এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > যুবককে কুপিয়ে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান, বিস্মিত পুরো এলাকা

যুবককে কুপিয়ে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান, বিস্মিত পুরো এলাকা

নৃশংস খুনের দায়ে নাম জড়ালো তৃণমূলের এক প্রাক্তন নেতার। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয়েছে এক যুবককে। খুন করার নমুনা দেখেই বোঝা গিয়েছে তীব্র আক্রোশ নিয়েই ওই যুবককে আক্রমণ করা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা। ঘটনাটি ঘটেছে মুাররই থানার বাহাদুরপুর গ্রামে। যিনি খুন করেছেন বলে অভিযোগ, তিনি ডুমুরগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান এবং বর্তমান তৃণমূল সদস্যার স্বামী খগেন মাল।

খুনের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র শোরগোল পড়ে যায় গোটা এলাকায়। এই নিয়ে গতকাল রাতেই মৃতের পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয় স্থানীয় থানায়। সেই অভিযোগের উপর ভিত্তি করেই খগেন মালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিন তাঁকে রামপুরহাট আদালতে পশে করা হয়। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য। জানা গিয়েছে, ৪০ বছর বয়স্ক মৃত যুবকের নাম গুণধর কর্মকার। তিনি বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

ঘটনার দিন সন্ধ্যেতে মুরারই থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এদিকে তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা আগেই করে রেখেছিলেন খগেন। ওইদিন অনেক আগে থেকেই গ্রামের সল্লা পুকুর পাড়ে গুনধরের জন্য অপেক্ষা করে ছিল খগেন। কাছাকাছি আসতেই ভোজালি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায় সে গুনধরকে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় গুনধনকে ফেলে রেখে চম্পট দেয় খগেন। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন স্থানীয় গুনধরের দাদা কুশ কর্মকারকে খবর দেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তারপর তিনি ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন ভাইকে। তড়িঘড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয় রামপুরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। কিন্তু প্রাণ বাঁচানো যায়নি গুনধরের, মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসক। অনুমান করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল গুনধর কর্মকারের, তাঁর মৃত্যু খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিবেশীরা। তারপরই স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে খগেন মালের নামেই কেন অভিযোগ দায়ের করলেন তাঁরা? জবাব পাওয়া গিয়েছে মৃতের দাদার তরফ থেকে।

মৃতের দাদা জানিয়েছেন, তাঁর ভাই অর্থাৎ গুনধর কর্মকার জীবিত থাকাকালীন খগেন মালের ‘নাম’ করতো। তাই তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। একসময় দুজনই সিপিএমের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তবে কেন খগেন মাল গুনধরকে খুন করেছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলেই জানালেন। অন্যদিকে, পুলিশি কড়া জেরার মুখে পড়ে ধৃত নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এটাও বলেছে, বহুদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল গুনধরের প্রতি তার – তাই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। তবে কেন খুন করা হল গুনধরকে সে কারণটা স্পষ্টভাবে জানতে খগেন মালকে আরো জেরার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করছে পুলিশ।

এদিকে খগেন মাল কীভাবে এ কাজ করল তা নিয়ে বিস্ময়প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের মুরারই-১ ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ। ঠান্ডা মাথার মানুষ হিসাবেই এলাকায় পরিচিতি আছে খগেনের এমনটাই জানান তিনি। মন্তব্যে জানালেন, ‘সে কী করে এই কান্ড ঘটাল ভাবতে পারছি না, তবে আইন আইনের পথে চলবে’। তৃণমূল ব্লক সভাপতির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, উক্ত ঘটনায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে জোড়াফুল শিবির। আর এদিকে এই খুনের ঘটনার সঙ্গে সত্যিই কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে কিনা সেদিকটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই গোটা এলাকা থমথমে আছে এখনো।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!