এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > এখনো সময় আছে, সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ন্যায্য প্রাপ্য মিটিয়ে দিন, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন: দিলীপ ঘোষ

এখনো সময় আছে, সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ন্যায্য প্রাপ্য মিটিয়ে দিন, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন: দিলীপ ঘোষ

দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া ডিএ ও কেন্দ্রীয়হারে বেতন না পেয়ে ক্ষোভের পরিমান আকাশ ছুঁয়েছে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের। দিকে দিকে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্নভাবে আন্দোলন করছে দলমত নির্বিশেষে। এমনকি, এই নিয়ে মুখ খুলে বদলি হতে হয়েছে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতাকে। বিরোধীদের অবস্থাও তথৈবচ।

আর এইসবের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ আজ যেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চিত হবার যন্ত্রনা মিলিয়ে দিলেন এক জায়গায়। আজ ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেলে’ সরকারী কর্মচারী পরিষদ, ওয়েষ্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ কর্মচারী পরিষদ, বিজেপি টিচার্স সেল, বিদ্যুৎ কর্মচারী পরিষদ, ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেনড টিচার অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য সংগঠনের ডাকে এক অভিনব ধর্ণা কর্মসূচি ছিল।

সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপবাবু বলেন, একটা সরকার সাফল্যের দাবি তখনই, করতে পারে যখন তারা নিজেদের সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা-গন্ডাটা মিটিয়ে দেয়। কিন্তু, দুঃখের কথা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্য সরকার, সরকারি কর্মচারী সমাজ ও শিক্ষক সমাজকে এতখানি বঞ্চনায় রেখেছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের প্রাপ্য পিআরটি স্কেল দিচ্ছে না – তাই এই সরকারকে আর যায় বলা যাক, সফল কিছুতেই বলা যায় না।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

দিলীপবাবু আরও বলেন, ভারতবর্ষের আর একটা রাজ্য দেখান – যেখানে এত্ত বঞ্চনা আছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলে তিন রাজ্যে আমরা হেরে গেছি – কিন্তু, সেখানেও রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের পাওনা গন্ডা মিটিয়ে দিতে আমরা কোন কার্পণ্য করি নি। ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসার আগে আমাদের অ্যাজেন্ডাই ছিল – কেন্দ্রীয় হারে পে-কমিশন দেওয়া, যা আমরা ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই রেখেছি।

এরপর ক্ষোভের সঙ্গে দিলীপবাবুর বক্তব্য, আর এখানে সাড়ে তিন বছর হতে চলল পে-কমিশনের রিপোর্টটাই পেশ হল না! আসলে এখানকার রাজ্য সরকার সবদিক থেকে ব্যর্থ! এখানকার সরকার, নিজের কর্মচারীদের ও শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা দিতে ব্যর্থ, শিল্পস্থাপনে ব্যর্থ, কর্মসংস্থানে ব্যর্থ। এই সরকার সফল – তবে তোলাবাজিতে, খুনোখুনিতে, ধর্ষণে বা কর্মচারীদের বঞ্চনায় খুব সফল। আর এই নিয়ে আন্দোলন করলে – পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার, দার্জিলিঙে বদলি করা হচ্ছে!

ষষ্ঠ বেতন কমিশনের পুনরায় ৬ মাসের জন্য মেয়াদ বর্ধিত করার নোটিশ পুড়িয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকরা।

এরপরেই বিজেপি রাজ্য সভাপতির ঘোষণা, এগুলো আমরা কিছুতেই মেনে নেব না। আমরা বলছি, এখনো সময় আছে, এনাদের ন্যায্য প্রাপ্য মিটিয়ে দিন আর বাংলায় গণতন্ত্র স্থাপন করুন। অন্যথায়, আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। আজকের কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। যদিও খারাপ আবহাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা আগেই কর্মসূচি শুরু করতে হয়। তবুও, দিলীপবাবুর বক্তব্যের সময়ে রীতিমত হাততালির ঝড় উঠেছে।

দিলীপবাবু ও অন্যান্য হেভিওয়েট গেরুয়া শিবিরের নেতাদের বক্তব্যের পরে সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশীষ শীল ঘোষণা করেন, রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ন্যায্য প্রাপ্য অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া না হলে আগামী দিনে সপরিবারে ধর্নায় বসা হবে রাজ্য সরকারের ঘুম ভাঙাতে। এরপর বিভিন্ন অভাব অভিযোগে থালা বাজিয়ে অভিনব প্রতিবাদ দেখান উপস্থিত সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকরা। সবশেষে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের পুনরায় ৬ মাসের জন্য মেয়াদ বর্ধিত করার নোটিশ পুড়িয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয় উপস্থিত সংগঠনগুলির তরফে।

বিভিন্ন অভাব অভিযোগে থালা বাজিয়ে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের।
আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!