এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দিলীপ-মুকুলের উপস্থিতিতে নিজের গণেশ পুজোয় তৃণমূল-কটাক্ষে জল্পনা বাড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক

দিলীপ-মুকুলের উপস্থিতিতে নিজের গণেশ পুজোয় তৃণমূল-কটাক্ষে জল্পনা বাড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক

মাঝে বেশ কিছুদিন তাকে কেন্দ্র করেই সংবাদমাধ্যমের আলোচনা ছিল। বিভিন্ন সময়ে তার দলের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। যার ফলে অনেকেই ধরেই নিয়েছিলেন যে, এবার হয়তো তিনি বিজেপিতে নাম লেখাবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেননি সব্যসাচী দত্ত।

তবে এবার ফের একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধাননগরের এই প্রাক্তন মেয়র। জানা যায়, সল্টলেকের স্যুইমিং পুলের কাছে হওয়া একটি ক্লাবের গণেশ পুজো, যা সব্যসাচী দত্তের পুজো বলেই এলাকায় বেশি জনপ্রিয়।

সূত্রের খবর, সেই পুজোর উদ্বোধনেই সোমবার সকালে মণ্ডপ প্রাঙ্গণে বিজেপি নেতাদের ভিড় লক্ষ করা যায়। শুধু তাই নয়, আশ্চর্যজনকভাবে এদিন সব্যসাচী দত্তের এই পুজোয় উপস্থিত হতে দেখা গিয়েছিল রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষকেও। ছিলেন বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা তথা এই রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেননও। আর এই গোটা ঘটনা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলেও তার থেকে বেশি বিতর্ক তৈরি হল তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের বক্তব্যে।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন এই পুজো উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সব্যসাচী দত্ত কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রের প্রশংসা এবং বনগাঁ -বারাকপুর নিয়ে রাজ্যের সমালোচনা করেন। যেখানে তিনি বলেন, “কাশ্মীরকে কেন্দ্রীয় সরকার শান্ত করে দিয়েছে, কিন্তু, রাজ্যকে এখনও শান্ত করতে পারেনি এখানকার সরকার। এবিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।”

অন্যদিকে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এদিন নিজেদের গণেশ পুজো সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সব্যসাচী দত্ত আরও একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই পুজোয় কোনও সারদা বা নারদার টাকা নেওয়া হয় না। পুজোর জন্য অনুদানও পাওয়া যায় না। নিজেদের পকেটের টাকা থেকেই পুজো করা হয়।” আর এখানেই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

এখনও পর্যন্ত এই সব্যসাচী দত্ত তৃণমূলের বিধায়ক। ফলে নিজের পুজোয় তৃণমূলের কেউ না আসলেও যেভাবে বিজেপি নেতাদের ভিড় দেখা গেল, তাতে সেই সব্যসাচী দত্তের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিতে শুরু করেছে। তবে এই ব্যাপারে সব্যসাচী দত্ত অবশ্য বলছেন যে, তিনি বিধাননগরের সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরদেরও এই পুজোয় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ সল্টলেকের বাসিন্দা। আর তাই তিনি দীলিপবাবুকে এই পুজোয় আসবার জন্য নেমন্তন্ন করেছেন।

কিন্তু এত পর্যন্ত সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলেও যেভাবে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রের প্রশংসা এবং রাজ্যের বনগাঁ, ব্যারাকপুর নিয়ে পরোক্ষে নিজের দলকেই যেভাবে খোঁচা দিলেন তৃণমূল বিধায়ক, তা নিয়ে বিতর্ক কিন্তু ক্রমশ দানা বাধতে শুরু করেছে। যে বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়ে এই পুজোতে উপস্থিত বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “এমএলএ’র পুজো নয়, তিনি গণেশ পুজোর উদ্বোধনে এদিন এখানে এসেছেন। এখন চারিদিকের রঙ কীরকম এক হয়ে যাচ্ছে। আশা করব শীঘ্রই মনও মিশে যাবে।”

আর দিলীপ ঘোষের এই কথাতেই এবার শুরু হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি এবার যবনিকার পতন হবে! তৃনমূলের সব্যসাচী দত্ত যোগ দেবে বিজেপিতে? এই ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তবে নিজেদের দলের বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের এহেন বিতর্কিত মন্তব্য সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “বাইরে থেকে অনেক দুষ্কৃতী এসে এই রাজ্যটাকে অশান্ত করছে। সেই দুষ্কৃতীদের সাহায্য করছে এখানকার কেউ কেউ। রাজ্য সরকার সব দুষ্কৃতীদের তাড়িয়ে, শীঘ্রই এই রাজ্যকে শান্ত করবে।”

তাহলে কি এবার তৃণমূলও সব্যসাচী দত্তকে বিদায় জানানোর তোড়জোড় শুরু করে দেবে! গণেশ চতুর্থীতে এখন এই সমস্ত জল্পনা নিয়েই ঘোরালো হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!