এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > স্টুডেন্টস কাউন্সিলস নির্বাচন নিয়ো বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়

স্টুডেন্টস কাউন্সিলস নির্বাচন নিয়ো বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়

কলেজগুলিতে অরাজনৈতিক ছাত্র সংসদ বা স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠন করা হবে, প্রায় বছর দেড়েক আগে এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। এরপর এবছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেও একবার ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু বক্তব্য এবং বাস্তবায়নের মধ্যে দূরত্ত্বটা অনেক। বারবার নির্বাচন হবে বললেও এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি রাজ্য সরকারকে।

কখনো মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দোহাই দিয়ে নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কখনো আবার পঞ্চায়েত ভোটকে ছুতো করে স্থগিত করা হয়েছে ছাত্র সংসদের নির্বাচন প্রক্রিয়া। বলা হয়েছে পঞ্চায়েত ভোট মিটলেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। কিন্তু সে ভোট মিটে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়ে গেল, তবুও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ স্থির করতে দেখা গেল না প্রশাসনকে। এভাবেই দিনের পর দিন গড়াচ্ছে, এদিকে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে কলেজ পড়ুয়াদের।

কবে হবে এই নির্বাচন? দফায় দফায় প্রশ্ন উঠছে পড়ুয়ামহল থেকে। রাজ্য সরকারের এ ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় মনোভাব দেখে অসন্তোষে ফুঁসছেন তাঁরা। তবে এদিনও মিলল না দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত প্রশ্নের জবাব। এমনকি শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবুর জবাবে কলেজ পড়ুয়ারা আরোও হতাশ হয়ে পড়লেন বলে দাবি কোনো কোনো মহল থেকে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানালেন, আগামী লোকসভা ভোটের আগে কোনোভাবেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আর এর কারণ ব্যাখ্যা করে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা রয়েছে। আর তা শেষ হলেই লোকসভা ভোটের দামামা বাজতে শুরু করে দেবে। এর আগে একবার জল্পনা শুরু হয়েছিল লোকসভা ভোটের আগেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন মেটাবে রাজ্য সরকার। কিন্তু সে সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে পার্থবাবু জানালেন, নির্বাচন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজগুলোর সঙ্গে কথা বলার ছিল। তা করা হয়নি। এছাড়া বছর শেষ হতে আর মাত্র দু মাস বাকি। এই স্বল্প সময়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে। কেন এইভাবে বারবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে এড়িয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার? শিক্ষাদপ্তরের একাংশের মতে, স্টুডেন্টস কাউন্সিলের বিধি নিয়ে সংগঠনগুলোর নানা প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছিল। বেশ কয়েকটি দাবী ছিল – তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কোষাধ্যক্ষের পদে অধ্যাপকের সঙ্গে একজন পড়ুয়া রাখতে হবে, সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদ তৈরি করতে হবে – এছাড়াও ছিল আরো কয়েকটি প্রস্তাব। সূত্রের দাবি, এই দাবীগুলো মানা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি শিক্ষামন্ত্রী।

এছাড়াও বিধিতে আরও কোনো পরিবর্তন করা হবে কিনা সেটাও বিবেচনাধীন রয়েছে। তাই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন – সম্প্রতি কলেজগুলোতে ছাত্রভর্তির নামে তোলাবাজি চালানোর জেরে শাসকদলের ছাত্র শাখার মধ্যে যেরকম সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তাতে ভাবমূর্তি যথেষ্ট নষ্ট হয়েছে তৃণমূলের। তাই নতুন করে এরকম কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি লোকসভা ভোটের আগে তৈরি করতে চাইছে না শাসকদল – তাই নানান ছুঁতোয় ছাত্রসংসদের নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে বারবার।

Top
error: Content is protected !!