এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দিদিকে বলোতে কর্মীর বাড়িতে রাত্রিবাস ও দুর্গাপুজো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত তৃণমূলের

দিদিকে বলোতে কর্মীর বাড়িতে রাত্রিবাস ও দুর্গাপুজো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত তৃণমূলের

লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরই দলকে জনসংযোগে পাঠিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে প্রশান্ত কিশোরের পরিকল্পনামাফিক দলের সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের দলের তরফে ঠিক করে দেওয়া কর্মীর বাড়িতে গিয়ে রাত্রিবাস করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভাব, অভিযোগ শোনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। আর তৃণমূলের এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল “দিদিকে বলো”। তবে এবার সেই “দিদিকে বলো” কর্মসূচির মধ্যেই কিছুটা পরিবর্তন আনতে চাইছে শাসকদল।

জানা গেছে, তৃণমূলের এই জনসংযোগ কর্মসূচির তৃতীয় পর্বে বিধায়করা নিজের পছন্দ মতো কর্মীর বাড়িতে রাত্রিবাস করতে পারবেন। তবে বিধায়কদের এই অধিকার দেওয়া হলেও, সেই কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হচ্ছে! তার উপর ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোর (পিকে) এবং তাঁর ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক)-এর স্ট্র্যাটেজিক টিমের কড়া নজরদারি থাকবে বলে জানা গেছে।

সূত্রের খবর, সোমবার কালীঘাটের জয়হিন্দ ভবনে তৃণমূলের জেলা সভাপতি এবং ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত জেলাওয়াড়ি কো-অর্ডিনেটরদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোর। যেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।

তবে এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত দিদিকে বলো প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি ঠিক কি হবে, সেই ব্যাপারেই আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তুরাজনৈতিক রণকৌশল নির্ধারণে তৃণমূলের বিভিন্ন জেলা নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের ঠিক কী কী নিদান দিলেন প্রশান্ত কিশোর?

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, জনসংযোগের আগামী পর্বে বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে রাজ্য থেকে পাঁচজন করে ‘পর্যবেক্ষক’ পাঠানো হবে। এই পর্যবেক্ষকদের কাজ হবে বুথ স্তরের উপযুক্ত কর্মী বাছাই করে তাঁর সঙ্গে রাজ্যস্তরের ‘যোগসূত্র’ তৈরি করা।

এই যোগসূত্রের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকেই ব্যবহার করা হবে বলে খবর। তবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই জনসংযোগ কর্মসূচি শেষে চলতি বছরের শেষের দিকে অথবা জানুয়ারি মাসে গোটা রাজ্যের কয়েক লক্ষ বুথস্তর কর্মীকে নিয়ে কয়েক দফায় ‘রাজনৈতিক কর্মশালা’র আয়োজন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে কর্মশালায় প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জানা গেছে, এদিন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার সময় প্রশান্ত কিশোর বলেন, “দিদিকে বলো কর্মসূচিতে আপনাদের অংশগ্রহণ মানুষকে উৎসাহ জুগিয়েছে। মানুষ তাঁর সমস্যার কথা জানিয়েছেন এবং তা অনেকাংশে মেটায় খুশিও হয়েছেন। তবে কয়েকটি জায়গায় বিধায়করা গিয়ে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের সম্মুখীনও হয়েছেন। জনসংযোগে ঘাটতি হওয়াতেই কোথাও কোথাও মানুষের ক্ষোভ বেড়েছিল। জানবেন, ক্ষোভ জানাতে পারায় মানুষও খুশি হয়েছে। গেলে বিক্ষোভ হতে পারে, এই আশঙ্কায় কেউ কোনও এলাকা এড়িয়ে যাবেন না। বরং যান, মানুষের মুখোমুখি হোন, তাঁদের কথা শুনুন, যতটা সম্ভব তা মেটাতে চেষ্টা করুন।”

এদিকে তৃনমূলের জয়হিন্দ ভবনের বৈঠক শেষে কালীঘাটে নিজের বাড়িতে এক বৈঠকে বাড়ির বৈঠকে আসন্ন পুজো নিয়ে দলের তরফে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেন তৃণমূল নেত্রী। যেখানে পুজোর সময় জনসংযোগে বিশেষ জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তৃণমূলের অনেক জনপ্রতিনিধি আছেন, যারা এতদিন পুজোর ছুটিতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যেতেন, কিন্তু নেত্রীর নির্দেশ মত এবার আর সেটি করা হবে না।

শুধুমাত্র বড় পুজোয় নয়, নিজের নিজের এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের গ্রামের ছোট পুজোতেও সমানভাবে অংশ নিতে হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে পূজোর মধ্যে যাতে রাজনীতিকে নিয়ে আসা না হয়, তার জন্যও দলের সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তৈরি করা যেতে পারে ‘স্বাগত তোরণ’ তৈরি হলেও দলের প্রতীক এবং ব্যানার যাতে না থাকে, সেই ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে জনসংযোগকে আরও আধুনিক করে তোলা, আর অন্যদিকে সামনে পূজোর মধ্যে সেই জনসংযোগকেই হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মানবিক ভাবে মিশে যাওয়ার মধ্য দিয়েই নিজের দলকে বিধানসভার আগে শক্তভাবে দাঁড় করাতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা সফলতা অর্জন করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!