এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > আগে নিজেদের সমস্যা মেটান, তারপর আমাদের মেটাবেন! দিদিকে বলোর প্রচারে গিয়ে ক্ষোভের মুখে নেতারা

আগে নিজেদের সমস্যা মেটান, তারপর আমাদের মেটাবেন! দিদিকে বলোর প্রচারে গিয়ে ক্ষোভের মুখে নেতারা

লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলকে জনসংযোগে পাঠাতে প্রশান্ত কিশোরের পরিকল্পনা মাফিক “দিদিকে বলো” প্রকল্প চালু করেছিল তৃণমূল। যে প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে কিছু কিছু নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনার চেষ্টা করেছিল ঘাসফুল শিবির।

কিন্তু সাধারণ মানুষের অন্যান্য অভাব অভিযোগ অপেক্ষা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই যে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি বিপাকে ফেলেছে তা বালুরঘাটে “দিদিকে বলোর” কর্মসূচিতে স্পষ্ট হয়ে গেল। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বালুরঘাট শহরের 7 নম্বর ওয়ার্ডে দিদিকে বলোর কর্মসূচির প্রচারে যান দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা যুব তৃনমূলের সহ-সভাপতি উদয় বর্মন, বালুরঘাট টাউন তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি সজয় সাহা সহ অন্যান্যরা।

কিন্তু তৃণমূলের নেতাদের এই দিদিকে বলোর কর্মসূচির প্রচার করতে গিয়ে যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিজেদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে অভিযোগ শুনতে হবে, তা আঁচ করতে পারেননি কেউই।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

জানা যায়, এদিন হিলির বাসিন্দা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা যুব তৃনমূলের সহ-সভাপতি উদয় বর্মনের দায়িত্ব পড়ে বালুরঘাটের সাত নম্বর ওয়ার্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়ি গিয়ে তাদের অভাব অভিযোগ শোনা। সেই মত তিনি তালিকাভুক্ত এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর বাড়িতে গেলে উদয়বাবুর কাছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ করেন সেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী।

তিনি বলেন, “আগে আপনাদের দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটান। ওয়ার্ডের পুরনো নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয় না। নতুন নেতাদের পাশে পাওয়া যায় না।” এদিকে তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে উদয় বর্মনের সাথে থাকা তৃণমূলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা সেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীকে দ্রুত তা মিটিয়ে ফেলার আশ্বাস দেন।

পাশাপাশি এদিন উদয় বর্মন চৌরঙ্গী এলাকার একটি বাড়িতে পৌছতেই তাকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে ফের পড়তে হয়। সেখানেও বাসিন্দাদের দাবি, আগে আপনারা নিজেদের দলের সমস্যা মেটান। তারপরে আমাদের কাছে আসবেন। কিন্তু কেন এমনটা হল! তাহলে কি সত্যিই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃনমূল কংগ্রেস চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে! বিপ্লব মিত্রকে সরিয়ে অর্পিতা ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়ার পরও কি জেলাজুড়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিছুতেই মিটতে চাইছে না!

আর তাই সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে জাঁকিয়ে বসা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বীতশ্রদ্ধ হয়ে যাওয়া মানুষেরা দিদিকে বলোর প্রচারে আসা তৃণমূল নেতাদের কাছে এই ব্যাপারে সবার আগে নালিশ জানালেন! এদিন এই প্রসঙ্গে উদয় বর্মণ বলেন, “সমস্ত অভিযোগ শুনে নোট করেছি।

জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কোথায় কি সমস্যা আছে, তা সমাধানের চেষ্টা করব।” কিন্তু উদয়বাবু যাই বলুন না কেন,রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, তিনি নিজেও জানেন যে জেলায় গোষ্ঠীকোন্দল মেটানোর সত্যিই দুরহ ব্যাপার। তবে যেভাবে দিদিকে বলো প্রকল্প করে সাধারণ মানুষের অভাব, অভিযোগ শোনার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য কার্যত সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, তা এদিন বালুরঘাটে দিদিকে বলোর কর্মসূচিতেই সাধারন মানুষের অভিযোগে আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!