এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > ফের তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ প্রকাশ্যে, রাজনৈতিক মহলে জোর সমালোচনা শাসক শিবিরের

ফের তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ প্রকাশ্যে, রাজনৈতিক মহলে জোর সমালোচনা শাসক শিবিরের

আবারো একবার প্রকাশ্যে এসে পড়ল তৃণমূল দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। হাজারবার প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রত্যেক সদস্যকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে সাবধান করার পরেও বারংবার একই ঘটনা ঘটে চলেছে। এবারের ঘটনা ঘটল তৃণমূলের রাজ্য মহিলা সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সামনে। ঘটনার সূত্রপাত জলপাইগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভায়। ঘটনাটি সামনে আসার সাথে সাথেই তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরেই। অন্যদিকে, বিরোধী গোষ্ঠীরা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে সব সময় সমালোচনা করেন। তাঁদের সমালোচনাকেই এবার সামনে নিয়ে এলো তৃণমূল দলের জেলা সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ।

জলপাইগুড়িতে এদিন তৃণমূলের মহিলা কংগ্রেসের কর্মীসভা ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী ও প্রাক্তন সাংসদ বিজয় চন্দ্র বর্মন। একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য মহিলা সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর সবার সামনেই সভামঞ্চের ওপর প্রকাশ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন কৃষ্ণকুমার কল্যাণী ও বিজয় চন্দ্র বর্মন। এদিন সভায় কৃষ্ণকুমার কল্যাণী বলেন, ”দলের নেতাদের ব্যর্থতার জন্যই লোকসভা নির্বাচনে দলের হার হয়েছে। জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫টি ওয়ার্ডেই দলের হার হয়েছে।”

ঠিক এরপরেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে ওঠেন বিজয় চন্দ্র বর্মন। এবং তিনি তাঁর বক্তব্যে বলে ওঠেন, ”জলপাইগুড়িতে দলের আন্দোলনে এখন আর তেমন গতি নেই। আন্দোলন প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ঝিমিয়ে পড়েছে দলও। প্রাণবন্ত আন্দোলনের অভাব দেখা দিয়েছে।” এরপর দলের মহিলা সংগঠনের জেলা সম্পাদিকা যুথিকা রায় বসুনিয়া বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ”মেনে নিতে পারি না বিজয়চন্দ্র বর্মণের বক্তব্য।” আর এর পরেই নিজের ক্ষোভ আর প্রশমন করতে না পেরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তা প্রকাশ করে ফেলেন। তিনি যুথিকা কে ধমক দিয়ে বলেন, ”এটা সমালোচনা করার জায়গা নয়। তুমি তোমার বক্তব্য রাখ।” যদিও যুথিকা রায় বসুনিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চ ত্যাগ করে চলে যান বিজয় চন্দ্র বর্মন।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

পরে বিজয় চন্দ্র বর্মন ব্যক্তিগত স্তরে বলেন, ”ঠিকই বলেছি আমি। বর্তমানে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। যে ভাবে দল চলছে তা মোটেও দলের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল নয়।” অন্যদিকে, কৃষ্ণকুমার কল্যাণী বলেন, ”আমি পিছনে কোনও কথা বলি না। যাকে যা বলার আমি সামনাসামনিই বলি। আসলে তোলামূলীদের জন্যই দলের হার হয়েছিল।” অন্যদিকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, ”গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও বিষয় নয়। আসলে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।”

এই কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পাপিয়া পাল ও দলের কয়েকজন কাউন্সিলর। কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে এইদিন এই কর্মীসভায় অনুপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল শহর ব্লক সভাপতি মোহন বসু। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,  ”বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এ দিন অনেকগুলি কর্মসূচি থাকায় মহিলাদের কর্মিসভায় উপস্থিত হতে পারিনি।” অন্যদিকে মহিলা তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী সাগরিকা সেন মোহন বসুর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, ”মোহন বসু আগেই জানিয়েছিলেন অন্য কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন।”

বারংবার এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়ছে শাসক দল। ইতিমধ্যে শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঘিরে বিরোধী দলগুলি বারংবার সমালোচনায় বিদ্ধ করে চলেছে। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে নিয়ে রীতিমতো সরব হয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, দলের প্রতিটি স্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করার। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দলের সর্বস্তরে যে কাজ করেনি, তা দলের বেশ কিছু স্তরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে আশায় বোঝা যাচ্ছে। আপাতত এইসব গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে সামলাতে তৃণমূল সুপ্রিমো নতুন কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন সেদিকে নজর রাখবে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
ট্যাগড
Top