এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রাক্তন হেভিওয়েট সাংসদ সহ ১৩ শীর্ষ বামনেতার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় একাধিক মামলা প্রশাসনের

প্রাক্তন হেভিওয়েট সাংসদ সহ ১৩ শীর্ষ বামনেতার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় একাধিক মামলা প্রশাসনের

লোকসভা ভোটকে টার্গেট করে বামফ্রন্টকে চাপে ফেলতে ফের নয়া কৌশল শাসকদলের। এবার সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র ডোম,ডিওয়াইএফের রাজ্য সহ সভাপতি মতিউর রহমান, এসএফআই জেলা সম্পাদক রুদ্রদেব বর্মন সহ ১৩ জন বাম নেতার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করল রাজ্যপুলিস।

অভিযোগ,৮ জানুয়ারি অর্থাৎ গত বুধবার বনধের দিন সরকারি বাস ভাঙচুর করে রাজ্যসরকারের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাঁরা। পরেরদিন তাঁদের মধ্যে দুজন ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার করে সিউড়ি সিজেএম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাঁদের চাকরির পরীক্ষা থাকায় জামিন অযোগ্য ধারার মামলা হলেও আদালত তাঁদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে রেহাই দিয়েছে। উক্ত ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ বামনেতারা।

শুধুমাত্র ধর্মঘট বানচাল করার জন্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষ বামনেতাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারার মামলা করেছিল পুলিশ,এমনটাই অভিযোগ বামফ্রন্টের। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন।

প্রসঙ্গত,বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন সহ দেশের বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন পরপর দুদিন (৮ এবং ৯ জানুয়ারি) ধর্মঘট ডাকে। ৮ জানুয়ারি অর্থাৎ হরতালের প্রথমদিন সকালে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র ডোমের নেতৃত্বে একটি মিছিল সিউড়ি পুরসভার চত্বরে ষষ্ঠীতলা মোড়ের কাছে যেতেই একটি সরকারি বাসের উপর হামলা করে।

বাসটির উপর অবাধে ভাঙচুর চালিয়ে তার সামনের কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়। এই ঘটনার অভিযোগে কেউ হতাহত না হলেও এসবিএসটিসি এবং পুলিশের তরফ থেকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে জামিন অযোগ্য ধারার মামলা দায়ের করে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৩২, ১৮৬ সহ একাধিক ধারার পাশাপাশি ৯ এমপিও, ৩/৪ পিডিপি অ্যাক্ট, ১৮ ডব্লুবি হাইওয়ে অ্যাক্টে মামলা রুজু হয়। জেলার জনপ্রিয় ১৩ জন বাম নেতার নামে এভাবে মামলা দায়ের করায় স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।

এর মধ্যে চাঞ্চল্য বাড়িয়ে পুলিস সিউড়ি পুরসভার সিপিএম কাউন্সিলার মহম্মদ ইয়াসিন আখতারের ছেলে তথা এসএফআই জেলা কমিটির সদস্য মহম্মদ আনাস আখতার ও এসএফআই সিউড়ি লোকাল কমিটির সদস্য মৌনিক দাসকে গ্রেপ্তার করে। প্রতিবাদ জানতে বামেরা প্রকাশ্যে এটাকে রাজ্যসরকারের ষড়যন্ত্র বলে ব্যাখ্যা করলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয় রাজ্যরাজনৈতিকমহলে।

এদিন আদালতে সিজেএম প্রকাশ চন্দ্র বর্মনের এজলাসে মামলাটি উঠতেই অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন করেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক আইনজীবী। অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং অভিযোগ দায়ের সময়সীমার ব্যাবধান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এদিন আদালত চত্বরে সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য গৌতম ঘোষ, সিটুর জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী সহ বাম নেতারা উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।

প্রথমে জামিনের তীব্র বিরোধীতা করেন সরকারি তরফের আইনিজীবী কেশব দেওয়ানি। কিন্তু দুজন অভিযুক্তের চাকরির পরীক্ষা রয়েছে,এই তথ্যপ্রমাণ দিয়ে তাঁদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেন অভিযুক্তদের তরফের আইনজীবী। অভিযুক্তদের আবেদন মঞ্জুর করতেই খুশি বাঁধ মানে না বামেদের।

তবে এ ব্যাপারে সরকারি আইনজীবী কেশব দেওয়াসি বলেছেন,শুধুমাত্র অভিযুক্তদের পরীক্ষা থাকার কারণে তাঁদের দুজনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। প্রত্যেককে ২ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

উল্লেখ্য, এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মহম্মদ আনাস আখতারের বাবা সিপিএম কাউন্সিলার ইয়াসিন আখতার বলেন যে,তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলে ছিলই না। মহম্মদ আনাস আখতার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার কলেজে ক্যাম্পাসিং ছিল। জামিন পাওয়ার ফলে সে ক্যাম্পাসিংয়ে বসার সুযোগ পেল। তবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য গৌতম ঘোষ।

বলেন,যেভাবে বিনা কারণে শুধুমাত্র ধর্মঘট রুখতে বামনেতাদের ফাঁসানো হল তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। রাজ্যে যে কোনো আইনশৃঙ্খলা নেই তা আরো একবার প্রমাণ হয়ে গেল। তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই দাবী করেছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে পুলিস সুপার শ্যাম সিং জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে যে আইন রয়েছে সেই সাংবিধানিক নিয়ম মেনে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা রজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তাঁরা যে পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে বলেও জানালেন তিনি।

পুলিশের স্বপক্ষে সওয়াল তুলে আইএনটিইউসির জেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, পুলিস নিজের কাজ করেছে। উল্লেখ্য,উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের বাম-তৃণমূলের আক্রমণ তথা পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার রাজনৈতিকক্ষেত্র। ক্ষয়িষ্ণু সংগঠন হলেও এ রাজ্যের মাটিতে নিজেদের ক্ষমতার জানান দিতেই ঠিক লোকসভা ভোটের দোরগোড়ায় ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘটে পথে নেমেছিল।

আর এই প্রেক্ষিতে বামনেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রাজ্যসরকার নিজেদের ক্ষমতা বুঝিয়ে দিল। এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!