এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > দীঘাকে গোয়ার উপরে নিয়ে যেতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী, “জোড়া উপহারের” ঘোষণা বিশ্বস্ত সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারীর

দীঘাকে গোয়ার উপরে নিয়ে যেতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী, “জোড়া উপহারের” ঘোষণা বিশ্বস্ত সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের পর্যটনের উন্নয়নে ফের একাধিক পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সমুদ্র সৈকত দীঘাকে সাজিয়ে তুলতে এক নতুন ঘোষণা করলেন তিনি। সূত্রের খবর, গতকাল দীঘা থেকে কলকাতা থেকে ফেরার পথে হেলিপ্যাড ময়দানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীঘায় থ্রি-স্টার হোটেল ও পরিবহণ দপ্তরের মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং সহ আধুনিক মানের পার্কিং প্লাজা তৈরি এবং জগন্নাথ ঘাটে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের কথা ঘোষনা করেন।

আর এই দুটি প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে তিনি রাজ্যের পরিবহন ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারিকে একটি নির্দেশও দেন। আর দীঘা ছাড়ার আগেই এখানকার বাসিন্দাদের জন্য রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মুখ থেকে এরূপ ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত সকলেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনিক সভায় এখানকার জগন্নাথ ঘাটকে সাজিয়ে তোলার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা যায়, এই জগন্নাথ ঘাটের কাছে কিছু এলাকা এখনো ফাকা অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। আগে ছোট্ট হোগলার ঝুপড়িতে গঙ্গা ও কালী মায়ের পুজো করে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে নামতেন।

সূত্রের খবর, গত 2007 এর 21 শে মার্চ কলকাতার এক পর্যটক দম্পতি এই মন্দিরের সামনে বসে যখন গল্প করছিলেন তখনই তারা জলে কিছু একটা ভাসতে দেখেন। আর তা দেখেই তারা মৎস্যজীবীদের ডাকেন। আর এরপর সকলের প্রচেষ্টায় জল থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষদের সাহায্যে সমুদ্রের পাড়ে একটি জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করে সেখানে জগন্নাথ, মা গঙ্গা, কালী, রাধাকৃষ্ণ ও বাবা লোকনাথের মূর্তি স্থাপন করা হয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

জানা যায়, বর্তমানে দিনে পাঁচবার এর পুজো করা হয়। আর তখন থেকেই এই ঘাটের নামকরণ হয় জগন্নাথ ঘাট। আর এবারে সেই জগন্নাথ ঘাটকে অত্যাধুনিক করে তুলতে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এহেন নির্দেশে উৎসব ছড়িয়ে পড়েছে প্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে। দীঘা যে গোয়ার থেকে কিছু কম নয় তা সম্প্রতি জেলার প্রশাসনিক বৈঠক এসে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বাস্তবেও জেলায় একের পর এক ঐতিহ্যশালী নিদর্শনকে আরও ফুটিয়ে তুলে দীঘাকে গোয়া সমতুল্য করতে উদ্যোগী হলেন তিনি।

আর মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সিদ্ধান্তে এই জগন্নাথ মন্দিরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা তথা মৎস্যজীবী তপন প্রামাণিক বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে খুশি। আমরাও স্বপ্ন দেখতাম পুরীর মতো এখানে জগন্নাথ দেবের মন্দির হোক। মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয়ভাবে প্রশাসনিক বৈঠকে জগন্নাথ মন্দির ও জগন্নাথ ঘাটকে নবরুপে সাজিয়ে তীর্থক্ষেত্র তৈরীর নির্দেশ দিয়েছেন।”

এদিকে এদিন কোলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই জেলার জন্য দুটি উপহার প্রসঙ্গে বললে এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নিউ দীঘা স্টেশনের অদূরে পর্যটন দপ্তরের লারিকা নামে একটি হোটেলের সংস্কারের কাজ চলছে। হোটেলটিকে থেকে থ্রি স্টার হোটেল বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের আদলে জগন্নাথ ঘাটে মন্দির তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে পরিবহণ দপ্তরের তরফে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংসহ আধুনিক মানে পার্কিং প্লাজা তৈরি করা হবে।” এদিকে দীঘা ছাড়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ঘোষণায় এখন উচ্ছ্বসিত সকলেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেরই আশা, প্রশাসনিক প্রধানের এহেন উদ্যোগে এবার একদিকে যেমন দীঘার চেহারা পাল্টে যাবে, ঠিক তেমনি সারা বছর ধরেই সমুদ্রসৈকতে ভিড় উপচে পড়বে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!