এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ – আসল সত্যিটা জেনে নিন

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ – আসল সত্যিটা জেনে নিন

গত পরশু থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট রীতিমত ভাইরাল হয়ে গেছে – যে পোস্টে দেখা যাচ্ছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ও দফা নাকি ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাঁচ দফায় হতে চলা সেই লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গেই নাকি পাঁচ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনও হতে চলেছে।

কয়েকশো পাঠকের কাছ থেকে আমরা প্রশ্ন পেয়েছি – কতটা সত্যি এই পোস্ট? বহু পরিচিত বন্ধু বা আত্মীয়ও বহু গ্রূপে কিছু না ভেবেই শেয়ার করছেন এই পোস্ট। অত্যন্ত দায়িত্ত্বশীল মিডিয়া হিসাবে আপনাদের জানাচ্ছি পোস্টটি সম্পূর্ণ ভুয়ো, কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। অনুগ্রহ করে, এই ধরনের পোস্টে বিভ্রান্ত হবেন না বা কিছু না ভেবেই ফরোয়ার্ড করে অন্যকে বিভ্রান্ত করবেন না।

পোস্টটি কেউ বা কারা অত্যন্ত চতুর ভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে প্রচার করছে। নিছক মজা করার জন্যও কেউ – এমন করতে পারে। সেগুলি খুঁটিয়ে বিচার করবেন সাইবার ক্রাইম শাখার আধিকারিকেরা। বিভিন্ন মহল থেকে বারবার প্রচার করা হচ্ছে – লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে তত এই ধরনের বিভিন্ন ভুয়ো পোস্ট দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হবে। তাই, আপনাদের অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে ও দায়িত্ত্বশীল নাগরিকের পরিচয় দিয়ে এই ধরনের ভুয়ো বার্তাযুক্ত মেসেজ রুখে দিতে হবে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কি করে বুঝবেন এই ধরনের পোস্ট ভুয়ো? আজকের সাইবার-যুগে সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। কোন খবর দেখলেই তা যদি মনের মত হয়, আমাদের সাধারণ প্রবৃত্তি সাত-পাঁচ না ভেবে তা ফরোয়ার্ড করে দেওয়া। কিন্তু ফরোয়ার্ডের আগে তিনটি কাজ করুন – স্টপ, থিঙ্ক অ্যান্ড অ্যাক্ট। অর্থাৎ, কোনো পোস্ট পেলেই দুম করে ফরোয়ার্ড করে দেবেন না – যুক্তি দিয়ে ভাবুন, ভালো করে ‘ভেরিফাই’ করুন ও তারপরে পোস্ট করুন।

যেমন এই পোস্টার ক্ষেত্রে – এটি একটু যুক্তি দিয়ে ভাবলেই বুঝতে পারবেন, এটি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সূচি। কেউ বা কারা সেই ২০১৪ টিকে শুধু ২০১৯ করে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। পোস্টের শেষে – জানানো হয়েছে লোকসভা নির্বাচনের সাথে নাকি পাঁচটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনও হবে। হঠাৎ করে ওই পাঁচটি আসনের উপনির্বাচন কেন হবে? উপনির্বাচন তো হয় কোন আসন শূন্য হলে – তা সে জনপ্রতিনিধি পদত্যাগই করুন বা মারাই যান!

২০১৪ সালে ওই পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল কারণ – কুমারগ্রামের বিধায়ক দশরথ তিরকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে লোকসভা প্রার্থী হন, ময়নাগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন, গলসির বিধায়ক সুনীল মন্ডল তৃণমূলে যোগ দিয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন, শান্তিপুরের বিধায়ক অজয় দে তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন এবং চাকদার তৃণমূল বিধায়ক নরেশচন্দ্র চাকির মৃত্যু হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে দাঁড়িয়ে – ওই পাঁচটি বিধানসভায় উপনির্বাচন হওয়ার মত কোন ঘটনা কি আপনার জানা আছে?

তাছাড়া ওই পোস্ট অনুযায়ী – এই নির্বাচন নাকি হতে চলেছে আগামী ১৭ ই এপ্রিল থেকে ১২ ই মে। অর্থাৎ এখনো ৫-৬ মাস সময় – আর নির্বাচন একবার ঘোষণা হয়ে গেলে, চালু হয়ে যায় আদর্শ আচরণবিধি। অর্থাৎ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো কাজ কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দল করতে পারবে না। সোজা কথায় বন্ধ থাকবে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি। আপনাদের বিগত অভিজ্ঞতা কি বলে? কোনো সাধারণ নির্বাচনের জন্য ৫-৬ মাস ধরে গোটা দেশ জুড়ে উন্নয়ন স্তব্ধ ছিল? আর তাই, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্টে প্রভাবিত হওয়ার আগে ভাবুন – তারপর ফরোয়ার্ড করুন। নিজে বিভ্রান্ত হবেন না – অন্যকে বিভ্রান্ত করবেন না।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!