এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নিয়মনীতি মেনে ভোট না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি কমিশনের

নিয়মনীতি মেনে ভোট না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি কমিশনের


লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা না হলেও দেশের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বঙ্গে এসে যেন সেই নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন। সূত্রের খবর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে একটি বৈঠকে বসেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা। সকাল সাড়ে 11 টা থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যা ছয়টায়।

যেখানে রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার 3-4 মিনিটের একটি করে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন রাখেন নির্বাচন কমিশনের সামনে। যে পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে ভোটার তালিকা তৈরি, বুথের পরিকাঠামো, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ফোর্সের পরিসংখ্যান, সীমান্ত এলাকার সমস্যার মত বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়। তবে প্রশাসনের পেশ করা এই সমস্ত প্রেজেন্টেশন দেখে খুব একটা খুশি হননি নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে আর আপনারা যে প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন তার সঙ্গে অনেক ফারাক রয়েছে। মাথায় রাখবেন, আজ থেকেই লোকসভা নির্বাচন শুরু হয়ে গেল। সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করতে হবে। ভোট নিয়ে যেন কোনো অভিযোগ না ওঠে।”

এদিকে এদিনের এই বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের অনুপস্থিতিতে প্রচন্ড রুষ্ট হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা। বৈঠকের মাঝে হঠাৎই তিনি প্রশ্ন করেন যে, কমিশনার কোথায়? আর তখনই রাজীব কুমারের জায়গায় এদিনের বৈঠকে উপস্থিত হওয়া স্পেশাল কমিশনার জয়ন্ত বসু বলেন, “আজ আমি দায়িত্বে রয়েছি।”

প্রশাসনিক মহলের একাংশের ধারণা, আর কিছুদিনের মধ্যেই রাজীব কুমারের তিন বছর মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। আর তারপরই তাঁকে বদলি হতে হবে। তাই যেহেতু ভোটের সময় তিনি থাকবেন না, তাই এদিনের এই বৈঠকেও তিনি উপস্থিত হননি। তবে এদিনের এই বৈঠক থেকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে যাতে কেউ কোনরূপ অভিযোগ করতে না পারে সেজন্য রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া বার্তা দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

সূত্রের খবর, উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা জেলাশাসককে সেই জেলার সমস্ত বুথের পরিকাঠামো জোরদার করা, দার্জিলিং ও কোচবিহারে সীমানা দিয়ে যাতে মদ জাতীয় দ্রব্য না ঢুকতে পারে তার জন্য কড়া নজরদারি রাখা এবং হুগলিতে অস্ত্র উদ্ধার কম হওয়ায় সেখানকার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের উপর উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা। অন্যদিকে এনবিডব্লিউ কার্যকর কম হওয়ায় জন্য মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

এদিকে 2014 সালের তুলনায় 2016 সালে পশ্চিম মেদিনীপুরে কেন স্পর্শকাতর এলাকা কমে গেল তা নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা শাসককে প্রশ্ন করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। প্রেজেন্টেশনে মালদার জেলাশাসক জাল নোটের সমস্যার কথা উল্লেখ না করাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সুনীল আরোরা।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

জানা যায়, এদিনের এই বৈঠকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই যাদের দার্জিলিংয়ের প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া যায় সেজন্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে অনুরোধ করেন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক জয়শী দাশগুপ্ত। আর জয়শী দেবীর এই কথাতেই সায় দিয়ে নির্বাচনের আগেই সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

আর এর পরেই সকলের উদ্দেশ্যে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা বলেন, “বাংলাকে শুধু আমরা নই, গোটা দেশ গুরুত্ব দেয়। তাই এখানে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও নিয়ম মেনে ভোট করতে হবে। ভোট পরিচালনায় স্বচ্ছতা রাখতে হবে। সুষ্ঠুভাবে যদি ভোট না হয় এবং ভোটে যদি কোনো অনিয়ম হয় তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সব মিলিয়ে এবার আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গে যাতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয় তার জন্য রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া বার্তা দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!