এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ডেঙ্গুতে মৃত্যু হলেও লিখতে নারাজ চিকিৎসক! তুলকালাম শ্রীরামপুরে

ডেঙ্গুতে মৃত্যু হলেও লিখতে নারাজ চিকিৎসক! তুলকালাম শ্রীরামপুরে

রাজ্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করতে দেখা যাচ্ছে বিরোধীদের। তবে বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগের মাঝে প্রকট হয়ে উঠছে ডেঙ্গু সমস্যা। এর আগে বর্ষার সময় রাজ্যে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত দেখা দিলে এবং অনেক মানুষের মৃত্যু হলে অনেক জায়গায় বিরোধীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রোগীরা ডেঙ্গুতে রোগী মারা যাচ্ছে না, একথা প্রমাণ করবার জন্য ডেথ সার্টিফিকেটে কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শব্দটি উল্লেখ করা হচ্ছে না।

তবে বিরোধীদের একাংশের তোলা সেই অভিযোগকে সেই সময় অতটা গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। কিন্তু এবার শ্রীরামপুরের ঘটনায় বিরোধীদের তোলা সেই অভিযোগ যেন সীলমোহর পেতে শুরু করল। অভিযোগ, শ্রীরামপুরে শ্রীকৃষ্ণসরের বাসিন্দা নওলেশ কুমারের মৃত্যু হলেও চিকিৎসকরা সেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু কথাটি উল্লেখ করেননি।

যার জেরে এদিন হাসপাতালে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায় মৃতের আত্মীয়দের। জানা যায়, শ্রীরামপুরের বাসিন্দা বছর 21 এর নওলেশ কুমারকে সোমবার রাতে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হলে সেখানে থেকে তাকে স্থানান্তরিত করে দেওয়া হয় ওয়ালশ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে সেই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে তার পরিবারের তরফে প্রবল বিক্ষোভ দেখানো হয়। পাশাপাশি মৃতের শংসাপত্রের “ডেঙ্গুর জন্য মৃত্যু হল” একথা কেন লিখলেন না চিকিৎসকরা! তার নিয়েও মৃতের পরিবারের তরফে চেপে ধরা হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

এদিকে মৃত রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখানোয় পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে যাওয়ায় সেই বিক্ষোভ সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন শ্রীরামপুর পৌরসভার কাউন্সিলর চন্দ্রমণি সিং এবং সন্তোষকুমার সিং। পরে অবশ্য সেই বিক্ষোভ উঠে যায়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ ঠিক কি!

এদিন এই প্রসঙ্গে মৃতের আত্মীয় মুকেশ সিং বলেন, “সোমবার আমরা নওলেশকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। নার্সিংহোমে ডেঙ্গু ধরা পড়ার পরেই সরকারি হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু এখানে কোনো চিকিৎসা করানো হয়নি। এমনকি ডেঙ্গুতে মৃত্যু লিখতে চায়নি। এসবেই শোকার্ত পরিবারে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সত্যিই কি তাহলে মৃতের পরিবারের তরফে তোলা এই অভিযোগ যুক্তিযুক্ত! কেন ডেঙ্গু ধরা পড়লেও তা স্বীকার করে নিতে অপারগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ! এদিন এই প্রসঙ্গে সেই ওয়ালশ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সুপার কমলকিশোর সিংহ বলেন, “এই রোগির অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিসে মৃত্যু হয়েছে। সেটিই মৃত্যুর কারণ বলে লেখা হয়েছে। অন্য কিছু আমরা লিখতে পারি না। বিষয়টি রোগীর আত্মীয়দের বুঝিয়ে বলা হলেও তারা মানতে চাননি। আর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

একইভাবে ডেঙ্গুতে কোনো রোগী আক্রান্ত হলে তা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই বলে জানান হুগলি জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের পদস্থ কর্তা থেকে আধিকারিক এবং সুপাররা যে কথাই বলুন না কেন, যেভাবে মৃত রোগীর পরিবার মৃতের শংসাপত্রের মৃত ব্যক্তির ডেঙ্গু হয়ে মৃত্যু হওয়ার কারণেও ডেঙ্গু শব্দটি প্রয়োগ করা হল না এই অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাতে মৃতের পরিবারের তরফে তোলা এই অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যে আরও অনেক হাসপাতালেই এরকম প্রবণতা দেখা যেতে পারে, সেই ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!