এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > দিনের বেলায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন দাপুটে তৃণমূল নেতাকে, জনরোষ নাকি রাজনৈতিক? বাড়ছে জল্পনা

দিনের বেলায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন দাপুটে তৃণমূল নেতাকে, জনরোষ নাকি রাজনৈতিক? বাড়ছে জল্পনা

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক হানাহানির ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। নৃশংসতার বিচারে একে-অপরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, 2019 এর লোকসভা ভোটের পরবর্তী সময় থেকেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে খুনোখুনির রাজনীতি। এই খুনোখুনি কমার তো নাম নিচ্ছেই না বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। একের পর এক প্রাণের বলি হচ্ছে এই রাজনৈতিক খুনোখুনিতে। সম্প্রতি তৃণমূলের দলীয় নেতা কুরবান আলী শাহের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় পাঁশকুড়ায়। এবার আরও এক তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় ময়নার বাকচাতে আতঙ্ক ছড়ালো।

একের পর এক তৃণমূল নেতা খুন হয়ে যাচ্ছেন রাজ‍্যে। যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য গোটা জেলা জুড়ে। সম্প্রতি,।গভীর রাতে নিজের কার্যালয়ে বন্দুকের গুলিতে খুন হন তৃণমূল দলীয় নেতা কুরবান আলী শাহ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও দিনে-দুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হলো তৃণমূল নেতা বসুদেব মন্ডলকে। 51 বছর বয়সী এই নেতা বাকচা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। খুনের হিংস্রতায় এদিন আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা জেলা জুড়ে।

সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে যাবার পর খবর পায় পুলিশ। স্থানীয় গ্রামের রাস্তার ধার থেকে রক্তাক্ত এবং ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় বসুদেব মন্ডলকে উদ্ধার করা হয়। এবং তাঁকে ময়না ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় ময়না থানার পুলিশ। এবং সেখানেই বসুদেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা‌। চিকিৎসকরা আরো জানান, ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বসুদেবকে। নৃশংসতার কথা ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।

একে একে ময়না হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলে তমলুকের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ সুপারসহ পুলিশকর্মীদের আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়। পরে মৃতদেহ আটকে রেখে পথ অবরোধ চলে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত। এরপরই পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় নামে।

এই ঘটনায় তমলুকের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অতীশ বিশ্বাস জানান, ‘পুলিশ মোতায়েনে এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মৃতের পরিবারের লোকেদের অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য তমলুক জেলা হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।’

এলাকার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বসুদেব মন্ডল বহুদিন ধরেই তৃণমূলের সাথে যুক্ত আছেন। তিনি প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমূল অঞ্চল কোর কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁকে খুনের ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে সত্বর গ্রেফতার করুক পুলিশ‌। মৃত্যুর খবর পেয়ে তৃণমূল সাংসদ তমলুকের দিব্যেন্দু অধিকারি এলাকায় চলে আসেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তিনিও বিক্ষোভ আন্দোলনে সামিল হন। এই ঘটনায় তমলুকের সংসদ দিব্যেন্দু অধিকারি দাবি করেন, সমস্ত ঘটনার পিছনে বিজেপি চক্রান্ত।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

তিনি বলেন, ‘বিজেপির সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষকে এলাকায় সংগঠিত করছিলেন বসুদেব। যে কারণে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাকে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করেছে।’ অবরোধ-বিক্ষোভের পরে নিহত তৃণমূল নেতা বসুদেব মণ্ডলের বাড়িতে যান সাংসদ। পরিবারকে সান্ত্বনা দেন তিনি। নিহতের স্ত্রী খুকুমণি মন্ডলও বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল আটটা নাগাদ বাজার করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছিলেন। তারপর তিনি (বসুদেব) আর বাড়ি ফিরে আসেননি। এরপর দুপুর 1 টা নাগাদ স্থানীয়দের মারফত খবর পাই রাস্তায় তাঁকে কুপিয়ে ফেলে গেছে দুষ্কৃতীরা।’ বসুদেব মন্ডলের স্ত্রীও বিজেপি নেতা কর্মীদের সাথে বসুদেব মণ্ডলের রাজনৈতিক বিরোধের কথা জানিয়েছেন।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় দখলদারি নিয়ে রাজনৈতিক অশান্তি ক্রমাগত ঘটেই চলেছে বাকচায়। এই খুনের ঘটনার পর এলাকাবাসীর আতঙ্কিত। অনেকেই বলছেন, এই এলাকায় আবার নতুন করে রাজনৈতিক হিংসা শুরু হবে। বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি নবারুণ নায়ক।

তাঁর দাবি, ‘বসুদেবের মৃত্যু কোন রাজনৈতিক সংঘর্ষে ঘটেনি। ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ কোনো ভাবে যুক্ত নয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তুলেছিলেন তৃণমূলের এই নেতা। জনরোষের ভয়ে তিনি বাড়িছাড়া ছিলেন। বাড়ি ফেরার পর এদিন গ্রামবাসীরা তাঁকে দেখতে পেয়ে তাঁর কাছে টাকা ফেরত চাইতে গিয়েছিল। সে সময়ই দু’পক্ষই ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। আর তাতেই মৃত্যু হয়েছে তৃণমূলের ওই নেতার।’

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায়শই বোমাবাজি সংঘর্ষের খবর পাওয়া যেত। এলাকার শান্তি বজায় রাখতে না পারার জন্য তৎকালীন পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়। জেলায় পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটল এবং দুজনেই শাসকদলের। ফলে এই ঘটনার তদন্তের জন্য পুলিশের ওপর চাপ পড়ছে। জেলা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ এর ফলে এলাকার যান চলাচল অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পরে পুলিশ এসে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে এই অবরোধ ওঠে।

সমগ্র ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, রাজনৈতিক হানাহানি দিন দিন বেড়েই চলেছে। নৃশংসতার সীমা পরিসীমা অতিক্রম করছে সবাই। ভুলে যাচ্ছে যে কোন প্রাণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে। রাজনীতির বলি হওয়া কোন প্রাণের কখনই উচিত নয়। এই খুনের ঘটনায় বিজেপির তরফ থেকে বলা হয়েছে, তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে দাবি ওঠা বিজেপির এই খুনে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। তৃণমূল নেতা বসুদেব মন্ডলের হত্যা গ্রামবাসীদের হাতেই হয়েছে। অযথা এই হত্যায় বিজেপিকে জড়ানো হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছে। আপাতত এই ঘটনার ওপর কড়া নজর রেখেছে পুলিশ প্রশাসন। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকেও ঘটনায় কড়া নজর রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!