এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > দিদিকে বলো নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব দুই দাপুটে তৃণমূল নেতার! মাথার উপর শাস্তির খাড়া?

দিদিকে বলো নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব দুই দাপুটে তৃণমূল নেতার! মাথার উপর শাস্তির খাড়া?

Priyo Bandhu Media

সদ্য তৃণমূলের রাজ্য দপ্তরে জনসংযোগ কর্মসূচি হিসেবে “দিদিকে বলোর” দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা পর্ব শেষ হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, যে জায়গায় যে নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা সকলকে নিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু জনসংযোগ কর্মসূচিতেও যে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল বজায় থাকবে, তা তৃণমূলের ভাবনার মধ্যে কখনই আসেনি। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মানুষ যা ভাবে, তা বাস্তবের সব ক্ষেত্রে পূর্ণ হয় না। আর তাইতো দিদিকে বলোল মত তৃণমূলের মোক্ষম কর্মসূচীতেও অস্বস্তি বজায় রইল শাসকদলের।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দিদিকে বলো একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজগঞ্জ ব্লক তৃণমূলের কনভেনার মোশারফ হোসেন। তবে তিনি একা এই কর্মসূচিকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করলেও কেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে জানালেন না, তা নিয়েই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক।

জানা গেছে, পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক আকার নিয়েছে যে রাজগঞ্জ ব্লক তৃণমূলের কনভেনার মোশারফ হোসেনকে ইতিমধ্যেই তার বাড়িতে তলব করেছেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। বিধায়ক জানিয়েছেন, যদি মোশারফবাবু এই ব্যাপারে ঠিক জবাব না দিতে পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে তিনি কড়া ব্যবস্থা নেবেন। তবে ভাঙলেও মচকাবে না মোশারফ হোসেন। তিনিও পাল্টা এই ব্যাপারে বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছেন। যা নিয়ে রাজগঞ্জে “দিদিকে বলো” কর্মসূচিকে নিয়ে সারাদিন ধরে গোষ্ঠীকোন্দলই প্রত্যক্ষ করলেন সকলে।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, “আমি শুধু রাজগঞ্জের বিধায়ক নই, এই বিধানসভা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান। আমাকে না জানিয়ে মোশারফ সাহেব দলীয় কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন না। তিনি আলাদা করে সাংবাদিক সম্মেলন করায় জনমানসে দল সম্পর্কে বিরূপ বার্তা গিয়েছে। আগামীকাল এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ওনাকে আমার বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছি। তার জবাবে সন্তুষ্ট না হলে কড়া পদক্ষেপ নেব।” সত্যি তো তাই। কেন তিনি দলীয় বিধায়ককে না জানিয়ে এই কর্মসূচি করলেন! দলীয় বিধায়করা ডেকে নিলে কি খুব অসুবিধা ছিল!

এদিন এই প্রসঙ্গে রাজগঞ্জ ব্লক তৃণমূলের কনভেনার মোশারফ হোসেন বলেন, “কলকাতায় তৃণমূল ভবন থেকে দিদিকে বলো কর্মসূচি পালনের নির্দেশ আমাকে দেওয়া হয়েছে। ব্লকের সমস্ত নেতৃত্ব সহ জেলা সভাপতিকে সাংবাদিক সম্মেলন সম্পর্কে জানিয়েছি। বিধায়ককে জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার বিষয়ে দলীয় গাইডলাইনে কোনো নিয়ম নেই। তাতেও যদি কেউ গোষ্ঠী কোন্দল বাধাতে চায়, তাহলে দল এগোতে পারবে না।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে জনসংযোগের কর্মসূচি হিসেবে “দিদিকে বলো” কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে দলকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাইছেন, ঠিক তখনই সেই কর্মসূচি নিয়ে যেভাবে তৃণমূলের নেতারা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্ন যে দিনকে দিন ভেস্তে যাচ্ছে, তা একপ্রকার বলাই যায়। কিন্তু শীর্ষনেত্রী যখন দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তখন নিচুতলার নেতারা নিজেদের মধ্যে গন্ডগোল করে কেন সেই দলকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন! সেই প্রশ্নটাই এখন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরমহলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!