এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দিলীপ ঘোষের ঘোষণায় ঘুম ছুটল কি তৃণমূলের, জোর জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে

দিলীপ ঘোষের ঘোষণায় ঘুম ছুটল কি তৃণমূলের, জোর জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে যাতে ব্যাপকসংখ্যক আসন নিজেদের দখলে রাখা যায়, তার জন্য প্রবল মাত্রায় প্রচার করেছিল গেরুয়া শিবির। আর তার জন্য নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ রাজ্যে এসে প্রচার করে তৃণমূলের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছিলেন। আর বাংলায় বিজেপি ভালো ফলাফল করার জন্য চেষ্টার যে কোনো ত্রুটি রাখেনি, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনই।

গত 2014 সালে তৃণমূল বাংলা থেকে 34 টা আসন পেলেও এবার তাদের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে 22 টিতে। যার কারণ হিসেবে বিজেপি 2014 সালে 2 টি আসন থেকে 2019 এ তাদের আসন সংখ্যা 18 করে নিয়েছে। আর রাজ্যে বিজেপি ভালো ফলাফল করার পরই দিকে দিকে দলবদলের হিড়িক পড়ে যায়।

তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা তথা বঙ্গ বিজেপির চাণক্য মুকুল রায়ের হাত ধরে একাধিক তৃণমূলের বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের সদস্য পদ্ম শিবিরে যোগ দিতে শুরু করে। যার ফলে অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়ে ঘাসফুল শিবির। কিছুদিন আগেই রাজ্যের তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেসের প্রায় 107 জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিতে পারে বলে দাবি করেছিলেন বঙ্গ বিজেপি চাণক্য মুকুল রায়।

তবে সেইভাবে দিল্লিতে বিজেপির তরফে অন্য দল থেকে বিধায়ক, কাউন্সিলার এবং জনপ্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে আনার রেওয়াজ সাম্প্রতিককালে দেখা যায়নি। যার কারণ হিসেবে সংঘের আপত্তির জন্যই মুকুল রায় এই দল ভাঙানোর কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেননি বলেও দাবি করেছিল রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

কেননা লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বিপ্লব মিত্র এই দুই ব্যক্তি বিজেপিতে যোগদান করার পরই আদি বিজেপি কর্মীরা দলে বেনোজল ঢুকছে বলে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল। আর এরপরই দলবদলের পালাকে স্তব্ধ রাখতে দেখা যায় বিজেপি নেতৃত্বকে। কিন্তু যদি কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যা দলে না বাড়ে, তাহলে দল ক্ষমতায় আসবে কি করে! কর্মী তো আকাশ থেকে গজিয়ে পড়বে না!

এই ব্যাপারে দলবদলের পক্ষে যখন সওয়াল করতে দেখা যাচ্ছে একাধিক বিজেপি নেতা এবং কর্মীদের, ঠিক তখনই এই অন্য দল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিজেপিতে আসার ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এতদিন দলবদল নিয়ে এবং দলে বেনোজল ঢুকছে বলে একাংশ যে অভিযোগ করত, এদিন তার সমস্ত কিছুতেই জল ঢেলে দিয়ে তিনি।

সূত্রের খবর, দু’দিনের চিন্তন বৈঠক শেষে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের দলের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। এখন বিজেপি দলে যে কেউ যোগদান করতে পারে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের দ্বারা তাকে দলীয় কার্যবিধি শেখানো হবে।” আর দীলিপবাবুর এই মন্তব্যেই এবার রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

অনেকেই বলছেন, এতদিন মুকুল রায় অন্য দল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিজেপিতে যোগদান করিয়ে তৃণমূলের পাশাপাশি রাজ্যের বাম এবং কংগ্রেস দলের ঘুমও উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে মাঝে তা বন্ধ থাকায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছিল সেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সহ বাম এবং কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলো।

কিন্তু এবার সেই দলবদলের প্রক্রিয়া যে ফের শুরু হতে চলেছে, তা কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ফলে রাজ্য বিজেপির প্রধান সেনাপতির এই ঘোষণায় তৃণমূলের যে অস্বস্তি ক্রমশ আসন্ন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত প্রায় প্রত্যেকেই। তবে সেই অস্বস্তির পরিমাণ ঠিক কতটা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

Top
error: Content is protected !!