এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দুর্গাপুজোয় “সুপারহিট”! কালীপূজোতে ক্রমশ আগ্রহ বাড়ছে রাজ্যপাল থেকে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে!

দুর্গাপুজোয় “সুপারহিট”! কালীপূজোতে ক্রমশ আগ্রহ বাড়ছে রাজ্যপাল থেকে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে!


বাঙালীর প্রিয় উৎসব শারদ উৎসবকে হাতিয়ার করে কোন ক্লাবের পুজো কে উদ্বোধন করবে, তা নিয়ে রীতিমতো ধুন্দুমার লড়াই বেঁধেছিল তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে অনেকটা চাপে রাখার মত ফলাফল করে যে ক্লাবগুলোতে তৃণমূল রাজ করত, তার মধ্যে অনেক নামিদামি ক্লাবেই অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে।

পাশাপাশি অনেক দুর্গামন্ডপ উদ্বোধন হয়েছে সেই দীলিপবাবুর হাত ধরে। যা তৃণমূলকে অনেকটা ভাবাতে শুরু করেছিল। তবে এবার শক্তির আরাধনায় আরও কোমর বেঁধে নেমেছে গেরুয়া শিবির। শারদৎসবে সামান্য হলেও তৃণমূল তাদের টেক্কা দিলে মা কালীর আরাধনায় যাতে তারাই এগিয়ে থাকে, তার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবির বলে মত একাংশের।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কালীপুজো উদ্বোধনের ব্যাপারে নানা ক্লাব থেকে বিজেপির হেভিওয়েট নেতা, সাংসদদের কাছে নানা আবেদন আসতে শুরু করেছে। যেখানে সব থেকে বেশি এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিং, সায়ন্তন বসু, নীশিথ প্রামাণিকরা।

তবে ভুরি ভুরি আবেদন কালী পুজো উদ্বোধনের ব্যাপারে বিভিন্ন ক্লাবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে জমা পড়লেও বর্তমানে “গান্ধী সংকল্প যাত্রা” নামক বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থাকায় এখনও সেই উদ্বোধনের ব্যাপারে কোনোরূপ কথা দিচ্ছেন না বিজেপি নেতারা। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “দুর্গাপুজোর মত কালীপুজোতেও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সল্টলেকের এসি ব্লকে বাসিন্দাদের অনুরোধ এবার বড় পূজো করছি।”

এদিকে এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্যতম সম্পাদক তথা ক্লাব রিলেশন সেলের পর্যবেক্ষক তুষারকান্তি ঘোষ বলেন, “দুর্গাপুজোর সঙ্গে কালীপুজোর অনেক ফারাক রয়েছে। দুর্গাপুজোয় বহুদিন আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। চারদিন বেশি সময় ধরে সেই উৎসব চলে। চলতি বছর রাজ্যজুড়ে বিজেপির বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীরা 500 দুর্গাপুজো উদ্বোধন করেছেন। এবারের কালীপুজোতেও সমানভাবে বিজেপি নেতাদের চাহিদা রয়েছে।”

তবে কালীপুজো উদ্বোধনের ব্যাপারে শুধু বিজেপির কাছে আবেদনপত্র জমা পড়ার মত ঘটনাই নয়, এবারে আশ্চর্যজনক ভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, রাজভবনের প্রধান ব্যক্তি তথা রাজ্যের রাজ্যপালও কালীপুজো উদ্বোধনের ব্যাপারে সবুজসংকেত দিয়েছেন।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

বস্তুত, এতদিন রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী দুর্গাপুজোতে অংশ নিলেও রাজ্যের কালীপুজো উদ্বোধন করতে তাকে দেখা যেত না। কিন্তু এবার সেই প্রথা ভেঙে রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের কাছে একাধিক ক্লাবের তরফ সেই কালীপুজো উদ্বোধনের জন্য আবেদন আসলে ইতিমধ্যেই তিনি দুই-একটি ক্লাবের উদ্বোধনের ব্যাপারে সবুজসংকেত দিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আর একদিকে রাজ্যের রাজ্যপাল আর অন্যদিকে বিজেপি – শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কিছুটা বিরোধীদের কাছে কালীপুজো উদ্বোধন নিয়ে ভুরি ভুরি আবেদনপত্র জমা পড়ায় এখন অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

কেননা পশ্চিমবঙ্গের ক্লাব রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে দুর্গাপুজোর পর কালীপূজোয় শক্তি আরাধনায় উদ্বোধনের দিক থেকে যদি এখন থেকে বিজেপি নেতাদের কাছে ভুরিভুরি আবেদনপত্র জমা করতে শুরু করে, তাহলে তা যে ভোট রাজনীতির ক্ষেত্রে তৃণমূলের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা।

তবে শেষ পর্যন্ত রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান এবং বিজেপি নেতারা কতগুলো কালীপুজোর উদ্বোধন করেন এবং তাঁকে টেক্কা দিতে তৃণমূল আদৌ সমর্থ হয় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!