এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > এবার করোনা ভাইরাস নিয়েও রাজনৈতিক তরজা শুরু

এবার করোনা ভাইরাস নিয়েও রাজনৈতিক তরজা শুরু


করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে থাবা বসিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। কাতারে কাতারে মৃত্যু হচ্ছে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে। বিভিন্ন জায়গা থেকে দলে দলে মানুষ দেশ ছাড়তে শুরু করেছে। বিশ্বের বিখ্যাত জায়গাগুলি ভিড় এড়াতে এই মুহূর্তে পুরো ফাঁকা। সারা বিশ্বের কাছে এই মুহূর্তে সব থেকে বড় আতঙ্ক করোনা ভাইরাস। যেভাবে করোনা ভাইরাস এর মারাত্মক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহল থেকে করোনা ভাইরাসকে ভয়াবহ বিশ্বব্যাপী মহামারী বলা হচ্ছে।

সারা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা মরণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য প্রতিষেধক আবিষ্কারের। যদিও এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়নি বলেই জানা গেছে। করোনা আক্রান্ত দেশের সংখ্যা এই মুহূর্তে 107। সুদূর চীন থেকে ক্রমশ এই ভাইরাস ছড়িয়েছে সর্বত্র। ক্রমে তা ভারতে এসেছে এবং তার পর থেকেই শুরু হয়েছে ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মিছিল। এখনো পর্যন্ত আমাদের দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন 74 জন।

প্রায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সূত্রের খবর, গোটা বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। অন্যদিকে সারা বিশ্বে প্রায় 1.25 লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত ভারতে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী এদিন বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে কেন্দ্র সদর্থক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি একটি টুইট করেছেন। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বারবার সরকারকে গোটা বিশ্বের মারণ এই ভাইরাসের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে আরও কঠোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে আসছি। তবুও বিষয়টি নিয়ে সরকারের কোনও অতিসক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি।‘ এখানেই শেষ নয়। এরপর কংগ্রেস সভাপতি ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে খোঁচা দিয়ে পরবর্তীতে লিখেছেন, ‘বর্তমানে গোটা বিশ্ববাসী তথা ভারতের কাছে করোনাভাইরাস একটি মারাত্মক সমস্যার নাম। মারণ এই ভাইরাসের জেরে ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে। ধসে পড়ছে দেশের অর্থনীতি। ভারতে মারণ এই ভাইরাসের মোকাবিলায় প্রথম থেকে সরকার অতিসক্রিয় ভূমিকা না নিলে, আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিতে দেখা দেবে প্রবল মন্দা। যার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও।’

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

কিছুদিন আগেও রাহুল গান্ধী টুইটারের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে একই অভিযোগ করেছিলেন। তখন তিনি লিখেছিলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার দেশে করোনভাইরাসের প্রাদুর্ভাব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না।’ অন্যদিকে খবর, নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম ভারতে মৃত হলেন 76 বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। গত 24 ঘণ্টায় ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 74। গত 24 ঘণ্টায় 15 জন এই ভাইরাসের প্রকোপে পড়েছেন, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির নাম কালাবুরাগী। তিনি কর্নাটকের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার এই রুগীর মৃত্যুর সাথে সাথেই চিকিৎসকরা সন্দেহ করেন তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাস বাসা বেঁধেছে। পরবর্তীতে টেস্টেও রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস এর আতঙ্কে ভোগা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী টুইটের মাধ্যমে লেখেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উপর সরকার নজর রাখছে। সকলের সুরক্ষার জন্য রাজ্যগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। প্রয়োজনীয় সাবধানতা মেনে চলুন। কেন্দ্রের কোনও মন্ত্রী বিদেশ সফরে যাবেন না। দেশবাসীর কাছেও আর্জি জানাচ্ছি, যাতে তাঁরা দেশের বাইরে ভ্রমণ এড়িয়ে চলেন।’

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বার্তা দিয়ে আসছেন দেশবাসীকে। দেখা গেছে এবারের হোলির অনুষ্ঠানও প্রধানমন্ত্রী মোদী বাতিল করে দিয়েছেন এই মারণ ভাইরাসের হাত এড়াতে। তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই মৃত্যু ঘটবে এ ধারণা ভুল বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। অনেক করোনা আক্রান্ত রুগী পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। আর এক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসকে হারানো যাবে একমাত্র স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হলেই।

তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের একমাত্র নির্দেশ, এই মারণ ভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত না হয়ে বরং পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে জনবহুল দেশে শুধুমাত্র সরকারি ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা আনা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস এর মতন সংক্রামক ব্যাধিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজন ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতা। আপাতত করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য উন্নততর ব্যবস্থার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত বিজ্ঞানীরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!