এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের দাম পাওয়া নিয়ে বড় দাবী হেভিওয়েট মন্ত্রীর

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের দাম পাওয়া নিয়ে বড় দাবী হেভিওয়েট মন্ত্রীর

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার খতিয়ান তুলে ধরলেন রাজ্যসরকারের হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রীরা। প্রতিবছরের মতো এবছরও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের অডিটোরিয়ামে পালন করা হল বিশ্ব খাদ্যদিবস। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিপণন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত এবং ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পান্ডে, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম,পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় প্রমুখেরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী জানালেন, এবছর খারিফ মরশুমে রাজ্যের চাষীদের কাছ থেকে ৫২ লক্ষ টনের বেশি ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাষীদের কাছে কোনো ধান যাতে উদ্বৃত্ত না থাকে সেজন্যেই এটা চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাজ্যসরকার ইতিমধ্যেই ধান সংগ্রহের জন্য ৪৪৪৬ টাকা অনুমোদন করেছে। এছাড়া ধান কেনার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ১৬০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার জন্য সরকার গ্যারেন্টারও হবে আগামীতে। এমনটাই জানালেন তিনি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

অন্যদিকে,পুরমন্ত্রী জানান,এ রাজ্যে কেউ অনাহারে থাকবে না। সকলের জন্যেই খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রসঙ্গে সমালোচনা করলেন বাম জামানার। বললেন,বাম আমলের মতো আরেকটা আমলাশোলের অনাহারে মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রাজ্যে দেখতে চায় না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুব্রত বন্ধ্যোপাধ্যায় আবার রাজ্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জানালেন, পশ্চিমবঙ্গ কৃষক বিক্ষোভমুক্ত রাজ্য। আর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। উল্লেখ্য,এদিনের অনুষ্ঠানে প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোকে ফুড প্যাকেট দেওয়া হয়। যাতে ছিল চাল,ডাল,আটা ইত্যাদি প্রয়োজনীয় খাদ্য।

খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে কীভাবে বঞ্চনা করছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার। জানান,দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ধান উৎপাদনে প্রথম হলেও কেন্দ্রীয় সরকার অন্যান্য রাজ্য থেকে পরিমানে কম ধান কেনে এ রাজ্য থেকে। উদাহরণ স্বরূপ তুলে ধরলেন হরিয়ানার প্রসঙ্গ। হরিয়ানাতে কম ধান উৎপন্ন হলেও কেন্দ্র পুরোটাই কিনে নেয়। কয়েকবছর আগে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ করার পর কেন্দ্রীয় সরকার ১০ লক্ষ টন ধান কেনার প্রতিশ্রুতি দিলেও মাত্র ৪০ হাজার টন ধান কিনেছিল। শুধু ধান কেনা নয়,ধান উৎপাদনের জন্যেও বিভিন্ন খাতে রাজ্যকে কম টাকা দেয় কেন্দ্র। যেখানে পাঞ্জাব কুইন্ট্যাল প্রতি ১৬ টাকা টাকা পায় শ্রমিক খাতে,সেখানে এই রাজ্য পায় মাত্র আড়াই টাকা কুইন্ট্যাল পিছু। জানান,ইউপিএ সরকারের আমলে রাজ্য অনুমতি পেয়েছিল মোটা ধান বিদেশে রপ্তানি করার। সেসময় এ রাজ্যে চাষীরা লাভবান হয়েছিল। গতবছর বাংলাদেশেও প্রায় ৩৬ লক্ষ টন চাল রপ্তানি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সমালোচনাও করলেন মোদীসরকারের। জানালেন বামফ্রন্টের আমলে রাজ্যে প্রায় ২ কোটি টন ধান উৎপাদন হতো। কিন্তু তখন রেশনে দেওয়ার জন্য ভিন রাজ্য থেকে নিম্নমানের চাল আনা হতো। কিন্তি এখন কেন্দ্রের বিজেপিসরকারের আমলে সে সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে।

বক্তব্যে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান,পড়শি রাজ্য ঝাড়খন্ড পশ্চিমবঙ্গ থেকে চাল কিনতে ইচ্ছুক। সম্প্রতি ওই রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী বাংলায় এসে সে বিষয়েই আলোচনা করে গিয়েছেন। রাজ্যে রেশন ব্যবস্থার চাহিদা মেটানোর পরই উদ্বৃত্ত পন্য ঝাড়খন্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে সাধন বাবু খাদ্যমন্ত্রীকে বলেন,তাঁর পরিচিত এক বিধাবা মহিলা তিনবেলা খেতে পাননি। এটা শুনে খাদ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এরকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে রাজ্য সরকার। কাউকে অভুক্ত রাখা হবে না রাজ্যে। এমনকি রেশন মারফত খাদ্য পাওয়ার সুবিধার জন্য ডিজিট্যাল রেশনকার্ড এখনো যারা পাননি, তাদের পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। পুজোর মুখে রাজ্যসরকারের কাছ থেকে এধরনের আশ্বাস পেয়ে হাসি ফুটেছে চাষীদের মুখে। এবং দরিদ্রসীমার নীচে অবস্থান করা মানুষগুলোও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!