই নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু বাকি আসনে অর্থাৎ ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ যেটা ৩৪% আসনে ভোটের ফলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। এরপরেই তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, ওই ৩৪% আসনের অনেককেই জয়ের শংসাপত্র দেওয়া হয়ে গিয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, যতদিন পর্যন্ত না ই-মনোনয়ন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত ওই ৩৪% আসনে বিনা নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের কোনও শংসাপত্র দেওয়া যাবে না, আর দিলেও তা গ্রাহ্য হবে না। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৩ জুলাই, তাই আগামী দুমাস ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ জিতেও শান্তি নেই জয়ী প্রার্থীদের, অপেক্ষা করতে হবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের জন্য।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!