এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কলকাতা হাইকোর্টে ডিও/বিএলও মামলার শুনানি শেষ, রায়দান কবে? জানুন বিস্তারিত

কলকাতা হাইকোর্টে ডিও/বিএলও মামলার শুনানি শেষ, রায়দান কবে? জানুন বিস্তারিত

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের দিয়ে ডিও/বিএলও ডিউটি করানো নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে এবং শিক্ষকদের প্রাথমিক কর্তব্য শিক্ষাদানের অঙ্গীকারকে রক্ষা করতে রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক যে ‘যুদ্ধ’ কার্যত শুরু করেছেন – তার চূড়ান্ত ফয়সালা আজ হওয়ার কথা ছিল কলকাতা হাইকোর্টে। প্রাথমিক শিক্ষকদের দিয়ে যে ডিও বা বিএলও ডিউটি করানো হচ্ছে – তা কি আদৌ আইনসম্মত? সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা তো বলছে শিক্ষকরা এই কাজ করতে বাধ্য নন – রাজ্য সরকার বা রাজ্য নির্বাচন কমিশন তা মানছেন না কেন? শিক্ষকদের নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করতে গেলে ঘোষিত ছুটি থাকতে হবে – এখানে সে নিয়ম কেন মানা হচ্ছে না? এইসব প্রশ্নেরই আজ ফয়সালা হওয়ার কথা ছিল কলকাতা হাইকোর্টে।

আর তাই, রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চোখ আজ ছিল কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। সেখানে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর এজলাসে অতি সংবেদনশীল ডিও/বিএলও মামলার শুনানি ছিল আজ। দীর্ঘ শুনানি কিছুক্ষন আগে শেষ হল, তবে আজ এই মামলার রায়দান করার কথা থাকলেও বিচারপতি আজ রায় দেন নি। এই মামলার অন্যতম উদ্যোক্তা শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা মইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আজ দীর্ঘ শুনানি শেষ হল, রায়দান হবে আগামী মঙ্গলবার দুপুর ৩:৩০ টায়। সেদিন আর কোনো শুনানি হবে না, শুধুমাত্র রায়দানই হবে। সামগ্রিকভাবে যা শুনানি হয়েছে তাতে আমরা বা আমাদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম খুশি, আশা রাখছি এই রায় শিক্ষকদের পক্ষেই যাবে, আদালত সবদিক বিবেচনা করে মানবিক রায়ই দেবেন।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

মইদুলবাবু আরো জানান, আজকের দীর্ঘ শুনানিতে আমাদের বক্তব্য ছিল খুব পরিষ্কার। এই ডিও বা বিএলও ডিউটি করতে গিয়ে শিক্ষকদের যে প্রাথমিক কর্তব্য সেই শিক্ষাদানের অঙ্গীকার দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা মাননীয় আদালতের কাছে এমন প্রমান জমা দিয়েছি যেখানে দেখা যাচ্ছে – অনেক স্কুলে একজন মাত্র শিক্ষক অথচ তাঁকেও এই ডিউটি করতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদীক্ষা মাথায় তুলে। বা, হয়ত কোনো স্কুলে দুজন শিক্ষক – দুজনকেই এই ডিউটি করতে হচ্ছে, একজনকে নিজের স্কুলে, অন্যজনকে অপর স্কুলে। সুতরাং সর্বক্ষেত্রেই তা শিক্ষাব্যবস্থার মুলে কুঠারাঘাত করছে। আর এর বিরুদ্ধে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী শুধুমাত্র বলে গেছেন, এই কাজ প্রাথমিক শিক্ষকরা না করলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড়সড় ধাক্কা লাগবে।

মইদুলবাবু আরো জানান, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই রাজ্য সরকার বা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানাতে পারেননি, কেন শিক্ষকদেরই এই কাজ করতে হবে! তাঁরা শুধু বলতে চেয়েছেন এই ৬১ দিনের ডিউটিতে রবিবারের ছুটি ও অন্যান্য পাবলিক-হলিডে ধরে ৩০ দিন ছুটির মধ্যেই পড়ছে। কিন্তু বাকি ৩১ দিন? নির্বাচনের স্বার্থে তাকি শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে করতে হবে? কোনো জবাব দিতে পারেননি তাঁরা। আমাদের আইনজীবী, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকেও সুরক্ষিত রেখে – সুষ্ঠু সমাধানের জন্য, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের যে হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের ভাতা দেন তাঁদের কাজে লাগানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। আর তাই সবদিক থেকে দেখতে গেলে সামগ্রিক শুনানিতে আমরা খুশি এবং আশা করছি আগামী মঙ্গলবার বিচারপতি শিক্ষার ও শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষা করে মানবিক রায়ই দেবেন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!