এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > উন্নয়ন বাহিনীর হাতে শারীরিকভাবে নিগৃহীত চুনী-পিকের সতীর্থ জাতীয় দলের প্রবীণ প্রাক্তন ফুটবলার

উন্নয়ন বাহিনীর হাতে শারীরিকভাবে নিগৃহীত চুনী-পিকের সতীর্থ জাতীয় দলের প্রবীণ প্রাক্তন ফুটবলার

গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই ‘উন্নয়ন বাহিনী’ কথাটা রাজ্য-রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে, সৌজন্যে বীরভূম জেলার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল। তবে, সেই ‘উন্নয়ন বাহিনীর’ প্রভাব বর্তমানে বীরভূম জেলার গন্ডি ছাড়িয়ে রাজ্যের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। আর এবার ‘বাংলার সংস্কৃতি’ নিয়ে গর্ব করা তৃণমূলের সেই ‘উন্নয়ন বাহিনীর’ হাতে শারীরিকভাবে নিগৃহীত হতে হল পিকে ব্যানার্জি-চুনী গোস্বামীর সতীর্থ তথা মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল খেলা ও জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা দেশের প্রাক্তন ও প্রবীণ ফুটবলার সুশীল সিনহাকে!

এই ব্যাপারে সুশীলবাবুর কন্যা পৰ্ণালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাবা (সুশীল সিনহা) কোনোদিনই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তবে নির্বিরোধী মানুষ হিসাবে এলাকায় পরিচিত বাবাকে এর আগে তৃণমূল যখনই কোনো অনুষ্ঠানে ডেকেছে, বাবা গেছেন। অথচ একসময় মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের মত বড় দলের হয়ে দাপিয়ে খেলা ও আন্তর্জাতিক স্তরে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা এই প্রবীণ মানুষটাকেই তৃণমূলের উন্নয়ন বাহিনী বাড়িতে ঢুকে মেরে গেল? এ কোন রাজ্যে বাস করছি আমরা? যিনি একসময় দেশের জন্য মাঠে নেমে ঘাম ঝরিয়েছেন, সেই প্রবীণ মানুষটিকে নিজের বাড়িতে ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের আত্মীয় ও অনুগামীরা এসে এই ভাবে মেরে যাবে? এটাই কি গণতন্ত্র?

ঠিক কি ঘটনা ঘটেছিল? প্রশ্নের উত্তরে পৰ্ণালীদেবী জানান, আমি বা আমার স্বামী দুজনেই প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমি নিজে বিজেপি প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের সহ-সভাপতি। আমার স্বামী আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির ব্যারাকপুর মন্ডলের সহ-সভাপতি। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হতেই পারি, সেটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু, এই ‘অপরাধের’ জন্য আমাকে এবং আমার স্বামীকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা উত্তম দাসের অনুগামীরা আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল, এখানে তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনো দল করা যাবে না!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

পৰ্ণালীদেবীর আরও বক্তব্য, কিন্তু, বাংলায় রাজনীতি করতে গেলে এইরকম হুমকি চলবেই – তাই ভয় পেয়ে পিছিয়ে না গিয়ে আমি বা আমার স্বামী নিজেদের আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড গন্তান্ত্রিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছিলাম। এরপর গত ৩ রা মে সন্ধ্যে-রাতের দিকে আমাদের বাড়িতেই বিজেপির আরও কিছু স্থানীয় কর্মী আসেন, তাঁদের সঙ্গে দরজা খোলা রেখেই আমরা ভোটের দিন কে কোন বুথে থাকবেন বা নির্বাচন সংক্রান্ত কার কি দায়িত্ব তাই নিয়ে আলোচনা করছিলাম। হঠাৎ উত্তম দাসের ছেলে ও ভাইপোর নেতৃত্বে গোটা পঞ্চাশেক তৃণমূলের ছেলে আমাদের উপর চড়াও হয়!

পৰ্ণালীদেবী জানান, তৃণমূলের ছেলেরা আমাদের উপর চড়াও হলেও, ঠিক কি অভিযোগ তা ওরা নিজেরাও ঠিক করে বলতে পারে না! কেউ বলে, আমরা নাকি বাড়িতে বসে বোমা বানাচ্ছি! কেউ বলে, আমরা বাড়িতে দুষ্কৃতী লুকিয়ে রেখেছি! আবার কেউ বলে, আমাদের বাড়ি থেকে টাকা পাচার হচ্ছে! প্রথম কথা – যদি এইসব কাজ সত্যিই আমাদের বাড়ি থেকে হয়, তাহলে আমরা দরজা খোলা রেখে সবাইকে জানিয়ে সেটা করব? দ্বিতীয়কথা, যদি এইসব অভিযোগ থাকে, তাহলে তো পুলিশে অভিযোগ জানানো উচিত – প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে! তারজন্য তৃণমূলের ‘উন্নয়ন বাহিনী’ নিজেদের হাতে আইন তুলে নেবে কেন? এইসব প্রশ্ন পাল্টা করতেই – আসল রূপ বেরিয়ে এল ওদের!

পৰ্ণালীদেবীর বক্তব্য, তৃণমূলের ওই বিশাল বাহিনী এরপরেই ঘরের মধ্যে তান্ডব চালাতে শুরু করে। ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি, লাঠির আঘাতে ঘরের গ্রিল বেঁকিয়ে দেয়। কাগজপত্র থেকে ব্যানার-পোস্টের ছিঁড়ে দেয়। মুখে অশ্রাব্য গালাগালির পাশাপাশি একটাই হুমকি, এখানে থাকতে গেলে তৃণমূল ছাড়া অন্য কিছু করা যাবে না। বাবা পাশের ঘরে টিভি দেখছিলেন, গন্ডগোলের জেরে উনি এই ঘরে এলে তৃণমূলের ছেলেরা বাবাকেও ঠেলে ফেলে দিয়ে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে, রেহাই দেয় না এই প্রবীণ মানুষটিকেও! এরমধ্যেই আমাদের কিছু ছেলে এলাকায় টহলরত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে খবর দেয়।

পৰ্ণালীদেবীর জানান, এতক্ষন আমাদের উপর তৃণমূলের যে বাহিনী ‘অসামাজিক কাজ করছি’ বলে তান্ডব চালাচ্ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখেই তারা কিন্তু দ্রুত ভয়ে পালায়! সেদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী সময়মত না এলে আমাদের হয়ত প্রাণেই মেরে ফেলত! তবে ঘটনার শেষ এখানেই নয়, এখনও বাড়ি থেকে বেরোলেই তৃনমূলের ছেলেরা লোহার রড বা বেসবল ব্যাট নিয়ে ফলো করছে। এমনকি আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে ভালো হবে না বলে পাড়া-প্রতিবেশীদেরও হুমকি দিচ্ছে! আমরা পুলিশে লিখিত অভিযোগ করলেও, পুলিশের তরফে প্রাথমিকভাবে কোনো সাহায্যই পাওয়া যায় নি! ৩ রা মের ঘটনা হলেও সবে দুদিন আগে, পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করে গেছে!

Top
error: Content is protected !!