এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দিলীপের বাংলা-বিদ্বেষী মন্তব্য! ২০২১ নির্বাচনে বুমেরাং হবে না তো বিজেপির

দিলীপের বাংলা-বিদ্বেষী মন্তব্য! ২০২১ নির্বাচনে বুমেরাং হবে না তো বিজেপির

2019 এর লোকসভা ভোটে বিজেপির উল্লেখযোগ্য ফল করার পর তাদের লক্ষ্য আগামী 2021 এর বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের বুকে বিজেপির শাসন কায়েম করা। কিন্তু তার আগেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে গড়ে উঠেছে তীব্র বিতর্ক। জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার গুজরাটি ভাষাকে আঞ্চলিক ভাষা হিসেবে মর্যাদা দিয়ে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর এর বিরুদ্ধে তৃণমূল মুখর হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে এদিন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি রীতিমতো কটাক্ষ করে বাংলা বিরোধী মন্তব্য করেছেন যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিজেপির অন্দরেও গুঞ্জন উঠেছে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য নিয়ে। 2021 এর যে বিধানসভা নির্বাচনকে নিয়ে এত তোড়জোড় চলছে বিজেপির পক্ষ থেকে, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে সেই আয়োজনে কোন বাধা পড়বে না তো! আপাতত চিন্তার ভাঁজ গেরুয়া শিবিরে।

বিজেপির এখন প্রধান লক্ষ্য 2021 এর বিধানসভা দখল। আর সেই লক্ষ্যে বাধা পড়ার আশঙ্কায় ভুগছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের বিরোধীতা করতে গিয়ে এ দিন রীতিমতো বাংলা বিদ্বেষী মন্তব্য করলেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।এর আগে জয়েন্ট বাংলা ব্রাত্য নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, জয়েন্ট এন্ট্রান্সে বাংলা কেন সুযোগ পাবেনা? বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত না করা হলে তৃণমূলের তরফ থেকে যে লড়াই চলবে সে কথা তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন।

আর এর পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, বাংলা থেকে জয়েন্ট পরীক্ষার্থীর পরিমাণ অনেক কম। সরকারি স্কুলে পড়ে জয়েন্ট দেওয়া নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন, গুজরাট থেকে প্রায় 60 হাজার ছাত্রছাত্রী জয়েন্ট দেয়। পশ্চিমবঙ্গ সেই অনুপাতে অনেক পিছিয়ে আছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আর দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যই বাংলা বিদ্বেষী মন্তব্য বলে তকমা পেয়েছে। দিলীপ ঘোষ আরো বলেন জয়েন্ট এন্ট্রান্সে আঞ্চলিক ভাষা অন্তর্ভুক্তির জন্য বাংলাকে বহু আগেই আবেদন করতে বলা হয়েছিল কিন্তু বাংলা সে সময় কোনো সুযোগ নেয়নি, কিন্তু এখন সুযোগ বুঝে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনীতি করছে।

অন্যদিকে বাংলা ভাষাকে জয়েন এন্ট্রান্সে ব্রাত্য করার অভিযোগে তৃণমূল দল ধরনায় বসে। ধর্না মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সুব্রত মুখোপাধ্যায় প্রভৃতি হেভিওয়েট নেতারা। ধর্না মঞ্চ থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন তৃণমূল নেতা নেত্রীরা। তাঁরা জানান, বাংলা ভাষা তাঁর স্বীকৃতি যতদিন না পাবে, ততদিন লাগাতার তৃণমূলের তরফ থেকে আন্দোলন চলবে।

ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় দিলীপ ঘোষের মন্তব্যকে ঘিরে। বিজেপি শিবির থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে বাংলার বিরুদ্ধে বলার জন্য তাদের দিক থেকে না বাংলা বিরূপ হয়। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত হল, বিরোধিতা করতে গিয়ে এমন কোনো বক্তব্য কখনোই বলা উচিত নয় যাতে রাজনৈতিক কৌশল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, শাসক দলের মতে বাংলাকে ব্রাত্য করার বিষয়টি রাজ্য বিজেপি দিলীপ ঘোষ তার মন্তব্যের ভেতর দিয়ে খাটো করার চেষ্টা করলেন।

প্রসঙ্গত, ইদানীংকালে বিজেপি শিবির রাজ্যে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে শাসকদলের থেকে। কারণ তাঁদের হাত থেকে অধিকার করা পুরসভা পঞ্চায়েতগুলি একে একে শাসকদলের হাতে যেতে শুরু করেছে। সাথে যেসব সদস্য বিজেপিতে এসেছিলেন লোকসভা ভোটের পরেই, তাঁরাও ফেরার রাস্তা ধরেছেন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, বিজেপি এমনিতেই আতঙ্কিত ছিল উপরন্তু বিজেপি সভাপতির এ ধরণের মন্তব্যে তাঁদের আশঙ্কা গুরুতর স্থান পেয়েছে। আপাতত বিজেপি এই প্রসঙ্গে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকে নজর রাখবে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!