এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দিদিকে বল কর্মসূচির সাফল্য নিয়ে ধন্দে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা – জানুন বিস্তারিত

দিদিকে বল কর্মসূচির সাফল্য নিয়ে ধন্দে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা – জানুন বিস্তারিত

তৃণমূল দলকে দুর্নীতির আঁতুরঘর বলে বর্ণনা করেছে বিজেপি। একের পর এক অভিযোগে রীতিমত কোণঠাসা তৃণমূল। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত তার ওপর আছে গোষ্ঠীদ্বন্দ। যা কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছেনা, তৃণমূল সুপ্রিমোর সাবধানবাণীও সেক্ষেত্রে কোন ফল দিচ্ছেনা। ঘটনার প্রমাণ আরো একবার পাওয়া গেল উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়কের গলায়।

এদিন উত্তর পাড়ার তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে দল সম্পর্কিত নানান আভ্যন্তরীণ বিষয় আলোচনা করলেন। এদিন প্রবীর ঘোষাল সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, দিদিকে বল কর্মসূচি করতে গিয়ে প্রচুর দুর্নীতি পরায়ন নেতার নাম উঠে এসেছে অচিরেই যদি এসব তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে এই জনসংযোগ কর্মসূচি কতটা সুফল দেবে পরবর্তীতে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

উল্লেখ্য 2019 এর লোকসভা ভোটের পর থেকে তৃণমূল দল রাজনৈতিক ভাবে বেশ কোণঠাসা। সেই অবস্হা থেকে নিজেদের ভোটজমি শক্ত করতে ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরের দ্বারস্হ হন তৃণমূল নেত্রী। এরপরেই পিকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শুরু হয় ‘দিদিকে বলো’ জনসংযোগ কর্মসূচী।

এই পরিস্থিতিতে আরো একবার তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে এলো। মনে করা হচ্ছে, হুগলিতে লোকসভা ভোটের পর থেকে পরিস্থিতি বদল আনতে প্রবীর বাবুর বিরোধী শিবির তৃণমূলেরই দিলীপ যাদবের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গা থেকে প্রবীর বাবু যথেষ্ট ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। এদিন প্রবীরবাবু বলেন, “অনেকেরই মতামত, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তাঁদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নিক। শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিলে এই নেতারা অন্য দলে চলে যাবেন। তাতে আখেরে তৃণমূলের লাভ হবে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

সাথে তিনি এও বলেন, “দলে গোষ্ঠী কোন্দল আছে, এতে সন্দেহ নেই। দলনেত্রী কোন্দল বন্ধের চেষ্টা করছেন। কিন্তু হুগলিতে দলের কাজকর্ম যেভাবে চলছে তার সঙ্গে দলনেত্রীর নির্দেশের অনেক গরমিল। সেটা বাঞ্ছনীয় নয়। এখন কঠিন সময়। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু সেই কাজে গাফিলতি হচ্ছে।” যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে এদিন তিনি বক্তব্য রাখলেও দলের অন্দরে কিন্তু প্রবীর বাবুর বক্তব্য নিয়ে যথেষ্ট চর্চা শুরু হয়েছে।

তৃণমূল সূত্রের খবর অনুযায়ী 2015 সালের বিধায়ক হওয়ার পর থেকে জেলায় তৃণমূলের দলীয় সংগঠনে প্রবির বাবু যথেষ্ট গুরুত্ব পেতেন। কিন্তু লোকসভা ভোটের বিপর্যয়ের পর থেকেই এই দলীয় সংগঠনের কার্যভার দিলীপ যাদবের হাতে যায় অর্থাৎ তিনি সভাপতির দায়িত্ব পান। এবং এই ঘটনায় প্রবীর বাবু যথেষ্ট অসন্তুষ্ট হন। সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেন যে, তিনি বিধায়ক, অথচ তাঁকে না জানিয়ে নানান রকম সিদ্ধান্ত দলে নেওয়া হচ্ছে বলে।

এই ঘটনায় তৃণমূলের অপরপক্ষ দিলীপ যাদব জানান, “উনি বিধায়ক। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে জেলা সভাপতি, পর্যবেক্ষক, দলনেত্রী সবাইকে জানাতে পারেন। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে কতটা বলা যায় সেটা বোঝা উচিত”

এই ঘটনায় বিজেপি শিবির থেকে তীব্র কটাক্ষ ভেসে এসেছে প্রবীর বাবুর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল বসুর তীব্র কটাক্ষ মিশ্রিত বক্তব্য হলো, “ওদের দলে দুর্নীতিপরায়ণ বাছতে বসলে তো ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। তখন দল করারই তো কেউ থাকবে না!”

এই ঘটনায় তৃণমূল দলের ভিতরে চরম অস্বস্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। দুর্নীতির সাথে সাথে আরো একবার যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এলো, তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্ব কি ব্যবস্থা নেন সেই দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

এই ঘটনায় বিজেপি শিবির অবশ্য স্বাস্থ্য ভবনের দুর্নীতির কথাই বলেছে বারবার। তবে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে উচ্চ শিক্ষিত বা কম শিক্ষিত এই মাপকাঠি চোখে পড়ছে না। কারণ প্রতিটি ছেলেমেয়েই বেকারত্বের জ্বালায় জর্জরিত। এবং প্রত্যেকেই চাইছে যে কোন অবস্থাতেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে। একথা অস্বীকার করার কোন উপায়ই নেই বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!