এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > লোকসভা নিয়ে “চমকে দেওয়া” দাবি দিলীপ ঘোষের, পাল্টা দিলেন পার্থ চ্যাটার্জিও

লোকসভা নিয়ে “চমকে দেওয়া” দাবি দিলীপ ঘোষের, পাল্টা দিলেন পার্থ চ্যাটার্জিও

রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রার প্রসঙ্গে কদিন আগেই যুব তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “ওরা থাকবে রথে, আর আমরা থাকবো পথে।” এবার সেই রথ আর পথ দুই শিবিরের দুই নেতার মধ্যেই চরমে উঠল রাজনৈতিক বিবাদ। আর এই সমস্ত বিবাদ- তরজা যে আগামী লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে তা বুঝতে বাকি নেই বাংলার জনগণের। আর তাইতো ঘাস এবং পদ্ম শিবিরের নেতাদের এই তরজা উপভোগ করছেন সকলেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অসমে এনআরসির নাম করে 40 লক্ষ্য নাগরিককে রাজ্য ছাড়া করার প্রতিবাদে প্রথম থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি এই রাজ্যেও এনআরসি প্রয়োগ করা হবে বলে পরোক্ষে বিজেপি নেতারা হুমকি দিলে পাল্টা সেই ব্যাপারে তোপ দাগেন রাজ্যের শাসকদলের নেতারাও।

বস্তুত, প্রথম থেকেই এই মতুয়া মহাসঙ্ঘের একটা বড় ভোট রয়েছে তৃণমূলের। লোকসভা ভোটের আগে সেই তৃণমূলের ভোটব্যাংকে ধ্বস নামাতেই এদিন উদ্যোগী হলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী গিরিরাজ সিং। সূত্রের খবর, গতকাল নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সমর্থন পেতে বিজেপির এই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যতদিন কেন্দ্রে বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদী আছেন ততদিন মতুয়াদের নাগরিকত্ব কেউ কাড়তে পারবে না।”

পাশাপাশি ভোটে জিতে মতুয়াদের ধোঁকা দিয়েছে তৃণমূল বলেও এদিন মন্তব্য করেন এই বিজেপি নেতা। অন্যদিকে গিরিরাজ সিংহের এহেন বক্তব্যের পাল্টা সেই গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশ্যে খোঁচা দিয়েছেন উত্তর 24 পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

তিনি বলেন, “বিজেপি আগে বলুক, অসম থেকে 12 লক্ষ মতুয়াকে তারা কেন তাড়িয়ে দিচ্ছে! এখানে এসে মতুয়াদের ভুল বুঝিয়ে কোন লাভই ওরা করতে পারবে না।” পাশাপাশি এই মতুয়া মহাসঙ্ঘের সকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আছেন বলে আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে মতুয়াদের পাশে ঠিক কারা আছে এই নিয়ে যখন দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন রাজ্যে তৃণমূল এবং কেন্দ্রের বিজেপির দুই মন্ত্রী! ঠিক সেইসময়ই আগামী লোকসভা ভোটে এই বাংলা থেকে তারা ঠিক কত আসন পাবে তা নিজের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন দক্ষিন চব্বিশ পরগনার গোসাবার এক জনসভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “আগামী লোকসভা ভোটে ২২ টি নয়। আমরা 26 টি আসন জিতবো।”

পাশাপাশি জয়নগর লোকসভা এবং গোসাবায় পদ্মফুল ফোটার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বরে রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রায় তৃণমূলের হামলা হতে পারে বলে এ দিন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্য বিজেপির দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসুরা। আর দিনের শেষে বিজেপির এহেন সমস্ত কটাক্ষের জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও।

আগামী লোকসভা এই রাত যে 26 টি আসন পাওয়া প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের দাবি নিয়ে এদিন তৃণমূল মহাসচিব তথা রাজ্যে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এর আগে বলেছিল লোকসভায় ২২ টি আসন জিতবে। আর এখন বলছে 26 টা আসন। আসলে আকাশ কুসুম কল্পনায় ওদের জুড়ি মেলা ভার।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

অন্যদিকে ডিসেম্বরের রথযাত্রায় হামলার ব্যাপারে আগাম তৃণমূলের দিকে অভিযোগ তোলায় এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপির রথে কারুর নজর নেই। ওরা নজর কাড়ার জন্যই বিশৃঙ্খলা তৈরীর চেষ্টা করছে। কিন্তু রাজ্যের শাসক দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস উন্নয়নে বাধা সৃষ্টিকারী কোন বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করবে না।” সব মিলিয়ে শীতের মরশুম পড়তে না পড়তেই আগামী লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক বনাম বিরোধীর রাজনৈতিক আবহাওয়ার পারদ চড়তে শুরু করলো।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!