এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > এবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠল তৃনমূল কাউন্সিলর, তার স্বামী ও দিব্যেন্দুর বিরুদ্ধে, চাঞ্চল্য শুভেন্দু গড়ে

এবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠল তৃনমূল কাউন্সিলর, তার স্বামী ও দিব্যেন্দুর বিরুদ্ধে, চাঞ্চল্য শুভেন্দু গড়ে

লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি পর ফলাফল পর্যালোচনা বৈঠকে দুর্নীতিতে প্রধান ভাবে দায়ী তা বুঝতে পেরেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাইতো দলকে স্বচ্ছভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে গত 18 জুন কলকাতার নজরুল মঞ্চে দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে এই কাটমানি যাতে না নেওয়া হয়, তার ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি পর অনেকেই ভেবেছিলেন যে, এবার হয়তো সুদিন ফিরবে।

তৃণমূলের তরফে ওই ব্যাপারে গর্ব করে দাবি করা হচ্ছিল যে, এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছ ব্যবস্থার পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কাটমানি নেওয়ার ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করলেও সব থেকে বিপাকে পড়েছে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। দিকে দিকে তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের ঘিরে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। যার জেরে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে ঘাসফুল শিবির। দলের কাউন্সিলর, বিধায়ক এমনকি হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষের একাংশ সরব হলে রাজনৈতিক মহলেও এনিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে এবার রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক তমলুকে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে উঠে এল।

সূত্রের খবর, তমলুক পৌরসভার 1 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চামেলি মহন্ত, তার স্বামী কালিপদ সামন্ত এবং তমলুক শহর তৃণমূল সভাপতি দিব্যেন্দু রায়ের বিরুদ্ধে বুধবার বিকেলে শেখ হাসিবুল নামে এক ব্যক্তি দুর্নীতির অভিযোগে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু কেন দলের কাউন্সিলর, তার স্বামী এবং শহর তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে এই ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

জানা গেছে, গত 2016 সালের সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরীর জন্য অভিযোগকারী শেখ হাসিবুলের নামে অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু এই টাকা নিজেদের বাগে আনার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর, তার স্বামী এবং শহর তৃণমূল সভাপতি কিছু কাগজপত্রের সেই শেখ হাসিবুলকে দিয়ে সই করিয়ে নিয়েছিলেন। অভিযোগ, তার ব্যাংকের পাসবইও নিজেদের কাছে নিয়ে রেখেছিলেন এই তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা। আর এরপর দীর্ঘদিন সময় পার হয়ে গেলেও তার টাকা না আসায় প্রবল চিন্তায় পড়েন শেখ হাসিবুল। আর এরপরই স্থানীয় কাউন্সিলর, তার স্বামী এবং শহর তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

এদিন এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিবুল বলেন, “ওরা তমলুক শহরের মানিকতলার একটি ব্যাংকের শাখায় অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু আমার ব্যাংকের পাসবই নিজেদের কাছে রেখে দেয়। তাই আমার ব্যাংকের টাকা এসেছে কিনা তা আমি জানতে পারিনি। কদিন আগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, আমার সই চেক ব্যবহার করে টাকা তোলা হয়েছে। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে ওনারা বাড়ি তৈরির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাই এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আমি কঠোর শাস্তি চাইছি।”

কিন্তু যখন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার বার্তা দিচ্ছেন, তখন তারই দলের কাউন্সিলর এবং সভাপতিরা এইভাবে যদি সাধারন মানুষের উন্নতির ক্ষেত্রে বরাদ্দ টাকা আত্মসাৎ করেন, তাহলে কি করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়বেন তৃণমূল নেত্রী!

এদিন এই প্রসঙ্গে তমলুক নগর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি মধুসূদন প্রামাণিক বলেন, “বাড়ি তৈরির প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে আমরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। তাই এখন হাসিবুলের মত বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন।” অন্যদিকে তার কাছে এই ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানান তমলুক পৌরসভার পৌরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ সেন। কিন্তু কি বলছেন মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা নেত্রীরা!

এদিন এই প্রসঙ্গে তমলুক শহর তৃণমূল সভাপতি দিব্যেন্দু রায় বলেন, “তিন বছর আগে সরকারিভাবে বরাদ্দ অর্থ তুলে শেখ হাসিবুল নিজের বাড়ি তৈরি করেছেন। এতদিন টাকা না পেলে আগে উনি কেন অভিযোগ জানাননি! আসলে বিজেপির মদতে এইসব মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।” একই কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই তমলুক পৌরসভার 1 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চামেলি মহন্ত।

তবে অভিযুক্তরা তাদের অভিযোগ যতই অস্বীকার করুন না কেন যদি, কোনো উপভোক্তা যদি তার সুবিধা পেয়েই থাকেন, তাহলে তিনি কেন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে যাবেন! এখন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে যেহেতু অভিযোগকারী শেখ হাসিবুল এখন তৃণমূলের এই তিন নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, ফলে পুলিশ তদন্তে ঠিক কি উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

Top
error: Content is protected !!