এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > সময়ে হচ্ছে না নির্বাচন – হাওড়া পুরসভায় কি ‘উন্নয়ন’ স্তব্ধ হয়ে যাবে? বিভিন্ন মহলে উঠছে প্রশ্ন

সময়ে হচ্ছে না নির্বাচন – হাওড়া পুরসভায় কি ‘উন্নয়ন’ স্তব্ধ হয়ে যাবে? বিভিন্ন মহলে উঠছে প্রশ্ন

অবশেষে আজ শেষ হতে চলেছে হাওড়া পুরসভার মেয়াদ। জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এবার এই পৌরসভা দেখবেন হাওড়া কর্পোরেশনেরই পুর কমিশনার। তবে শেষ পর্যন্ত ঠিক কী হবে তা অপেক্ষা করছে রাজ্য প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপরই। তবে মেয়াদ শেষ হলেও হাতে নেওয়া পুরসভার কাজ যেগুলো এখনও সম্পন্ন হয়নি, তা দেখভালের জন্য এবার সেই পুরসভার বিদায়ী কাউন্সিলরদেরই নির্দেশ দিচ্ছে শাসকদল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারিভাবে সেখানকার কাউন্সিলরদের আর কোন ক্ষমতা থাকে না। তখন পুরসভার সমস্ত কাজকর্ম দেখভাল করেন সরকার নিযুক্ত প্রশাসকই। কিন্তু প্রশাসককে মানুষের অসুবিধা জানাতে সেই কাউন্সিলররাই যে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন সেই ব্যাপারে দলের তরফে ইতিমধ্যেই হাওড়া পুরসভার সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরকে সেই সংক্রান্ত একটি নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

শাসক দলের অনেকেই মনে করছেন, আর কয়েক মাস পরেই লোকসভা ভোট। ফলে সেই লোকসভা ভোটের আগে পুর পরিষেবা যাতে শিকেয় না ওঠে এবং সাধারণ মানুষ যাতে কোনোরূপ সমস্যায় না পড়েন সেই জন্য দলেরই কাউন্সিলারদের এলাকার প্রতি নজর দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে তৃণমূল।

হাওড়া পুরসভা সূত্রের খবর, বর্তমানে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ডুমুরজলা ইন্ডোর স্টেডিয়াম, বেজপুকুর ইন্টারন্যাশনাল সুইমিংপুল, পদ্মপুকুরে ২০ মিলিয়ান গ্যালন পরিশ্রুত জল প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার কাজ এখনও পুরোপুরি ভাবে সম্পন্নই হয়নি। ফলে আজ এই পুরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেই ব্যাপারে আর কোনরূপ পদক্ষেপ নিতে পারবেন না কাউন্সিলাররা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কারণ তখন সরকারিভাবে তারা আর কোনো ক্ষমতার অধিকারী নন। কিন্তু প্রশাসকের হাতে সেই সময় পুরসভার ক্ষমতা থাকলেও সেই কাজকর্ম বিষয়ে এবং সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ সম্পর্কে সেই প্রশাসকের কাছে এই সমস্ত কিছুই পৌঁছে দেবেন এই বিদায়ী কাউন্সিলররাই। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের বিদায়ী কাউন্সিলরদের কাছে এহেন নির্দেশনামা জারি করে আদতে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।

কেননা আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে পদ না থাকার অজুহাতে যে সমস্ত ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলররা সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শুনবেন না, তাদেরকে আগামী দিনে টিকিট দেওয়ার ব্যাপারেও কিছুটা সাবধানী ভূমিকা পালন করবে তৃনমূল কংগ্রেস। তাই আগেভাগেই শহরের পরিষেবাকে ঠিক রাখতে সেখানকার কাউন্সিলারদের ঠিক কী ভূমিকা রয়েছে তা দেখে নিতে চান শাসকদলের নেতৃত্বরা। এদিন এই প্রসঙ্গে হাওড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ রায় মুখ খোলেন।

অরূপবাবু বলেন, “যাঁরা এখন কাউন্সিলার তাঁরা তো সকলেই দলের কর্মী। তাই মানুষের কাজ তাঁদেরকে করতেই হবে। তাই যাঁরা এখন কাউন্সিলর হয়েছেন তারা প্রশাসনিক ক্ষমতা ভোগ না করলেও পুরসভার কাজকর্ম সম্পর্কে সবই জানেন। আর তাঁরাই মানুষের অভাব অভিযোগ পুরসভার কর্তাদের কাছে পৌঁছে দেবেন”। অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে এই হাওড়া পুরসভার বর্তমান মেয়র রথীন চক্রবর্তী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার পরে আমি যথাসাধ্য কত কাজ করেছি। কিছু প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। রাজ্য সরকার প্রশাসক নিয়োগ করছে। সেই মতো এখন প্রশাসক কাজ করবেন। পরবর্তীকালে কি হয় সেটা দেখা যাবে”।

সব মিলিয়ে এখন হাওড়ার মানুষদের সুবিধের জন্য এবং পুর পরিষেবাকে ঠিক রাখতে সেখানে প্রশাসক নিয়োগের পর বিদায়ী কাউন্সিলরদের ভূমিকা ঠিক কি থাকে এবং কবেই বা এই হাওড়া পৌরসভা নির্বাচন সংগঠিত করে রাজ্য! এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। তবে, এই প্রসঙ্গে ক্রমশ সুর চড়াচ্ছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জেতা পঞ্চায়েতের আসন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ফল বেরোতে দেরি হলে রাজ্য সরকার বলেছিলো, উন্নয়ন স্তব্ধ করে দিচ্ছে বিরোধীরা। অথচ, নিজেদের জেতা পুরাসভাতেই সময়ে ভোট না করে প্রশাসক বসাচ্ছে শাসকদল। এখন কি তাহলে উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে না?

Top
error: Content is protected !!