এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দাবি সত্যি নাকি সন্দেহের বীজ বুনতেই মাস্টার স্ট্রোক দিলেন দিলীপ ঘোষ জল্পনা

দাবি সত্যি নাকি সন্দেহের বীজ বুনতেই মাস্টার স্ট্রোক দিলেন দিলীপ ঘোষ জল্পনা

রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সর্বদাই বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সংবাদ শিরোনামে থাকেন। কখনো প্রকাশ্য সভায় পুলিশকে মারধর করার হুমকি কিংবা শাসকদলের নেতাকর্মীদেরকে হুঁশিয়ারি সবকিছুই তাকে কর্মীদের আরো কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

শুধু এটাই নয় রসিকতা করতে তিনি পিছপা হন না।মুকুল রায়কে চাটনি বলে সম্বোধন করা, কয়েকদিন আগেই তার দলে যোগ দেওয়া শোভন বাবু ও বৈশাখী দেবীরকে নিয়ে ডাল ভাতের সঙ্গে তুলনা, নতুন বৌ বলা এই সবকিছু তাকে বিখ্যাত করেছে।

রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বাংলা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটু একটু করে বিজেপি বাংলায় বাড়তে শুরু করেছে। বাংলায় বিজেপি দুটি আসন থেকে ক্রমে 18 টি আসন পেয়েছে। আর এর পরেই বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য হলো 2021 এর পুরো বাংলা দখল করা আর। যে কারণে তৃণমূলকে ভেতর থেকে ফাঁকা করে দেওয়ার খেলায় নেমেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

নেতা-নেত্রী বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছে। এদিকে দীলিপবাবু শুধু না রাজ্যের অন্যান্য বিজেপি নেতা এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছেন তৃণমূল থেকে অনেক নেতা মন্ত্রী ,সংসদ, বিধায়ক বিজেপিতে আসার জন্য যোগাযোগ করছেন। ফলে তৃণমূলের সবাইকে নিয়ে একটা সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে তার কারণ তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা আজকে তৃণমূলে আছি, থাকবো বলার পরেও পরেরদিনই বিজেপিতে যোগদান করছেন এমন বহু উদাহরণ রয়েছে।

যে কারণেই সামান্যতম বিজেপি যোগের আভাস পেলেই আর তার উপর ভরসা রাখতে পারছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের খুব খারাপ ফল হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব প্রশান্ত কিশোর কে তাদের দলের দায়িত্ব দিয়েছেন। যাতে 2021 এ ফের তারা ক্ষমতায় আসতে পারেন। সেই মতো কাজও চলছে কিন্তু বিজেপি যোগের সন্দেহ থেকে এখনো বের হতে পারেনি তৃণমূল। আর এরই মাঝে ফের সন্দেহের বীজ বুনলেন দিলীপবাবু।

এদিন দিলীপ বাবুর একটি দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। দাবিটি হল তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র দিলীপ বাবুকে ফোন করেছেন এবং প্রথমে ব্যস্ত থাকার জন্য তিনি সেই ফোন ধরতে না পারলেও পরে দিলীপবাবু ইমাম মহুয়া মৈত্রকে ফোন করেন আর সেখানে ফোনে দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুরোধ জানান কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।

বুধবার এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “মহুয়ার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়। অন্য কথার ফাঁকে তিনি আমাকে তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দেবশ্রী মনকষ্টে আছেন, আমি যেন দেখা করি।”যা ঘিরেই রাজনৈতিক মহল তোলপাড়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

প্রসঙ্গত দেবশ্রী রায় বিজেপিতে যোগ দিতে দিল্লির সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন কিন্তু সেদিনই শোভনবাবু ও বৈশাখীদেবী বিজেপিতে যোগদান করেন যে কারণে তাদের আপত্তির জন্য বিজেপিতে দেবশ্রী রায় যোগদান করতে পারেননি। আর এখনও তাদের আপত্তির জন্যই দেবশ্রী রায়ের বিজেপিতে যোগদান আটকে আছে। সেই প্রসঙ্গে নাকি কথা বলার জন্য তাঁকে অনুরোধ জানিয়েছেন এমনটাই দাবি তুলেছেন দিলীপবাবু।

যদিও বিষয়টিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে মহুয়া মিত্র দাবি করেছেন এটা কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য? দিলীপবাবু রসিক মানুষ উনি রসিকতা করে থাকলে আমি কি করতে পারি ফলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনাকে সত্যি কথা বলছেন? দিলীপবাবু না কি মহুয়া মৈত্র?

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে দীলিপবাবুর দাবি যদি সত্যি হয় তাহলে অনেকগুলো প্রশ্ন উঠছে।

সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরমহলে।

কেননা যদি দীলিপবাবুর দাবি সত্যি হয় তবে দেবশ্রী রায়কে বিজেপিতে যোগদান করিয়ে মহুয়া মৈত্র কি লাভ? তবে কি তিনি দিলীপবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন? আর তাঁর সাথে যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক রয়েছে মহুয়া মৈত্রর? যে কারণে তিনি অনুরোধ করতে পারেন দেবশ্রী রায়কে যেন দিলীপবাবু তাদের দলে নেন?

 

অন্যদিকে আরেকটি প্রশ্ন উঠছে যদি মহুয়া মৈত্র সত্যি কথা বলেন  দীলিপবাবু রসিকতা করেছেন। তবে মেনে নিতে হয় যে দীলিপবাবু তবে এটা মাস্টার স্ট্রোক দিলেন। কেননা সেটি হল তৃণমূলের হয়ে সংসদে সওয়াল জবাব করছেন একমাত্র মহুয়া মৈত্র। তাঁর ক্ষুরধার আক্রমণ ও যুক্তি পাল্টা যুক্তির পাশে টিকতে পারছে না বিরোধীরা। তৃণমূল তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে আর সেই কারণেই এ দিন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ তাকে ফোন করার কথা বলে মহুয়া মৈত্রর ইমেজ খারাপের চেষ্টা করলেন এবং তৃণমূলের অন্দরে সন্দেহের বীজ বুনে দিলেন জল্পনা এখন সেই নিয়েও।

তবে সে যাই হোক দীলিপবাবুর এই দাবি নিয়ে খুশি বিজেপি শিবির। তাদের হঠাৎ করে মিথ্যা কথা কেন বলতে যাবেন দিলীপবাবু। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি বিজেপি সর্বদা মিথ্যা কথা বলে মহুয়া মিত্রের নামেও এইভাবে মিথ্যা কথা বলছে বিজেপি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!