এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের আন্দোলনের জেরে ‘চাবকে চামড়া তুলে নিতে চাওয়া’ ডিআই বদলি

শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের আন্দোলনের জেরে ‘চাবকে চামড়া তুলে নিতে চাওয়া’ ডিআই বদলি

রাজ্যের প্রতিটা কোনায় শিক্ষক ও শিক্ষার স্বাধিকার রক্ষায় ক্রমশই যেন ‘মসীহা’ হয়ে উঠছে প্রতিবাদী শিক্ষক মইদুল ইসলামের নেতৃত্ত্বাধীন শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভীতির সামনে না ঝুঁকে লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে এবার শিক্ষকদের ‘চাবকে চামড়া তুলে নিতে চাওয়া’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক নজরুল হক সিপাহীকে ‘শাস্তিমুলক বদলি’ করতে শিক্ষা দপ্তরকে একপ্রকার বাধ্যই করলেন মইদুলবাবুরা। সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিআই নজরুল হক সিপাহী (সেকেন্ডারী ও প্রাইমারীর দায়িত্বে ছিলেন) বদলি হলেন এডিএসি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নতুন ডিআই হলেন নদীয়ার বর্তমান ডিআই অনিন্দ্য কুমার চট্টোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ শে আগস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার চঞ্চলাময়ী আদর্শ হাইস্কুলে টিচার-ইন-চার্জ তথা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আশীষ ভট্টাচার্য্য, বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে স্কুলে ব্যাপক হামলা চালান বলে অভিযোগ। কেননা, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে গত ৩ বছর ধরে তিনি কোনো অডিট করেননি, স্কুলে কোনো শৌচাগার নেই এবং ৬০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন খাতে ঋণ দেখিয়েছিলেন। ওই স্কুলে মোট ১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ১১ জন শিক্ষকই এই নিয়ে এসআই থেকে ডিআই সকলের কাছেই লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু অভিযোগ, ওনার বিরুদ্ধে এইভাবে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা পড়ায় উনি পরিকল্পিতভাবে স্কুলে হামলা চালান।

স্কুলে সেই দুষ্কৃতী হামলায় গ্রূপ-ডি কর্মী পঞ্চানন খাটুয়া গুরুতর জখম হন। তাঁকে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে এসএসকেএমে রেফার পর্যন্ত করতে হয়। এছাড়াও আরো দুজন শিক্ষক – বিপ্লব আঢ্য এবং দিব্যজ্যোতি সমাজপতিও বেশ ভালো রকমের জখম হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের নেতৃত্ত্বে গত ২৬ শে আগস্ট আক্রান্ত শিক্ষকরা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বা ডিআই নজরুল হক সিপাহীর সঙ্গে দেখা করেন। আক্রান্ত শিক্ষকরা তাঁর কাছে – দোষীদের শাস্তি, স্কুলে পঠন-পাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং ওই স্কুলের টিচার-ইন-চার্জের পদত্যাগের দাবি জানান।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এর পাশাপাশি ওই আক্রান্ত শিক্ষকরা ঐদিনই বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের সাথে দেখা করেন। সমগ্র ঘটনা জেনে সুজনবাবু এই বিষয়ে লিখিতভাবে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জানান, অন্যদিকে মান্নান সাহেব তা লিখিতভাবে জানান স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপর গত রবিবার শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় একটি প্রতিবাদ সভা হয়, সেখানে অম্বিকেশ মহাপাত্র, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান হরপ্রসাদ সমাদ্দার, মইদুল ইসলাম সহ একাধিক শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন।

আর এই সভার পরেই গত ১০ ই সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টা নাগাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিআই নজরুল হক সিপাহী ওই স্কুলে যান। অভিযোগ ওঠে সেখানেই তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের নামে কার্যত হুমকি দেন। বৈঠক শুরু হতেই সিপিএম-এর নাম করে তিনি তুমুল গালাগালি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি আক্রান্ত শিক্ষকরা কেন সুজনবাবু বা মান্নান সাহেবের দ্বারস্থ হয়েছেন তা নিয়েও চলে প্রবল ধমকানি। আর সেখানেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে সেই বৈঠকের ভিডিও, অডিও বা ছবি বাইরে গেলে – তিনি নাকি চাবকে চামড়া তুলে নেবেন! স্বাভাবিকভাবেই, এই ঘটনার অডিও ক্লিপ এবং যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এত কিছু – সেই শিক্ষকদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। আর তা প্রকাশ্যে আসতেই, প্রতিবাদের ঝড় ওঠে শিক্ষাবিদ থেকে সাধারণ মানুষ সবার মধ্যেই।

স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় নেতা ও স্বয়ং ডিআই এই ঘটনায় জড়িত থাকায় প্রবল চাপ আসতে থাকে এই নিয়ে লাগাতার আন্দোলন করে চলা শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের উপর। কিন্তু, শাশ্বত ঘোষ, জয়ন্ত মুখার্জি, রতন দে, বিশ্বজিৎ সর্দার, সুজিত দাসদের মত একঝাঁক তরুণ তুর্কিকে নিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার করেন প্রতিবাদী শিক্ষক তথা শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের শীর্ষনেতা মইদুল ইসলাম। আর আজ অবশেষে, তাঁদের দীর্ঘ আন্দোলনের শেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিআই নজরুল হক সিপাহীর ‘শাস্তিমুলক বদলির’ খবর প্রকাশ্যে আসতেই খুশির হাওয়া সংগঠনের মধ্যে।

এই প্রসঙ্গে, মইদুলবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের লক্ষ্যই হল রাজ্যজুড়ে শিক্ষকদের ও শিক্ষার স্বাধিকার রক্ষা করা। তার জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলনই হোক আইনি লড়াই – সবকিছু করতে প্রস্তুত আমরা। শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ সম্পূর্ণ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন – কিন্তু কোন অবস্থাতেই নিজেদের লক্ষ্যে, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপের কাছে পিছু হঠতে রাজি নয়। এর আগে, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার অধিকার রক্ষার্থে ডিও, বিএলও ডিউটি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আমরা আইনি লড়াইয়ে শিক্ষকদের স্বার্থে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়ে আসি। আর এবার – দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিআইয়ের এই বদলির মাধ্যমে নীতির লড়াইয়ে জয়ী হয়ে আমরা খুশি। আগামী দিনেও রাজ্যের যে প্রান্তেই শিক্ষকদের ও শিক্ষার অঙ্গীকার রক্ষার্থে একইভাবে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ একইভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ত্ব দেবে।

Top
error: Content is protected !!