এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ছাড় নেই জনধন যোজনা অ্যাকাউন্টেও! সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর করা প্রশ্নে উঠে এল একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য!

ছাড় নেই জনধন যোজনা অ্যাকাউন্টেও! সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর করা প্রশ্নে উঠে এল একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য!

অ্যাকাউন্টে নূন্যতম ব্যালেন্স না রাখা ও এটিএমের বাড়তি লেনদেন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলির আয় প্রায় ১০ হাজার কোটি। গত সাড়ে তিন বছরে গ্রাহকদের জরিমানা ও বাড়তি সার্ভিস চার্জ বাবদ এই আয় হয়েছে। লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শিবপ্রতাপ শুক্লা এমনই তথ্য দিয়েছেন। জরিমানা আদায়ে অন্য সব ব্যাঙ্ককে পেছনে ফেলে দিয়েছে এসবিআই।

একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তরে জানা গেছে, ২০১২ সাল পর্যন্ত এসবিআইতে নূন্যতম ব্যালেন্সের নিয়ম চালু ছিল। যদিও পরে ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। যদিও ততদিনে সব ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষই চার্জ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, বিষয়টিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কই অনুমোদন দিয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে পুনরায় তা চালু করে এসবিআইও।

প্রসঙ্গত, অ্যাকাউন্টে নূন্যতম ব্যালান্স না রাখলে, জরিমানা নেওয়ার নিয়মটা বেসরকারি ব্যাঙ্কে বরাবরই আছে। সরকারি ব্যাঙ্কে এ ব্যাপারে অনেক ছাড় ছিল। জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টের সুবিধা থাকায় এবং বিশ্বাসের ব্যাপারটা যেখানে জড়িয়ে, সেখানে সাধারণ মানুষ সরকারি ব্যাঙ্কের ওপরই ভরসা রাখছিলেন – কিন্তু, বর্তমানে সেসব আর নেই।গত এক বছরে এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। কারণটা, এতদিনের অভ্যেস – দারিদ্রতা, আমাদের দেশে সবসময়ই একটা বড় সমস্যা। জিরো ব্যালান্স অ্যাকাউন্টের সুবিধা থাকায় বেশিরভাগ মানুষই পুরো টাকাটা উঠিয়ে নিতেন প্রয়োজন হলে।

আবার অনেকের ভাঁড়ার শূন্য হয়ে পড়ে স্থায়ী আয় না থাকায়। কারণ, দারিদ্র সীমার নিচে বা কাছাকাছি যাঁরা জীবনযাপন করেন, তাঁদের পক্ষে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রাখা আবার তাতে নূন্যতম ব্যালেন্স রাখা ব্যাপারটা খুব কষ্টকর। আর সবথেকে অবাক করা তথ্য, সেই তাঁদের কাছ থেকেই নূন্যতম ব্যালেন্স না রাখার কারণে জরিমানা বাবদ দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলি বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছে। ২০১৭-১৮ সালের প্রদেয় হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলি জরিমানা বাবদ গ্রাহকদের থেকে দশ হাজার কোটি টাকা আদায় করেছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

নামমাত্র জরিমানা নেওয়া হচ্ছে – যতই বলা হোক, সওয়াশো কোটিরও বেশি মানুষের দেশে অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা কিন্ত কম নয়। এই কারণেই অঙ্কটা হাজার কোটির ঘর ছাড়িয়েছে। সামনে এসেছে আরও অবাক করা তথ্য, যাঁদের থেকে নূন্যতম ব্যালেন্স না রাখার কারণে জরিমানা বাবদ অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৩০.৮ কোটি অ্যাকাউন্ট আবার জনধন যোজনা প্রকল্পে খোলা! ওই অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বিনা খরচে সবাইকে অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিল সরকার। সেই তাঁদের কাছ থেকেই জরিমানা বাবদ আদায় করা হয়েছে এই অর্থ!

জরিমানা বাবদ আদায় হওয়া ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ২,৮৯৪ কোটি টাকা গিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ঘরে। জিরো ব্যালেন্স থেকে শুরু করে সব ধরণের অ্যাকাউন্টের জন্য একটা নূন্যতম ব্যালেন্স বেঁধে দেয় এসবিআই (তিনটি ধরণের অঞ্চলের জন্য পৃথক পৃথক)। গত অর্থবর্ষে চালু হওয়া এই নিয়ম দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়। যাঁদের আয়ই নেই, তাঁরা কি করে নূন্যতম ব্যালেন্স রাখবেন। কিন্তু, সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে এসবিআই।

আর তার থেকেই ২,৮৯৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে এসবিআই’য়ের। বাকি অর্থের মধ্যে তিরিশ শতাংশ গিয়েছে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক এবং পিএনবি’র ঘরে।২০১৭-১৮ অর্থ বর্ষের মধ্যে ২০১৮ সালেই অধিকাংশ টাকা আদায় করেছে এসবিআই। তবে, কতগুলি অ্যাকাউন্টের থেকে এই টাকা জরিমানা বাবদ কাটা হয়েছে সেটা স্পষ্ট করেনি তারা। এখানে উল্লেখ্য, গত অর্থবর্ষে স্টেট ব্যাঙ্কের আর্থিক লোকসানের পরিমাণ ৬,৫৪৭ কোটি টাকা। এবার সেই লোকসানের এক-তৃতীয়াংশ টাকা জরিমানা থেকেই উঠে এসেছে সাধারণের ভাঁড়ারে হাত দিয়ে।

এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই অন্যান্য ব্যাংকগুলিও। জরিমানাবাবদ পিএনবি আদায় করেছে ৪৯৩ কোটি টাকা। কানাড়া ব্যাঙ্ক ৩৫২ কোটি এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ৩৪৮ কোটি টাকা। অপর দিকে, এটিএম থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রেও জরিমানার পরিমাণে সবার আগে এসবিআই। ‌১,৫৫৪ কোটি টাকা জরিমানা হিসেবে আদায় করেছে বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কটি। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার এই ক্ষেত্রে জরিমানা বাবদ আয় হয়েছে ৪৬৪ কোটি টাকা, পিএনবি-‌র ৩২৩ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের ২৪১ কোটি টাকা এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদার ১৮৩ কোটি টাকা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!