এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > শুভেন্দুর সভায় থাকছেন না প্রাক্তন মন্ত্রী! দলের সঙ্গে “দূরত্ব” নিয়ে জল্পনা সর্বত্র

শুভেন্দুর সভায় থাকছেন না প্রাক্তন মন্ত্রী! দলের সঙ্গে “দূরত্ব” নিয়ে জল্পনা সর্বত্র

ছোটগল্পের একটা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শেষ হয়েও হইল না শেষ। তাই উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদে বিরোধীদেরকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে খোদ বিরোধী দলনেতা শাহিদ সিদ্দিকীকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করিয়েও সম্পূর্ণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী।

যদিও দক্ষিণপন্থীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন কোনো ব্যাপার নয়, প্রায় কংগ্রেসী দলগুলো তৈরি হওয়ার পর থেকেই এই সমস্যা ছিল। কিন্তু যখন উত্তরবঙ্গ জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব সঙ্কট তৈরি হয়েছে, লোকসভায় উত্তরবঙ্গের আটটি লোকসভা আসনের মধ্যে একটি আসনও পায়নি ঘাসফুল শিবির, তখন ছোটখাটো গোষ্ঠীকোন্দলের ব্যাপারও অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়।

প্রসঙ্গত, পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পাঞ্জিপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পর্যবেক্ষক রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা ইসলামপুরের বিধায়ক জনাব আব্দুল করিম চৌধুরী। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে দলের ভেতরে এবং বাইরে।

বলাই বাহুল্য, উত্তর দিনাজপুর জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নের সৈনিক এই করিম সাহেব। তাই তার সিদ্ধান্তকে ঘিরে রীতিমত সরগরম হয়ে উঠেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। তবে তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা অভিযোগ করেছেন, সভার জন্য নাকি তাকে ডাকাই হয়নি। সবার উদ্যোক্তারা কার্যত তাকে সাইডে রাখতেই এই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। করিমবাবুর অনুগামী হিসেবে পরিচিত তৃণমূলের ইসলামপুর টাউন কমিটির সভাপতি গঙ্গেশ দে সরকারও এদিনের সভায় ডাক পাননি। তাই তিনিও এই সভায় যাচ্ছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের 2 কান্ডারী মন্ত্রী গোলাম রাব্বানী এবং সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল এই ব্যাপারে অন্য সুর ধরেছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে গোলাম রাব্বানী বলেন, “সভাটি যেহুতু আমার বিধানসভা এলাকায় হচ্ছে, তাই অন্যান্য বিধায়কদের আমি আমন্ত্রণ জানাব। করিম সাহেবকে ইনভাইট করেছি। তার ছেলেকেও বলে দিয়েছি।” অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল বলেন, “ডালখোলায় দলের বর্ধিত সভায় গঙ্গেশবাবুকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি যাননি। আর করিম সাহেব তো আগেই সবখানে বলে দিয়েছেন যে, তিনি শুভেন্দুবাবুর সভায় আসবেন না। তাই এ নিয়ে আমি আর কি বলব!”

কিন্তু রাব্বানী এবং কানাইলাল আগরওয়াল এই দুজনের বক্তব্যকেই কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন আব্দুল করিম চৌধুরী। তবে গোটা বিষয়ের উপর বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর সভার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমি শুনতে পাচ্ছি সভায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে গাড়ি ভাড়া করা হচ্ছে। কিন্তু এইসব নিয়েও আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলে নিয়েছে। জেলায় প্রথম থেকেই দলটা করি। যারা নব্য তৃণমূল হয়েছে, তারা নিজেদের মতো করেই চলছেন। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, তাই তাদের কাছে বাদ পড়ে যাচ্ছি।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে, করিমবাবুর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসলামপুর তথা জেলা রাজনীতিতে করিমবাবু একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। একটা সময় ছিল যখন করিম চৌধুরী ও কানাইয়ালাল আগরওয়াল, দুজনেই কংগ্রেস করতেন। করিম সাহেব কিন্তু একেবারে 1998 সাল থেকেই তৃণমূলে রয়েছেন।

অন্যদিকে কানাইয়ালাল আগরওয়াল সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কংগ্রেসে থাকাকালীন তাদের দুজনের মধ্যে সদভাব ছিল না। কার্যত দুজনের মধ্যে সেই সময় থেকেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। তাই কানাইয়ালালবাবু তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একেবারে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন করিম সাহেব। তার রাগ এতই চরমে ওঠে যে, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অন্য দল তৈরি করে এনডিএতে শামিল হয়ে যান।

পরবর্তীতে খোদ তৃনমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টায় করিম সাহেবের ঘর ওয়াপসি হয়। আর এরপরই বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে ইসলামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়যুক্ত হন জনাব আব্দুল করিম চৌধুরী। এই সময়কালে করিম চৌধুরী এবং কানাইয়ালালকে এক ফ্রেমে দেখা গেলেও তাদের মধুচন্দ্রিমার মেয়াদ বেশি দিন টেকেনি।

সম্প্রতি আব্দুল করিম চৌধুরী নিজের থেকে ব্লক কমিটি ঘোষণা করলে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও চরমে ওঠে। তাই তৃণমূলের অন্দরে বাড়তে থাকা এই নেতৃত্বদের দূরত্ব দলের পক্ষে যে সুখকর হচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে সেই সময়, যখন আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও উত্তর দিনাজপুরে পদ্মফুল ফুটে গেছে। যেখানে রায়গঞ্জ লোকসভা আসনে বিজেপির দলীয় টিকিটে জয় যুক্ত হয়েছেন দেবশ্রী চৌধুরী। নিজেদের পজিশন খানিকটা উন্নত করে দ্বিতীয় স্থানে তৃণমূল কংগ্রেস পৌছোলেও সেই পারফরম্যান্স কতটা টিকবে এই ধরনের গোষ্ঠী কোন্দল চলতে থাকলে, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!