এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > শতাব্দীর বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ, শেষ বেলায় গেরুয়া শিবিরের প্রচারে ঝড় – জমজমাট বীরভূম

শতাব্দীর বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ, শেষ বেলায় গেরুয়া শিবিরের প্রচারে ঝড় – জমজমাট বীরভূম

বিগত দিনের নির্বাচনগুলোতে যে জেলার ফলাফল নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব থেকে বেশি নিশ্চিন্ত থাকতেন তার নাম বীরভূম। প্রিয় ভাই অনুব্রত মন্ডলের ‘ভোট করানোর দক্ষতায়’ এই জেলায় ফল ঘাসফুল শিবিরের দিকেই থাকত সবসময়। তবে আসন্ন নির্বাচনে সেই ট্রেন্ড কি বজায় থাকবে? এটাই কিন্তু এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। প্রসঙ্গত, আগামী ২৯ শে এপ্রিল চতুর্থ দফার লোকসভা নির্বাচনে বীরভূমে দুটি লোকসভা কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইতিমধ্যেই সন্ত্রাস কবলিত এলাকা বলে বীরভূমের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়ার আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছে বিরোধীরা। হাতে প্রচারের আর মাত্র কিছুদিন। আর তাই তার আগে এইবার বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র দখল করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা একে অপরকে প্রচারে টেক্কা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার যখন এই বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিনেত্রী শতাব্দী রায় শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, ঠিক তখনই এই কেন্দ্রটি এবার নিজেদের দখলে আনতে বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মন্ডলের সমর্থনে সেখানে প্রচার পর্বে শামিল হতে দেখা গেল বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে।

জানা গেছে, এদিন বীরভূমের সদর শহর সিউড়িতে শাসক বনাম বিরোধীর দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সমর্থনে জোর প্রচার অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র তৃণমূল দখল করলেও দেখা যায় যে, বীরভূমের সদর শহর সিউড়ির বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছিল। যেখানে অনেকটাই লিড পেয়ে এগিয়ে গিয়েছিল বিরোধী দল বিজেপি। আর তাই এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিগত লোকসভার মতো এবারও যাতে সিউড়ি পুরসভার সব ওয়ার্ডে লিড পেয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলা যায় তার জন্য প্রচারে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

তবে শহরের ভোটব্যাঙ্ক যাতে নিজেদের দখলে আনা যায় তার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে নিজেদের ভোটব্যাংককে পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তৃণমূল প্রার্থীও। এদিন সিউড়িতে বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মন্ডলকে সাথে নিয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় হুডখোলা জিপে করে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোড শো করেন। আর এরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগরে দেয় বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ। বাঁদরের লেজ বলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি নিজের উদাহরণ টেনেই জানিয়ে দেন কিভাবে তাঁর ভোটদেওয়ার বিধানসভা ক্ষেত্রেই বদলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

তবে এদিন শতাব্দী রায় সিউড়িতে প্রচারে বেরোলেও – গোটা পুরসভা জুড়েই জল না পাওয়ার তীব্র ক্ষোভ পুরবাসীর মধ্যে। তিনি ১০ বছরের সাংসদ – অথচ এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি, গ্রামবাসীরা ‘পিঁয়াজের মালাও’ পড়িয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীকে – সুতরাং সেলিব্রিটি প্রার্থীর কাছেও কাজের হিসাব বা ন্যূনতম পরিষেবা না পাওয়ার ক্ষোভ বেশ স্পষ্ট। এর উপরে রূপা গাঙ্গুলি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন – এবারে আর বীরভূমে ‘কেষ্ট ম্যাজিক’ কাজ করবে না। আর তাই নিজেদের ‘ডাকাবুকো’ প্রার্থীর জোরালো প্রচার ও তৃণমূলের সাংসদের উপর স্থানীয় ক্ষোভে ভরসা রেখেই বাজিমাতের কথা ভাবছে বিজেপি। কিন্তু, পোড়খাওয়া নেতা অনুব্রত মন্ডল কি এত সহজে ছেড়ে দেবেন লড়াইটা – সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!