এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুকুল রায়ের কোনও কনট্রিবিউশন নেই, রেপুটেশন নেই! শোভন এখন জিরো হয়ে গেছে! বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

মুকুল রায়ের কোনও কনট্রিবিউশন নেই, রেপুটেশন নেই! শোভন এখন জিরো হয়ে গেছে! বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

এই মুহূর্তে রাজ্য-রাজনীতির অন্যতম চর্চিত ব্যক্তির নাম দিলীপ ঘোষ। রাহুল সিনহার মত হেভিওয়েট নেতাকে সরিয়ে দিয়ে তাঁকে বঙ্গ-বিজেপির রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল। আর সেই গুরু দায়িত্ব নিয়েই, তিনি প্রথমে খড়্গপুর-সদর থেকে জিতে বিধায়ক হন, আর এরপরে সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর থেকে জিতে সাংসদ হন। তবে রাজ্য সভাপতি হিসাবে শুধু নিজে জেতাই নয় – তাঁর আমলেই বিজেপি বাংলায় প্রথম ৩ বিধায়ক ও ১৮ সাংসদ পায়।

উপনির্বাচনে জিতে ও দলবদল করে সেই বিধায়ক সংখ্যা এখন ১৩-তে পৌঁছে গেছে। বিজেপিও নিজেদের ভোট বৃদ্ধি করে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন গেরুয়া শিবির স্বপ্ন দেখছে – রাজ্যের শাসকদল হওয়ার। কিন্তু দিলীপবাবুর ‘মুকুটে’ এত কৃতিত্ত্ব থাকলেও, তিনি মুখ খোলা মানেই বিতর্ক! কখনো দলীয় নেতা মুকুল রায়কে ‘চাটনি’ বলছেন, তো কখনও বিরোধীদের পেটানোর কথা জানাচ্ছেন! কখনো পুলিশকে হুমকি দিচ্ছেন, তো কখনও তৃণমূল নেতাদের জেলে পোড়ার।

আর এবার, এক প্রখ্যাত সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বোধহয় – এযাবৎ কালের সবথেকে বড় বিতর্ক বাঁধিয়ে বসলেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারে, মুকুল রায় থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায় – সকলকেই ‘যাচ্ছেতাই’ করে অপমান করা থেকে শুরু করে, নিজের বিতর্কিত কথা বলার কারণ – সব কিছু নিয়েই তিনি ছিলেন অকপট ছিলেন এমনটাই দাবি কলকাতার এক ওয়েব পোর্টালের। আর বিতর্কিত সেই সাক্ষাৎকার সামনে আসতেই – গোটা রাজ্য-রাজনীতিতে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটে গেছে। গেরুয়া শিবির তো বটেই, দিলীপবাবুর কথার তোড়ে উথালপাতাল সমগ্র রাজনৈতিক মহলই।

ওই ওয়েব পোর্টালের দাবি অনুযায়ী,সেই সাক্ষাৎকারে দিলীপবাবু দলীয় নেতা মুকুল রায়কে রীতিমত হেয় করে জানিয়েছেন – ‘মুকুল রায়ের কোনও কনট্রিবিউশন নেই, রেপুটেশন নেই’! এখানেই শেষ নয় – তিনি আরও জানিয়েছেন – ‘(মুকুল রায়ের সঙ্গে) কোনও সংগঠন বা কর্মী নেই! যাঁরা মুকুল রায়ের সঙ্গে ঘোরে তাঁরাও সব দালাল, কাটমানি পার্টি!’ এই প্রসঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, মুকুলবাবু নাকি তাঁকে কথা দিয়েছিলেন ৫০ হাজার লোক নিয়ে আসবেন, কিন্তু বাস্তবে ৫০০ লোকও নাকি আনতে পারেননি!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

দিলীপবাবু জানিয়েছেন, মুকুল রায় যাঁদের এনেছেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র অর্জুন সিংই ‘অ্যাসেট’! তিনি না প্রার্থী হলে ব্যারাকপুরে বিজেপি জিততে পারত না! কিন্তু, একইসঙ্গে অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ – তিনি নাকি দলীয় গঠনতন্ত্র মানেন না, নিজের ‘স্টাইলেই’ চলেন! তবে, অর্জুন সিংয়ের যেটুকু আছে, সেটুকুও নাকি মুকুল রায়ের নেই! মুকুল রায়ের থেকে কুচবিহারের নবীন সাংসদ নিশীথ প্রামানিকের গুরুত্ত্ব অনেক বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওই সাক্ষাৎকারে দিলীপবাবুর ‘রোষানল’ থেকে বাদ যান নি, সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া আরেক হেভিওয়েট নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ও। শোভনবাবুকে ‘জিরো’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি – তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ। শোভনবাবু নাকি বৈশাখীদেবীর হাতে ‘কব্জা’ হয়ে রয়েছেন! এমনকি বৈশাখীদেবীর ‘কব্জা’ থেকে বেরোতে না পারলে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে যে বিজেপির কোনো কাজে লাগবে না – সে কথাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

এর পাশাপাশিই ওই সাংবাদিকের করা প্রশ্নের উত্তরে দিলীপবাবু জানিয়েছেন, তিনি ‘বিতর্কিত কথা’ অত্যন্ত ‘সচেতন ভাবেই’ নাকি বলেন। তাঁর যুক্তি, তিনি বিতর্কিত কথা বললে ‘মিডিয়া দেখায়’ – ফলে তাঁর তো বটেই, এরফলে বিজেপিরও নাকি ‘প্রচার’ হয়! তিনি আরও যুক্তি দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে ‘বিতর্ক এড়িয়ে গেলে হবে না’! তাঁর গাড়ি ভাংচুর হলে যে ‘গন্ডগোল’ হয় তা নাকি জেনেশুনেই তিনি এড়িয়ে যান নি! কেননা তাঁর মতে – ‘বিতর্কের মধ্যে থাকলে প্রচার পাওয়া যায়, সেটা আমাদের দরকার আছে’!

দিলীপবাবুর এহেন বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারের পরে স্বাভাবিকভাবেই সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। আজ মুকুল রায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে যাওয়ায়, এই নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। প্রতিক্রিয়া নেই অর্জুন সিং বা শোভন চট্টোপাধ্যায়েরও। তবে, মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ শিবিরের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে দেখা গেল – রীতিমত ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা। এই মুহূর্তে কেউই এই সংবেদনশীল ব্যাপার নিয়ে নাম প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না। তবে তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনা যদি সত্যি হয়, তবে এই নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্বের কাছে রিপোর্ট যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দাপুটে নেতা তো বলেই দিলেন, এই ঘটনা সত্যি হলে তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্ব মোটেই ভালোভাবে নেবেন না! এই নিয়ে কড়া কিছু ব্যবস্থা হতেই পারে!

যদিও এই খবরের সত্যতা বা সূত্র সম্পর্কে ওই ওয়েব পোর্টালে কিছু লেখা নেই, প্রিয়বন্ধু বাংলার তরফেও এই খবরের সত্যতা যাচাই করে দেখা সম্ভব হয় নি। এই প্রবন্ধ সম্পূর্ণরূপে ওই পোর্টালে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে করা, কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বা কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে রচিত নয়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!