এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দিলীপ ঘোষের হাওয়া কাটতে দশেরাতেও খড়্গপুরে মাটি কামড়ে শুভেন্দু, তবুও সামনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

দিলীপ ঘোষের হাওয়া কাটতে দশেরাতেও খড়্গপুরে মাটি কামড়ে শুভেন্দু, তবুও সামনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

আর কিছুদিন পরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের বর্তমান বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষের ছেড়ে যাওয়া খড়গপুর আসনে বিধানসভা উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।অতীতে এই আসনটি বিজেপি দখল করলে এবার সেই আসনে ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল। যার জন্য এখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের নেতা তথা রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। পুজো থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দিলীপ ঘোষকে টেক্কা দিতে মাঝেমধ্যেই মেদিনীপুর সফর করছেন শুভেন্দুবাবু। যে ক্ষেত্রে এই লড়াইটা আর তৃণমূল বনাম বিজেপির লড়াই নেই, খড়্গপুরের লড়াইটা দিলীপ ঘোষ বনাম শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ে দাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

কিন্তু বরাবরই বিভিন্ন লড়াইয়ে জয়লাভ করে এসেছেন দিলীপ ঘোষ। আর এবার খড়গপুরে প্রায় দু লক্ষ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে দশেরা উৎসবে সামিল হলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিগত ১৯২৫ সাল থেকে এখানে রাবহদহন হলেও গতবছর থেকে তাতে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীকে।

জানা যায়, একসময় খড়্গপুরের ব্যবসায়ীরা এই উৎসব পালন করতেন। তখন এই অনুষ্ঠানে রাজনীতির কোনো রং না থাকায় সামাজিক অনেক বিশিষ্টজন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু বর্তমান বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ যখন পুলিশ সুপার ছিলেন, তখন থেকেই এই অনুষ্ঠানে কিছুটা বদল আসতে শুরু করে। তৎকালীন মেদিনীপুরের সাংসদ প্রবোধ পন্ডা অনুষ্ঠান মঞ্চে থাকায় ভারতীদেবী সেখানে উপস্থিতই হননি। তবে তারপর অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন ভারতী ঘোষ বিজেপি নেত্রী। তৃনমূলের সঙ্গে এখন তার আদায় কাঁচকলার সম্পর্ক।

পাশাপাশি মেদিনীপুরের খড়গপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে ঘাসফুল ফোটাতে বিজেপির দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে জোর লড়াই শুরু করেছেন তৃণমূলের শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি এই রাবণ দহন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক রশ্মি কমল, মেদিনীপুরের ডিআইজি সুকেশ জৈন, পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার, জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি অজিত মাইতি, পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকার সহ অন্যান্যরা। তবে দিলীপ ঘোষকে টেক্কা দেওয়ার জন্য শুভেন্দু অধিকারী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তৃণমূলের পক্ষে সমর্থন আনার চেষ্টা করলেও তা কার্যত অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেল বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। কারণে বিরোধী দলের রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারী লড়াই করার কথা বললেও এদিনের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এই অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকলেও দেখা যায়নি শহর তৃণমূলের সভাপতি রবিশংকর পান্ডে এবং জেলা তৃনমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা কাউন্সিলার দেবাশিস চৌধুরীকে। তবে এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মিনি ইন্ডিয়ায় সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছেন। দুই থেকে আড়াই লক্ষ মানুষ এসেছে। এটা খড়্গপুরের মানুষের প্রাণের উৎসব। আজ অশুভ শক্তির বিনাশ, অশুভ শক্তির উত্তরণ হল। সমস্ত মানুষের মঙ্গল হোক। আগামী বছর আরও ভালো করে এই অনুষ্ঠান হবে।”

এদিকে রাবন দহন অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী অশুভ শক্তি নিধনের কথা বললেও গোটা অনুষ্ঠানকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি গেরুয়া শিবিরের নেতারা। এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা বিজেপির সহসভাপতি গৌতম ভট্টাচার্য বলেন, “খড়্গপুরের এই দশেরা উৎসব তৃণমূল হাইজ্যাক করেছে। রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। সমস্ত কিছুর মধ্যে তৃণমূল রং লাগাতে চাইছে। তবে রাবনে অগ্নিসংযোগের পর যেভাবে সবাই জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়েছেন, তাতে প্রমাণ হয় অনুষ্ঠান হাইজ্যাক করলেও তৃণমূল মানুষকে হাইজাক করতে পারেনি। মানুষ আমাদের সাথেই আছেন।”

সব মিলিয়ে দিলীপ ঘোষকে দমাতে শুভেন্দু অধিকারী রাবণদহন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা আনতে চাইলেও যেভাবে তৃণমূলের দুই নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেন, তা নিয়ে বিরোধী দলকে দমন করা তো দূরঅস্ত, বরঞ্চ তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও বেশি করে প্রকাশ্যে চলে এল বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

আপনার মতামত জানান -
Top