এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > একনজরে দেখে নিন ভাইফোঁটায় মমতা ‘দিদির’ ভাইদের সাজিয়ে দেওয়া পঞ্চব্যঞ্জনের হাইপ্রোফাইল মেনু!

একনজরে দেখে নিন ভাইফোঁটায় মমতা ‘দিদির’ ভাইদের সাজিয়ে দেওয়া পঞ্চব্যঞ্জনের হাইপ্রোফাইল মেনু!

প্রত্যেক ভাইফোঁটাতেই তৃণমূল নেত্রীর বাসভবনে ভাইফোঁটার আয়োজন করা হয়‌। মুখ্যমন্ত্রী শুধু নিজের ভাই নয়, দলের সহকর্মীদেরও ভাইফোঁটা দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করেন। তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই দিনটি শুধু ভাইফোঁটার জন্য নয়, রাজনৈতিক সমীকরণ পরিস্ফুট হওয়ারও দিন। তৃণমূল অন্দরে নেত্রীর সঙ্গে কোন নেতার দূরত্ব কত খানি বা সান্নিধ্য কতখানি তা এই দিনেই বোঝা যায় বলে মনে করা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলের তরফ থেকে। এদিন সেই উপলক্ষেই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 30 বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ভাইফোঁটা সংক্রান্ত তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যবাসী চেনে দিদি হিসেবে। আর ভাইফোঁটার দিন যে সব দিদির কাছেই একটা উল্লেখযোগ্য দিন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ রাজ্যের সার্বজনীন দিদি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ভাইফোঁটার দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করেন। এবারেও তার অন্যথা হয়নি। নিজের ভাইদের সাথে বরাবরই তিনি দলের সহকর্মীদেরও ভাইফোঁটা দেন।

প্রত্যেকবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ম করে দলীয় কর্মীদের ভাইফোঁটা দেন। এ নিয়ম তবে থেকে, যখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। তখনও নিয়ম করে তিনি ভাইফোঁটা চালিয়ে গেছেন। সেসময় তৃণমূল দলনেত্রীর কাছে ভাইফোঁটা নিয়েছেন সুলতান আহমেদ, জাভেদ খান, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও ব্রায়েন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখরা। এমনকি এআইসিসির সদস্য সমীর চক্রবর্তী কেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাইফোঁটা দিয়েছেন। এর মধ্যে সুলতান আহমেদ প্রয়াত হয়েছেন।

কিন্তু বাকিদের জন‍্য নিয়ম এখনো চলছে। এবারেও দিদির বাড়িতে সদলবলে হাজির ছিলেন সহ কর্মীরা। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে এদিন চোখে পড়েছে বিজেপি দলে যোগদানকারী শোভন চট্টোপাধ্যায়কে‌। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সাথে এদিন দিদির বাড়িতে হাজির ছিলেন অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি, সমীর চক্রবর্তী, সাধন পান্ডে প্রমুখরা। নিয়ম করে প্রত্যেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে ভাইফোঁটা নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকাকালীন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বরাবর প্রথম সারিতে থেকেছেন ভাইফোঁটার দিন। কিন্তু গত বছর তিনি কালীঘাটে পা দেননি ভাইফোঁটার সময়। তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও প্রচুর হয়েছে। কিন্তু সমগ্র রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়ে বিজেপিতে যোগদান করার পর এদিন শোভন চট্টোপাধ্যায়, বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হাজির হন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যেরকম শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি চমক সৃষ্টি হয়েছে, সেরকমই রাজ্য রাজনীতি পর্বে আরেকটি চমক হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথমবার নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা পরিবহন, সেচ ও জল সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ভাই ফোঁটা দেওয়া।

মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর ভাইদের আপ্যায়নের কোন ত্রুটি রাখেননি। ভাইফোঁটার আসরে মিষ্টি দিয়েই তাঁদের আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। দুপুরে মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে তাঁদের জন্য খাবারের প্যাকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুপুরের মেনুতে ভুরিভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল ভেটকি মাছের ফিস ফ্রাই, পোলাও, গলদা চিংড়ি, রুই মাছের কালিয়া, খাসির মাংস ও চাটনি দিয়ে।  এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে উপহার স্বরূপ প্রত্যেককে একটি করে পাঞ্জাবি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় তিক্ততার পর কিছুদিন আগেই শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়সহ। কিন্তু দলবদলের পর থেকেই তাঁদেরকে নিয়ে বিজেপিতেও প্রচুর বিতর্ক হয়। কিন্তু এবার নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ীতে পা দিলেন ভাইফোঁটা নেওয়ার জন্য। সাথে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া উপহারও গ্রহণ করেছেন ও ভুরিভোজের আসরেও ছিলেন বলে দাবী রাজনৈতিক মহলের একাংশের। তবে এ নিয়ে শোভন-বৈশাখী এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দেননি। তবে শোভন-বৈশাখী পুরনো দলের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে সামাজিকতার সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়া রাজনৈতিক মহলে বেশ গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আপাতত সমগ্র পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!